![]() |
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ হজ্জ ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় বিমানের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করলেন হাবের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। হজ্জ ফ্লাইট সিডিউল তৈরির আগে হজ্জ এজেন্সি’র মালিকদের সাথে কোনো প্রকার মতামত না নিয়েই একতরফাভাবে ফ্লাইট সিডিউল ঘোষণা করায় এখন একের পর এক হজ্জ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। বিমানের হজ্জ ফ্লাইট বাতিলের জন্য বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই মূল সমস্য তৈরি করছে। হজ্জ ফ্লাইট বাতিলের সকল দায়-দায়িত্ব বিমান কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
হজ্জযাত্রী পরিবহনের পৃথিবীর কোনো দেশ সাধারণ ভাড়ার চাইতে চার গুণ বেশি ভাড়া নেয় না। কিন্ত বিমান কর্তৃপক্ষ অন্য সময়ের চাইতে হজ্জযাত্রীদের ভাড়া চারগুন বেশি নিচ্ছে (১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা)। হাবের মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম এমন দাবীই করেছেন।
বিমান মনোপলী ব্যবসা করার লক্ষ্যে হজ্জযাত্রী পরিবহনে থার্ড ক্যারিয়ার অনুমোদন দেয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয় বিমানকে মক্কা-মদিনায় হজ্জযাত্রীদের বাড়ী ভাড়া করার আগে গত ৮ মে থেকে ২০ মে-এর মধ্যে হজ্জ টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্ত বিমান কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালির দরুণ বাড়ী ভাড়ার আগে ২০ মে-এর মধ্যে হজ্জ টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রী সভার সিদ্ধান্তের বাইরে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের পরিবর্তে ৫২ দিনের প্যাকেজ দিয়ে হজ্জ টিকিট বিক্রি করায় এবং বিলম্বে ১৫% হজ্জযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট অনুমোদন দেয়ায় বিমানের হজ্জ ফ্লাইট দফায় দফায় বাতিল করতে হচ্ছে। এতে হজ্জযাত্রী পরিবহনের ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বিমান কর্তৃপক্ষ এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। যাত্রী সঙ্কটের দরুন এযাবত বিমানের ১০ টি হজ্জ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। আজ ৪ আগষ্ট থেকে আগামী ৭ আগষ্ট পর্যন্ত বিমানের আরো ৬ টি হজ্জ ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ এতথ্য জানিয়েছে।
শাকিল মেরাজ বলেন, হজ্জ এজেন্সিগুলোর অবহেলার দরুন হজ্জ ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। হজ্জ এজেন্সিগুদলোকে দ্রুত হজ্জ টিকিট ক্রয়ের জন্য বার বার তাগিদ দেয়ার পরেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাস কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার হজ্জযাত্রীর ভিসা সরবরাহ করেছে। আগামী ৭ আগষ্টের পর দূতাবাস আরো কোনো হজ্জ ভিসা ইস্যু করবে না। পরিচালক হজ্জ আগামীকাল ৫ আগষ্টের পর আর কোনো যাত্রীর পাসপোর্ট জমা নিবে না। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় ৮৩ হাজার হজ্জযাত্রী সউদী আরবে গিয়েছেন।
গত বছর হজ্জ মৌসুমে যথা সময়ে যাত্রী’র অভাবে বিমানের ২৪ টি হজ্জ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। এ জন্য জেদ্দা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ তৎকালিন সঙ্কট নিরসনের জন্য বেশ কিছু অতিরিক্ত প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্ত জেদ্দা সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এবার সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে হজ্জযাত্রী পরিবহনে বিমানকে আর কোনো অতিরিক্ত প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে না। হাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিমানের ভ্রান্ত নীতি’র দরুন হজ্জ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সাউদিয়ার কোনো হজ্জ ফ্লাইট বাতিল করতে হয় না। বিমানের দূরদর্শিতার অভাবে হজ্জ এজেন্সিগুলোর কোনো মতামত না নিয়েই হজ্জ ফ্লাইট সিডিউল তৈরি করা হয়। এতে হজ্জ ফ্লাইটের সিডিউলের তৃতীয় পর্বের প্যাকেজে মদিনার বাড়ী ভাড়ার সাথে মিল রাখার জন্য টিকিটের কম চাহিদা থাকে। এ সময়ে হজ্জ ফ্লাইট সিডিল সমীত না রাখায় দফায় দফায় ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। হাবের সাবেক মহাসচিব এম এ রশিদ শাহ সম্রাট রাতে ইনকিলাবকে বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ ৫২ দিনের হজ্জ প্যাকেজের টিকিট বিক্রি করায় বিমানের প্রতি যাত্রীদের অনীহা দিন দিন বাড়ছে। সাউদিয়ার হজ্জ ফ্লাইটে শর্ট প্যাকেজের টিকিট বিক্রি করায় তাদের কোনো ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিলম্বে হজ্জযাত্রী ১৫% রিপ্লেসমেন্ট দেয়া এবং হাই কোটের রায়কে উপেক্ষা করে থার্ড ক্যারিয়ার চালু না করায় বিমানের হজ্জ ফ্লাইট বাতিলের পথকে সুগম করছে। এক প্রশ্নের জবাবে এম এ রশিদ শাহ সম্রাট বলেন, বিমান সারা বছর কোটি কোটি টাকা লস দেয়। আর হজের সময়ে হজ্জযাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা হারে ভাড়া নির্ধারণ করায় সাউদিয়া কর্তৃপক্ষও শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, থার্ড ক্যারিয়ারকে সুযোগ না দেয়ায় হজ্জ শেষে প্রায় ১০ হাজার হাজী বিমানের ৫০/৫২ দিনের প্যাকেজের ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট ফেলে দিয়ে অন্যান্য দেশের থার্ড ক্যারিয়ারের নতুন টিকিট কিনে দেশে চলে আসে। এতে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে।
খবর বিভাগঃ
জাতীয়
ধর্ম ও জীবন

0 facebook: