Showing posts with label মতামত. Show all posts
Showing posts with label মতামত. Show all posts

03 December 2019

সাদা চামড়ার খ্রিষ্টান ফাদার ডাক্তার-রা সেবার মোড়কে ধর্মান্তরের প্রোজেক্টে আছে

সাদা চামড়ার খ্রিষ্টান ফাদার ডাক্তার-রা সেবার মোড়কে ধর্মান্তরের প্রোজেক্টে আছে


এএল‌এম ফজলুর রহমান।। মধুপুর জঙ্গলের অভ্যন্তরে একটি আমেরিকান মিশনে গিয়েছিলাম ১৯৮৯/৯০ সালে। ওখানে তখন মানুষের বাচ্চা কিনতে পাওয়া যেতো। মূল্য ছিল ৪০০ টাকা। আমাদের কোনো ছেলে সন্তান নাই। তাই আমার স্ত্রী আগ্ৰহী ছিলেন একটি ছেলে বাচ্চা যদি পাওয়া যায়।

প্রথমবার ফাদার আমাদের বেশ কিছু গাছের চারা দিয়ে বিদায় করলেন। ওখানে তখন দেখলাম এভোকাডো ফলবতী গাছ। ফাদার বললেন, গাছ দুটোর ফল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল কিনে নিয়েছে ৪০,০০০ টাকায়। দেখলাম ৪০ প্রকারের আমের চারাগাছ। এর মধ্যে আমেরিকান আমও আছে। কোকো ফলের গাছ আমাকে দিয়েছিলেন বেশ কয়েকটা।

আমরা ফিরে এসেছিলাম চারাগাছ নিয়ে। তখন আমার পোস্টিং ছিল ঘাটাইল সেনানিবাসে। পরে আবার আমরা গিয়েছিলাম মধুপুর জঙ্গলের আমেরিকান মিশনে। ফাদারকে মনে করিয়ে দিলাম ছেলে বাচ্চার কথা। এবারে ফাদার আমাদের হতাশ করে বললেন ছেলে বাচ্চা পাওয়া যাবে না। তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলছিল তিনি আর্মির কাছে বাচ্চা বিক্রি করবেন না।

এখন এতো বর্ষ পরে খোঁজ নিয়ে দেখেন, মধুপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের কয়জন নিজ ধর্মে আছে? এরা এখন আমেরিকান ফাদার ও চার্চের সেবার ঠেলায় প্রায় সবাই খৃষ্ট ধর্ম গ্ৰহন করেছে।

আমি অধম এই সব সাদা চামড়ার সেবাঅন্ত প্রাণ ফাদার, ডাক্তার আর চার্চের প্রশংসা কি করে করি বলেন? যারা আমাদের দেশের সহজ সরল মানুষদের ভুল বুঝিয়ে ধর্ম হারা করছে! সমানে খৃষ্টান বানাচ্ছে।

দোষ আমাদের‌ই। ইহুদী, খৃষ্টানদের বুদ্ধিতে আজ আমাদের তবলীগ জামাত মুসলমানদের ইসলামে কনভার্ট করছে। এরা এখন আর অমুসলিমদের কাছে ইসলাম প্রচারের জন্য যায় না। এরা যাচ্ছে মুসলমানদের কাছে ইসলাম প্রচার করতে। হারাম হালাল, ফরজ, ওয়াজিব আর নফল শিক্ষা দিতে। তবলীগীদের যুক্তি মুসলমানদের সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নাই। কোয়ালিটি মুসলমান বানাতে হবে। আর এই সুযোগে ফাঁকা মাঠে তাই খৃষ্টানরা গোল দিচ্ছে। খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরল মানুষদের।

লেখকঃ প্রাক্তন মহাপরিচালক, বিডিআর।

01 December 2019

ইত্যাদিতে প্রচারকৃত খ্রিষ্টান মিশনারি হসপিটাল নিয়ে ভ্রান্ত প্রতিবেদনের ব্যবচ্ছেদ

ইত্যাদিতে প্রচারকৃত খ্রিষ্টান মিশনারি হসপিটাল নিয়ে ভ্রান্ত প্রতিবেদনের ব্যবচ্ছেদ


ডা. মু. রিয়াদ ভূঁঞা রাজীব।। বাঙালি ফাও পেলে আর সেটা নিয়ে ভাবে না। কিন্তু মাগনা গরুর দাত নাই বলে একটা কথা আছে। এটা এটা যে ফাও সেবা না, মিশনারিদের একটা উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটা হলো খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তর! যেটা খুব সুন্দরভাবে হানিফ সংকেত এড়িয়ে গেছেন। আপনাকে আমাকে সেটা বুঝতে হবে।

২০১৬ সালের মে মাসে আমি কাইলাকুড়ি গিয়েছিলাম। খুব সুন্দর পরিবেশ। বাংলাদেশে মাটির ঘরের এরকম হাসপাতাল আর আছে কিনা সন্দেহ আছে। সেখানে যারা কাজ করে মোটামুটি তাদের সবার সাথেই আমার দেখা হয়। মূলত ডায়াবেটিস সহ আরো কিছু অন্য রোগের অল্পসংখ্যক রোগীদের সেখানে রেখে ট্রিটমেন্ট করানোর ব্যবস্থা আছে। আগেই বলে রাখি ইত্যাদি বা অন্য মিডিয়ার মাধ্যমে ঐ হাসপাতালের নাম আমি জানিনি। কৌতুহল বা জানার আগ্রহ নিয়ে ওখানে আমি যাইনি, গিয়েছিলাম ১১ বছর বয়সী ডায়াবেটিসের রোগী নিয়ে। ওখানে মূলত গরীব রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। খ্রিষ্টান মিশনারীর মাধ্যমে হাসপাতালটি পরিচালিত হয় এবং সেবার মাধ্যমে স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার লক্ষণীয়। এছাড়াও ইসলাম ধর্মীয় লোক টার্গেটে আছেন।

সপ্তাহে একবার গণস্বাস্থ্য মেডিকেলের দুজন ডাক্তার সেখানে আসে। বাকী বা পুরো সময়টা মেডিক্যাল এসিস্টেন্ট দিয়ে সব কাজ চালানো হয়। আজ দেখলাম এমেরিকান ডাক্তার দম্পতি হাসপাতাল চালাচ্ছেন।

২০১৩ সালে ইত্যাদির প্রচারেরও আগে ডা. মোস্তাফিজ নামের একটা ভদ্রলোক প্রথম আলোর মাধ্যমে জানতে পেরে আগ্রহী হয়ে ডা. এড্রিক বেকারের সাথে ঢাকায় দেখা করেন। তিনি তখনো ডিপ্লোমা প্যারা মেডিকসরা দ্বারা ঐ হাসপাতাল চালাচ্ছিলেন, কিন্তু এড্রিক সাহেব কোন গ্রাজুয়েট ডাক্তার কে দায়িত্ব দিতে চান নাই। কারণ মাথায় নিউরন ওয়ালা কোন মুসলিম ডাক্তার দায়িত্ব পেলে উনার মিশনের ১২ টা বেজে যেত।

আরেক ডা. মো. শাহ আলম। যিনি সৌদি আরবের মদিনা হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ছিলেন। ভালোবেসে দেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিলাসী জীবন ছেড়ে ফিরে আসেন জন্মভূমি বাংলাদেশে। চট্টগ্রামের কুমিরাতে নিজ এলাকায় চালু করেন বেবী কেয়ার নামে স্বল্প খরচের একটি হাসপাতাল। নিজ এলাকায় হাসপাতাল খুললেও প্রতিদিন নগরীর চান্দগাঁও বাসা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে এ হাসপাতালের দেখভাল করতেন। কিছুদিন আগে এই ভদ্রলোক খুন হন। তখন কেউ লজ্জায় ভাসে নি।

আরেকজন ডাক্তার অধ্যাপক মনসুর খলীল। জীবনের পুরো সময়টা মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ও দরিদ্র মানুষের পেছনে দিয়ে গেলেন। সরকারি চাকুরী করতেন। মারা যাওয়ার পর ব্যাংকে পাওয়া গিয়েছিল মাত্র দু হাজার টাকা। এই খবর কোন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল বলেও আমি শুনিনি। তখনো কেউ লজ্জায় ভাসে নি।

কিন্তু তবু আজ বাংলাদেশের ডাক্তারদের কারনে ফেসবুকে পুরো দেশ লজ্জায় ভেসে যাচ্ছে। সাদা চামড়া বা অবাঙালি না হলে আমাদের আবেগটা ঠিক আসে না!

23 September 2019

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইজে সুকৌশলে নবীজির কার্টুনের ভিডিও ছড়ানো ও আমাদের নীরবতার ভবিষ্যত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইজে সুকৌশলে নবীজির কার্টুনের ভিডিও ছড়ানো ও আমাদের নীরবতার ভবিষ্যত


রাজিব খাজা।। ইসলামবিরোধীদের একটি পলিসি হচ্ছে, ইসলামকে নিয়ে কটুক্তি করার আগে তারা পরীক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। যদি তারা দেখে, মুসলমানরা সচেতন রয়েছে তাহলে তারা আর সাহস পায়না পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার। কিন্তু যদি দেখে মুসলিমরা অসচেতন তাহলে তারা একের পর এক কটুক্তি করতেই থাকে।

মূলত একটি কথা সর্বমহলে প্রচলিত যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেই দ্বীন ইসলামের অবমাননা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। কথাটি যে অমূলক নয় তার প্রমাণ পাওয়া গেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিরোনামের ফেইসবুক পেইজে হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে মানহানিকর কার্টুন প্রকাশ করার মাধ্যমে। মূলত সিংহভাগ মুসলমানদের এই দেশে আজকে যদি নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে মানহানিকর কার্টুন প্রকাশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অধিদপ্তর তথা দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি সুনিশ্চিত করা না হয় তবে এদেশের রাসুলপ্রেমিক মুসলিম জনতা রাজপথের নেমে এসে এদের বিচার করতে বাধ্য হবে।

সুতরাং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইটি ডিপার্টমেন্ট তারা তাদের ফেইসবুক পেইজ পরিচালনাকারী হিন্দু ও নাস্তিক (এডমিন প্যনেলের আইডি আমাদের নিকট আছে) ব্যক্তিদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত করুক। নচেৎ দেখা যাবে কোন নবী প্রেমিক তাদের খুজে বের করে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে হত্যা করে ফেলেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিরোনামের সেই ফেইসবুক পেইজে এই অবমাননাকর কার্টুন সরাসরি দেখানো হয়েছে। দেখুন এখানে। নিউজের জন্য ডিলিট করে দিলে আর্কাইভে প্রমান দেখুন এখানে (http://archive.is/AAWsh)

এবং বলা হয়েছে যে সেটা পর্ব এক। অর্থাৎ তারা আরো পর্ব প্রকাশ করে তারা স্মরণকালের নিকৃষ্ট অবমাননা করতে চাইছে।

কাজেই সরকার যদি এই অবমাননাকর কার্টুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, কার্টুন নির্মাতাদের ধরে ফাঁসি না দেয়, বিটিআরসির মাধ্যমে যদি ইউআরএল ব্লক না করে তবে উন্মত্ত জনরোষ সরকার পতনসহ আরো অনেক বড় দুর্বিপাক এর জন্ম দিবে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন কতটুকু শক্তিশালী তা মিসরের বর্তমানের সিসি বিরোধী আন্দোলন প্রত্যক্ষ করলেই বোঝা যায়, সেখানে সেই আন্দোলনের বিষয় যদি হয়ে থাকেন রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহলে তো কোন কথাই নাই।

01 September 2019

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে, বাঁচতে হলে মুসলমানদের এখন ঐক্য করতে হবেঃ নয়ন চ্যাটার্জি

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে, বাঁচতে হলে মুসলমানদের এখন ঐক্য করতে হবেঃ নয়ন চ্যাটার্জি

ছবিঃ শত্র বাঘ মেরে ফেলতেছে তবুও জাত ভাইয়ের সাথে লড়াইয়ে ব্যস্ত হরিন
মতামত ডেস্ক।। গতকালকের আমি বলেছিলাম, তুরস্ক-পাকিস্তান-মালয়েশিয়ার মধ্যে যে মুসলিম নেতৃত্বাধীন নতুন ‘নন এলাইয়েন মুভমেন্ট’ হচ্ছে, বাংলাদেশের উচিত সেখানে সংযোগ রাখা। এতে সম্রাজ্যবাদী ব্লকগুলোর খপ্পর থেকে কিছুটা হলেও বাংলাদেশ বাঁচতে পারবে। তবে আমার কথা শুনে কেউ কেউ বলেছেন- না আমাদের উচিত রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক রাখা, কেউ বলেছে চীনের সাথে সম্পর্ক রাখা, কেউ বা বলেছে আমেরিকার সাথে সম্পর্ক করা জরুরী।

তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের এ অঞ্চলের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। যেমন-

১) হায়দ্রাবাদ: যখন পাকিস্তান সৃষ্টি হয়, তখন কিছু কিছু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে অস্বীকার করে, তারা স্বতন্ত্রভাবে শাসিত থাকতে পছন্দ করেছিলো। ভারতও সেটা মেনে নেয়। এরকম একটি এলাকা ছিলো হায়দ্রাবাদ। হায়দ্রাবাদের শাসক বলেছিলো- তারা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হবে না, তারা পৃথক থাকবে। দেখা গেলো, মুসলিম নেতৃত্বধানী বৃহৎ রাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে যুক্ত না হওয়ার কারণে মাত্র ১ বছর পর ১৯৪৮ সালে হায়দ্রাবাদে গোপন গণহত্যা চালায় ভারত। ভারতের তখন ক্ষমতায় সেক্যুলার কংগ্রেস। সেক্যুলার নেহেরুর সে সময় বক্তব্য ছিলো- হিন্দু অধ্যুষিত ভারতের মাঝখানে কোন মুসলিম অঞ্চল থাকতে পারবে না। সে সময় হায়দ্রাবাদে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে গণহত্যা চালিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ মুসলমানকে হত্যা করা হয়, ২ লক্ষ নারীকে ধর্ষণ করা হয়। হায়দ্রাবাদ এলাকাটি মুসলমানদের খুব ঐতিহ্যবাহী এলাকা ছিলো, সকল ঐতিহ্য ধ্বংস করা হয়। সেই সময় হায়দ্রাবাদ যদি পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতো, তবে তাকে সেই গণহত্যার স্বীকার হয়ত হতে হতো না।

২) কাশ্মীর: পাকিস্তান সৃষ্টির আগে কাশ্মীর ছিলো পৃথক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। সেই কাশ্মীরও দেশভাগের সময় পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে চায়নি, পৃথক থাকতে চেয়েছে। সেই সময় কাশ্মীরের শাসক ছিলো অবশ্য হরি সিং নামক এক ব্যক্তি। সেই দেশভাগের মাত্র ১ মাস পর ভারতের সাথে কাশ্মীরকে সংযুক্ত করতে চূক্তি করে। দেশভাগের আগে কাশ্মীর যদি পাকিস্তানের সাথে যোগ দেয়ার রব তুলতো, হয়ত তাদের এই ৭২ বছর কষ্ট করতে হতো না।

৩) আসাম: দেশভাগের আগে আসাম-সিলেটবাসীর মধ্যে গণভোট হয়, তারা পাকিস্তানের সাথে থাকতে চায় নাকি ভারতের সাথে থাকতে চায়। এ সময় আসামের মুসলমানরা হিন্দু অধ্যুষিত ভারতের সাথে থাকতে বেশি আগ্রহী হয়, অপরদিকে সিলেটের মুসলমানরা পাকিস্তানের সাথে থাকতে আগ্রহী হয়। ফলে দেশভাগের সময় আসাম যোগ দেয় ভারতের সাথে, সিলেট যোগ দেয় পাকিস্তানের সাথে। আসামের মুসলমানদের অতি হিন্দুপ্রেমের ফলাফল আজ ৭২ বছর পর দেখতে হচ্ছে।

৪) আরাকান: পাকিস্তান তৈরীর আগে আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানরা পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে জিন্নাহ’র কাছে আবেদন করেছিলো। কিন্তু বাধ সাথে সুকি’র বাপ অং সাং। সে জিন্নাহকে আশ্বাস দেয় রোহিঙ্গাদের সকল অধিকার দিয়ে তারা বার্মায় রাখবে, আরাকানকে যেন পৃথক করা না হয়। তার এই আশ্বাস শুনে জিন্নাহ’র মন ভরে যায়, ফলে আরাকান আর মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে পারে না। সেই দিন রোহিঙ্গাদের আরাকান যদি পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতো, তবে আরাকানের রোহিঙ্গাদের হয়ত এত কষ্ট করতে হতো না।

উপরে বর্ণিত প্রত্যেকটি ইতিহাসই অনেক বিস্তৃত, অনেক আলোচনা ব্যাখ্যা করা যাবে, তবে সংক্ষিপ্ত শিক্ষা হচ্ছে, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের বিষয়টি। কারণ ঐ সময় যে সব মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো ঐক্য ছিন্ন করেছিলো, তারাই আজকে সমস্যার মধ্যে আছে। হয়ত প্রাথমিকভাবে হিন্দু/বৌদ্ধরা মুসলমানদের ভালো কথা শুনিয়েই দলে ভিড়িয়েছে বা নিরপেক্ষ রেখেছে, কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে হিন্দু/বৌদ্ধদের আসল মুখোশ খুলেছে, এবং মুসলমান মুসলমান ঐক্য না করার ক্ষতিকর দিকটা স্পষ্ট হয়েছে।

অর্থাৎ মুসলিম ঐক্যের থেকে পৃথক হয়ে অমুসলিমদের সাথে যোগ দেয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমন ঐ ঐক্যের সাথে যোগ না দিয়ে পৃথক বা স্বতন্ত্র থাকাও ক্ষতিকর, কারণ বাঘ হরিনকে দল থেকে পৃথক করেই তারপর ভক্ষণ করে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ঐক্য কিন্তু এমনি এমনি হবে না, ঐক্য হওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে কম্প্রোমাইজ। প্রত্যেকে জাতি, অঞ্চল, অবস্থান ভেদে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে, সেই সব বিষয়গুলো যদি আপনি কোন কম্প্রোমাইজ করতে না পারেন, তখন কিন্তু ঐক্য হয় না। মুসলমানরা যখন মুসলিম-মুসলিম ঐক্য চাইবে, তখন এক মুসলিম পরিচয় ব্যতিত অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে কম্প্রোমাইজ (কম্প্রোমাইজ মানে স্বীকৃতি দেয়া নয়, বরং বরং দ্বন্দ্ব না করা) করতে হবে। এক্ষেত্রে অমুসলিমরা কিন্তু ঐ বিভেদগুলো সব সময় উস্কে দিবে, যেন মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে কখন ঐক্য না করতে পারে, সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অর্থাৎ জাতিভেদ, অঞ্চলভেদ, গোত্রভেদ, বর্ণভেদ, ফেরকাভেদ এগুলো থেকে যতদিন মুসলমানরা বের না হতে পারবে ততদিন তাদের পক্ষে ঐক্য করা সম্ভব না। কারণ ঐক্য হতে গেলেই একজন বলবে-

- তুই চাটগা, আমি নোয়াখালী আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না
- তুই রোহিঙ্গা আমি বাঙালী, আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না
- তুই ভাসির্টি আমি মাদ্রাসার আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না
- তুই কওমী আমি আলিয়া আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না
- তুই ওহাবী, আমি সুন্নি আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না
- তুই কওমী আমি আহলে হাদীস আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না
- তুই পীরের মুরিদ, আমি তৌহিদি আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না
- তুই তাবলীগ, আমি আহলে হাদীস আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না,
- তুই সাদ আমি জোবায়ের আমাদের মাঝে ঐক্য হবে না।

অর্থাৎ মুসলমান মুসলমান যখন ঐক্যের কথা উঠবে, তখন পেছন থেকে শুধু উপরের একটা শ্লোগান দিলেই হবে, ব্যস মুসলমান-মুসলমান ঐক্য তো পরের বিষয়, উল্টা এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে লাঠি নিয়ে দৌড় দিবে, যদি প্রয়োজন পড়ে পাশের হিন্দুদেরও নিয়ে যাবে মুসলমান মারতে যাবে, আর বলবে- “তুই হিন্দুর থেকে খারাপ।”

প্রিয়া সাহার ঘটনা থেকে কিন্তু মুসলমানদের শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছু আছে। প্রিয়া সাহার মূল নাম প্রিয়া বালা সাহা। এরা হচ্ছে, একদম নিচু শ্রেণীর হিন্দু। যাদের বলে দলিত বা হরিজন সম্প্রদায়, মুচি মেথর ডোম তাদের মূল পেশা। প্রিয়া সাহা’র একটা পত্রিকাও আছে, নাম ‘দলিত কণ্ঠ’। কথা হইলো, হিন্দু সমাজের মধ্যে এই দলিত বা হরিজনরা কিন্তু নিন্দিত।

অন্য বর্ণের হিন্দুদের মত হচ্ছে- দলিতদের মুখ দেখাও পাপ। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে এদের মুখ দেখলে সারদিন খারাপ যায়। এরা মারা গেলে হিন্দুদের শশানে এদের দাহ করতে সমস্যা হয়। অর্থাৎ জাত হিসেবে প্রিয়া বালা সাহা সমগ্র হিন্দু জাতির কাছে নিন্দনীয়।

অপরদিকে প্রিয়া সাহার সাথে তার প্রতিবেশী হিন্দুদের সাথে বিরোধ। প্রিয়া সাহা তার প্রতিবেশী হিন্দুদের উপর টর্চার করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এখন কথা হইলো- যখন প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে গিয়ে যখন মুসলমানদের নামে বিচার দিলো, তখন কি কেউ দেখছেন, কোন হিন্দুকে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে বলতে ? কাউকে কি বলতে দেখছেন- তার জাত প্রথা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে? কাউকে কি দেখছেন সে যে প্রতিবেশীর সাথে খারাপ ব্যবহার করছে, সেটা নিয়ে তাকে নিন্দাইতে?

তারা কিন্তু সেটা করে নাই। কারণ প্রিয়া সাহার দ্বন্দ্ব তখন হিন্দু-হিন্দুতে নয়, হিন্দু-মুসলমানে। আর তাই সকল হিন্দু জাতি-পাত-স্বভাব-চরিত্র ভুলে প্রিয়া সাহাকে সমর্থন দিছে। এমনকি সে যে মিথ্যা কথা বলে আসছে, সেটার পক্ষে সাফাই গেলে বলছে, সে ভুল কিছু বলেনি। তাহলে বুঝেন অবস্থা।!

হিন্দুরা তেত্রিশ কোটি দেবতার আরাধনা করে, তারপরও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সবাই এক হয়ে যায়।অথচ মুসলমানরা এক আল্লাহ’র আরাধনা করলেও অমুসলিমদের বিরুদ্ধে এক হতে পারে না।

গত কয়েকদিনে ফেসবুকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী মুসলমানদের একটা গ্রুপ বেশ লিখেছে। আমি কয়েকটা গ্রুপে তাদের নিয়ে লেখা পড়তেছিলাম। দেখলাম একজন বাংলাদেশী মুসলমান বলতেছে- “আসলে বহুদিন ধরে রোহিঙ্গারা প্রতিকূল পরিবেশে থাকায় তাদের আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে।” এই কথা শুনে আরেক মুসলমান কমেন্ট করছে- “আমার মনে হয় না। আমার মনে হয়, তাদের স্বভাব আগেই খারাপ ছিলো এবং তাদের খারাপ স্বভাবের কারণে মায়ানমারের বৌদ্ধরা তাদের সাইজ করছে।”

আমি অনেক মুসলমানকে দেখেছি, মাঝে মাঝে বলে- “ব্রিটিশদের পলিসি হলো ডিভাইড এন্ড রুল, আমাদের তা থেকে সচেতন থাকতে হবে।” কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই মুসলমানই ডিভাইড পলিসি বাস্তবায়নের একজন সক্রিয় কর্মী। সে কথা বার্তায়, আচার আচরণে, ওয়াজ মাহফিলে কিভাবে মুসলমান মুসলমান বিভক্তি বাড়ানো যাবে, শুধু সেই ধান্ধায় থাকে।

তবে ব্রিটিশদের পলিসি ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ এটা শোনার পর এক মুসলিম বন্ধু অবশ্য দ্বিমত করছিলো। তার বক্তব্য হলো- এই ডিপ্লোমেসি’ টা আসলে মুসনলমানদের। মুসলমানদের পলিসি নিয়ে ইহুদী-খ্রিষ্টানরা আজকে সফল হইছে। তার বক্তব্য হলো- প্রথম যুগে মুসলমানরা যখন কোন যুদ্ধে যেতো, তার আগে গুপ্তচর পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের যোদ্ধাদের গোত্রে গোত্রে ভাগ করে দেয়ার একটা কার্যক্রম থাকতো। মুসলিম খলিফাদের যুগে মুসলমানরা ইরাকের ইহুদীদের বিভিন্ন গোত্রে গোত্রে ভাগ করে দিয়েছিলো, ফলে ঐ সময় ইহুদীরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারতো না। এমনকি বর্তমানেও শুক্রবার দিন মুসলমানদের যে সাপ্তাহিক জুম্মার নামাজ হয়, সেখানে খুতবার মধ্যে আরবী ভাষায় অমুসলিমদের ঐক্য ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য আলাদা প্রার্থনা করা হয়। অর্থাৎ মুসলমানদের পলিসি হলো, “নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়, প্রতিপক্ষের ঐক্য ভেঙ্গে দাও”। কিন্তু দুঃখের বিষয়- মুসলমান নিজেরাই আজ সেই ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে বহু দূরে।

এখন আমি কি মুসলিম সমাজের নিকট আশা করতে পারি যে তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিবে এবং ইহুদিবাদী ও হিন্দুত্ববাদী সকল চক্রান্ত নস্যাত করে দিবে একঝোট হয়ে?
এবার কি তবে আসাম থেকেও শরনার্থী আসবে বাংলাদেশে?

এবার কি তবে আসাম থেকেও শরনার্থী আসবে বাংলাদেশে?

এন আর সির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ভারতীয় নাগরিকেরা
নয়ন চ্যাটার্জি।। রিপাবলিকানদের ‘এন্টি ইমিগ্রান্ট’ পলিসি বুঝে কাজ করতে হবে। আমি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘রিপাবলিকান ব্লক’ একটা টার্ম ইউজ করি। রিপাবলিকান ব্লকের লক্ষণ হলো- তারা সময় এন্টি ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী বিরোধী হয়।

যেমন ট্রাম্প রিপাবলিকান, সে সময় অভিবাসী বিরোধী বক্তব্য দিবে এবং পদক্ষেপ নিবে। এই বক্তব্যকে পূজি করে সে রাজনীতি করে ভোট কামাবে। ইউরোপে যখন শরনার্থীদের ঢল নামলো তখন হাঙ্গেরী সরকার তাদের ঢুকতে দিলো না। হাঙ্গেরী সরকারও রিপাবলিকান ব্লকের।

ভারতের মোদি সরকার রিপাবলিকান ব্লকের – তারা আসামের মুসলমানদের বাংলাদেশ থেকে আগত অভিবাসী ট্যাগ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকাতে চায়। একইভাবে সুকি সরকার হলো রিপাবলিকান ব্লকের। তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী ট্যাগ দিয়ে অবৈধ অভিবাসী বানিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ অভিবাসী নিয়ে অথবা কাউকে অভিবাসী বানিয়ে গেম খেলা রিপাবলিকানদের পলিসি।

আমি দেখেছি- অনেক মানুষ এ রাজনৈতিক বিষয়গুলো বুঝে না্, যার কারণে উল্টাপাল্টা করে। যেমন অনেকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যার জন্য ট্রাম্প বা মোদির কাছে সাহায্য চায়। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক আদর্শ হচ্ছে এন্টি ইমিগ্রান্ট। তারা এই ব্যাপারে আপনাকে কোন সাহায্য করবে না। করলে তাদের দেশে বিপরীত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ধরবে, বলবে- “তুমি ঐ দেশে ইমিগ্রান্টদের পক্ষে কাজ করেছো, আমার দেশেও করো। ” এজন্য তারা নিজেদের মূল মূল রাজনৈতিক পলিসি ঠিক রাখে। তাই আমি বোকার মত তাদের অনুরোধ করতে পারি- কিন্তু লাভ হবে না।

আবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেকের মধ্যে বু্দ্ধির স্বল্পতা দেখেছি- আমি গত কয়েকদিনে ৬টা স্ট্যাটাস দিয়েছি, পুরোটা বুঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারপরও অনেকে ভাবছে- “ভাই আপনি কি তাহলে বাংলাদেশীদের বিপক্ষে, রোহিঙ্গাদের পক্ষে।” আবার কেউ কেউ বলতেছে- “তবে কি আপনি চান না রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক।” আমি উত্তরে বলবো- আপনারা আসলে আমাকে ভুল বুঝতেছেন। প্রকৃতঅর্থে আমি বাংলাদেশেরই পক্ষে এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসনের পক্ষে।

তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে- যারা ভাবতেছে রোহিঙ্গা বিদ্বেষ ছড়ালেই রোহিঙ্গারা চলে যাবে এবং প্রত্যাবসন সহজ হবে। আমার কথা হলো- এ ধরনের বিশ্বাস বা চিন্তাধারা উল্টা রোহিঙ্গাদের এদেশে স্থায়ী করে সমস্যা বাড়িয়ে দেবে এবং তাদের প্রত্যাবসনকে জটিল করে দিবে। আমার কথা হলো- বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে চলেছে, এ অবস্থায় একটু পরিপক্ক চিন্তা করেন, হুজুগ পরিহার করেন, কেউ উস্কানি দিলেই সেখানে দয়া করে ঝাপ দেবেন না। আমি আমার সব লেখায় এ মেসেজটাই সব সময় দিতে চেয়েছি।

যাই হোক, আমার কাছে মনে হয়- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা তৈরীর মূল কারণ বাংলাদেশের দুর্বল বিদেশ নীতি। বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গা ইস্যুতে শক্তিশালী বিদেশনীতি দেখাতো, তবে ভারত বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে আসামে ১৯ লক্ষ লোককে বাংলাদেশী ঘোষণা করার সাহস দেখাতো না।

আওয়ামী সরকার সব সময় বলে- “কারো সাথে শত্রুতা নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব”, কথাটা শুনতে সুন্দর শোনা গেলেও সোজা বাংলায় এই নীতিকে হিজরা নীতি বলা যায়। কারণ এই নীতি অনুসারে আপনার সাথে কেউ শত্রুতা করলেও আপনি তার সাথে বন্ধু রক্ষা করেই চলবেন। প্রতিপক্ষ ল্যাং মারতেই থাকবে, আর আর আপনিও তাকে বন্ধু বলে সম্মান দিতেই থাকবেন। এক সময় হয়ত আপনাকে ল্যাং মেরে শোয়ায় ফেলবে, আপনাকে আর উঠতে দেবে না।

আজকে বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন-ভারত-আমেরিকার পা না ধরে- (কারণ চীন কোন ঝামেলায় যাবে না, কারণ তার ব্যবসায়ীক পরিবেশ নষ্ট হবে, আর ভারত-আমেরিকা নিজেরাই এন্টি ইমিগ্রান্ট তাই বলে লাভ নেই) রোহিঙ্গাদের নির্যাতিত মুসলিম হিসেবে উপস্থান করে কক্সবাজারে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদের নিয়ে একটি কনফারেন্স আয়োজন করতো, সেখানে তুরস্ক, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তানের মত দেশগুলো আমন্ত্রণ জানিয়ে একটা ঘোষণা দিতো, “মায়ানমার তো রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন শুরু করতে চাইছে ভালো কথা, তবে সব রোহিঙ্গাকে তার ভূমি, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা সহ আরাকানে ফিরিয়ে নিতে হবে। আর ফিরিয়ে নিলেই হবে না, মুসলিম দেশগুলো সম্মিলিত সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগ্রেড রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার সাথে সেখানে সেটেল করে দিয়ে আসবে।” ব্যস এতটুকু শুধু মুখে ঘোষণা দিয়ে দেখতো কি হয়, বাকিটা সময়ই কথা বলতো। আর এ কাজে শুধু রোহিঙ্গা সমস্যা না, আসামের সমস্যাও সমাধান হয়ে যাইতো।

যাই হোক, আমি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবেশ দেখে কিছু বিষয় খুব চিন্তা করছি। বাংলাদেশ কিন্তু এখন খুব জটিল প্যাচের মধ্যে আছে। আমেরিকার পিভটু টু এশিয়া পলিসি, ভারতের এক্ট ইস্ট পলিসি আর তার বিপরীতের চীনের বেল্ট রোড ইনেশিয়েটিভ আর মুক্তার মালা পলিসি। এসব পলিসির মাইনকার চিপায় বাংলাদেশ। যে কোন একপক্ষ নিলে অপরপক্ষ শত্রুতা শুরু করবে। এর মধ্যে আবার আমেরিকার ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান আলাদা ডুয়েল পলিসি, মানে দুইপাশে ধারওয়ালা ছুরি। এত ফাদের মধ্যে প্রক্সিওয়ার জোন হিসেবে বাংলাদেশের আফগানিস্তান বা সিরিয়া হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আমার ধারণা শেখ হাসিনা হয়ত ভাবছেন তিনি এতদিন যেভাবে রিপাবলিকান আর চীনের মধ্যে ব্ল্যালেন্স করে চলে আসছেন, সেটাই তিনি জারি রাখবেন। কিন্তু শেখ হাসিনাকে এটা বুঝতে হবে- এবারের পর ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসবে, তখন তারা চরম উগ্র আকার ধারণ করবে। তখন মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কি করবে সেটাও চিন্তা করা উচিত।

উল্লেখ্য- রিপাবলিকানদের পৃথিবী জুড়ে সবচেয়ে বেশি সামাল দেয় ডেমোক্র্যাট ব্লক। কিন্তু এবার রিপাবলিকানরা কৌশল করে ডেমোক্র্যাটদের বড় বড় দুর্গগুলে শেষ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে সামনের কানাডার নির্বাচনের ডেমোক্র্যাটদের বড় ফিগার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নাও আসতে পারে। সেখানে দখল করে নিতে পারে রিপাবলিকান ব্লকের কোন সদস্য। এছাড়া এতদিন ডেমোক্র্যাট ব্লকের জার্মানির নিয়ন্ত্রণে ছিলো পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ অবস্থায় রিপাবলিকানরা কৌশল করে বোরিস জনসনকে এনে ব্রিটেনের ব্রেক্সিট করাচ্ছে। এতে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রাধীন জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবে, আর বরিস জনসন ব্রিটেনকে নিয়ে আমেরিকার সাথে জোট বাধবে, ঠিক যেভাবে টনি ব্লেয়ার বুশের সাথে জোট বেধেছিলো। অর্থাৎ রিপাবলিকানদের প্রতিন্দন্দ্বী শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে। আর রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ‘এন্টি-মুসিলিম’ কর্মকাণ্ড। অর্থ্যাৎ বুশ যেভাবে বিশ্বজুড়ে মুসলিম নিধন করেছিলো, ঠিক একই রাস্তায় হাটতে পারে ট্রাম্প।

তবে এক্ষেত্রে ট্রাম্পের বেশি ক্ষোভ পড়বে বাংলাদেশের উপর, কারণ বাংলাদেশ চীনের সাথে লিয়াজো করছে। তবে বাংলাদেশ যদি ভাবে, চীনের সাথে লিয়াজো করে বাচতে পারবে, তবে ভুল করবে, কারণ চীনের ব্যবসায়ীক পলিসি আছে, কিন্তু ভালো রাজনৈতিক পলিসি নাই, আর আমেরিকার রাজনৈতিক পলিসির সাথে তুলনা করলে তো সেটা শিশুতূল্য। তাই আমার মনে হয়, বাংলাদেশকে এখন থেকে ব্যতিক্রম কিছু চিন্তা করতে হবে।

বিশেষ করে, এমন মুসলিম দেশগুলোর সাথে যুক্ত হওয়া উচিত, যারা আমেরিকার চালগুলো ধরে সেগুলো রাজনীতিকভাবে সামাল দিতে পেরেছে। বিশেষ করে অতি সম্প্রতি গঠিত হতে যাওয়া তুরষ্ক-মালয়েশিয়া-পাকিস্তান জোটকে আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আমার মনে হয়, অন্তত শেখ হাসিনার এদের সাথে কিছুটা হলেও একটা যোগাযোগ বা জোটবদ্ধতা থাকা উচিত, নয়ত চীন-আমেরিকা দ্বন্দ্বে বাংলাদেশে যে কোন সময় যে কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

একইসাথে বিদেশীদের উপর ভর না করে বাংলাদেশীদের মধ্যে একটা এনালিস্ট গ্রুপ তৈরী করা উচিত, যারা এধরনের আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশকে সঠিক পথ দেখাবে। সম্প্রতি খবরে দেখলাম- আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিবেচনা করে বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার সার্থে ‘জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল’ নামক একটি কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। আমার ধারণা এটা একটা এনালিস্ট গ্রুপ (নিরাপত্তা বিশ্লেষক) হবে, যারা বর্তমান সুপার পাওয়ারদের ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের কি ভূমিকা হওয়া উচিত, অ্যানালাইসিস করে সরকারকে সে ‍বুদ্ধি দিবে। বিষয়টি খুবই ভালো উদ্যোগ। নির্বাচনের আগের দেয়া- “ইশতেহার : ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ ২০১৮’- এর মধ্যে ১২.২ নম্বর পয়েন্টে আমি এরকম একটি এনালিস্ট গ্রুপ তৈরীর কথা বলেছিলাম। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, এই কমিটিতে যেন কোনভাবেই কোন ব্লকের দালাল ঢুকে না পড়ে, তখন ভালো বুদ্ধি থেকে কুবুদ্ধি দিয়ে পুরো দেশ ডুবিয়ে দেবে তারা।

31 August 2019

রোহিঙ্গা নিয়ে হলুদ মিডিয়ার মিথ্যাচার ও আমার সাম্প্রতিক এনালাইসিস (৬): নয়ন চ্যাটার্জি

রোহিঙ্গা নিয়ে হলুদ মিডিয়ার মিথ্যাচার ও আমার সাম্প্রতিক এনালাইসিস (৬): নয়ন চ্যাটার্জি


মতামত ডেস্ক।। রোহিঙ্গা সমাবেশ বিরোধী গুজবের পেছনে কে? আমাদের এই ব্যপারে প্রথমেই জানতে হবে নাহলে আমরা কি ঘটছে তা বুঝতে পারবনা। আমি আপনাদের আগেই বলেছি, রোহিঙ্গা সমাবেশের পর একটি মহল হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা বিরোধী গুজব তৈরীতে। এতে নেতৃত্ব দেয় বসুন্ধরা গ্রুপের কালের কণ্ঠ পত্রিকা। কালেরকণ্ঠ পত্রিকাটিকে ‘কলকাতার কণ্ঠ’ বলা যায়, কারণ কালেরকণ্ঠ পত্রিকাটির মালিক বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে মাত্র ৪ মাস আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মিডিয়া জগতে অবদানের জন্য বিশেষ পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়। (https://bit.ly/2ZKmKqR)

(১) অভিযোগ: “রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা”

ক) ২৫ তারিখে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ হয়। ২৬ তারিখ কালেরকণ্ঠ দাবী করে, এই সমাবেশের পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র আছে। মানে পাকিস্তান ভিত্তিক এনজিও ‘আল খিদমাত ফাউন্ডেশন’ সেখানে অর্থায়ন করেছে। যদিও এর পেছনে কোন দলিল না রেফারেন্স তারা দিতে পারেনি। (https://bit.ly/2Lc2HgK)

খ) পাকিস্তানের এনজিও রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনে আছে, এই গোপন তথ্যের রেফারেন্স (!) প্রথমে দিতে ব্যর্থ হলেও ২৮ তারিখে কালেরকণ্ঠ তার রেফারেন্স নিয়ে হাজির হয়। সেই রেফারেন্স হলো ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া’ (ইউএনআই)। যদিও ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবীর পেছনে কোন সূত্র ছিলো না। (https://bit.ly/2ZpR6Uc)

গ) অতঃপর “রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনে পাকিস্তানের হাত আছে” চতুর্দিকে চেতনাবাদীদের মধ্যে হাওয়া ছড়াতে থাকে। একে একে বাংলাদেশের চ্যানেল আই, এনটিভি, ভারতের ইকোনোমিক টাইম সবাই কালেরকণ্ঠের রেফারেন্সকে পূজি করে খবর কপি করে। শেষ পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরও এক সভায় বলে বসে – রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনে পাকিস্তানের হাত আছে। (https://bit.ly/2Ln0Vs7) কিন্তু সেই পাকিস্তানী হাতটা আসলে কিভাবে আছে, তার সূত্রই কেউ দিতে পারেনি।

(২) অভিযোগ: বাংলাদেশীদের ৩০ হাজার চাকুরী নিয়ে গেছে রোহিঙ্গারা

কালেরকণ্ঠ একটা খবর ছড়াইছে- রোহিঙ্গারা নাকি বাংলাদেশীদের ৩০ হাজার চাকুরী নিয়ে গেছে (https://bit.ly/2MNt0f6)

এই খবর দেখে- একদল বাংলাদেশী পারলে এখনই নেমে যায় রোহিঙ্গাদের জবাই করতে। এই কাণ্ডকারখানা দেখে আমি প্রয়াত কবি শামসুর রহমানকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারি না। তিনি যদি “এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে, চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে” শিরোনামে কবিতাটি না লিখতেন, তবে আমরা বোধহয় হুজুগে বাঙালীর চরিত্র এক কথায় কখন বুঝাতে পারতাম না।

পাবলিক কালের কণ্ঠ থুক্কু কলকাতার কণ্ঠ পত্রিকাটির হেডিং দেখে লাফ দিলেও আসলে ভেতরে খবর পড়ে নাই, ভেতরে কিন্তু লেখা আছে এই ৩০ হাজার চাকুরী আসলে রোহিঙ্গা শরনার্থী নির্ভর এনজিও’র চাকুরী। অর্থাৎ যে এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করতে আসছে, তারাই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে। এখানে বাংলাদেশীদের চাকুরী খাওয়ার কি হইলো?

তবে ৩০ হাজার রোহিঙ্গার চাকুরীর সংখ্যা নিয়ে গড়মিল লাগে, কালেরকণ্ঠ এখানেও রেফারেন্স ব্যবহার করে নাই।

উল্লেখ্য ১১ লক্ষ রোহিঙ্গার বিপরীতে ৩০ হাজার শুধু এনজিও কর্মী, তাও রোহিঙ্গা ! আর বাকি মিলালে কত হবে ? যদি ৫০ হাজার হয়, তবে ২০ জনের বিপরীতে ১ জন এনজিও কর্মী, কথাটা কতটুকু সত্য? আর ৩০ হাজার মোটামুটি শিক্ষিত রোহিঙ্গা আছে চাকুরী করার মত??

এই সব আনন্দবাজার টাইপের গাজাখুরি কথা রটায় কালেরকণ্ঠ নিজের শেষ অবস্থানটাও শেষ করে দিচ্ছে।

তবে এই বিষয়ে ঘাটতে গিয়ে একটা মজার বিষয় টের পেলাম- গত কয়েকদিনে বিভিন্ন মিডিয়ায় রোহিঙ্গা বিরোধী নিউজ করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু লোকের রেফারেন্স ব্যবহার করা হইছে। এর মধ্যে আছে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এবং উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী (https://bit.ly/30zfsHA, https://bit.ly/2ZBEHeR)।

এই লোকগুলোর নেতৃত্বে স্থানীয় কক্সবাজারবাসীর একটা গ্রুপ (যারা আসলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী) রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বেশ ক্ষেপে আছে। এই ক্ষেপে যাওয়া শুরু হয় গত জানুয়ারী মাসে। যখন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কাজে নিয়োজিত কিছু এনজিও এইসব স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীগুলোকে ছাটাই করে। তখন তারা এই দুই চেয়্যারম্যানের নেতৃত্বে কক্সাবাজারে আন্দোলন করে বলে, “রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কাজে নিয়োজিত এনজিওতে কাজ করার অধিকার আমাদের সববেচে বেশি। আমাদেরকে রোহিঙ্গা ত্রাণ কাজে নিয়োজিত চাকুরীতে কমপক্ষে ৭০% দিতে হবে, নয়ত এখানে আর কোন এনজিও’র কার্যাক্রম চালাতে দেয়া হবে না, এনজিওগুলোকে প্রতিহত করা হবে। (তথ্যসূত্র: https://bit.ly/2ZzOVN3, https://bit.ly/2HCzcm3)

অর্থাৎ যে এনজিওগুলো এতদিন ভালো ছিলো, যে রোহিঙ্গারা এতদিন ভালো ছিলো, যখনই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের চাকুরী থেকে ছাটাই করা হইছে, তখনই রোহিঙ্গা আর এনজিও’র খারাপ হয়ে গেছে। (এসব রাজনৈতিক নেতাকর্মী কাজকর্ম কতটুকু পারে? সততা কতটুকু আছে?)

তবে আমি এখানে কোন সমস্যা দেখি না। এটাকে বলে “এলাকার ছেলেদের হক”। আপনি বাংলাদেশে যে কোন কাজ করতে যান আগে আপনাকে এলাকার ছেলেদের হক পূরণ করতে হবে।

ধরেন আপনি বাড়ি বানাবেন, আপনাকে এলাকার রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের থেকে ইট, বালু, সিমেন্ট, থাইগ্লাস, রড, ইলেকট্রিক মালামাল কিনতে হবে। যদি না কিনেন, তবে আপনার বাড়ি উঠানোই বন্ধ করে দিবে। এটা এলাকার ছেলেদের হক, এটা ফরজ।

আপনি কোন কারখানা দিতে যান, কোন দোকানপাট দিতে যান আপনাকে এলাকার ছেলেদের হক আগে পূরণ করতে হবে। যতদিন আপনি এলাকার ছেলেদের হক পূরণ করবেন, ততদিন আপনি ভালো। আর যেদিন হক বন্ধ করে দিবেন, সেই দিন থেকে আপনি খারাপ। আপনার ব্যবসা বন্ধ করতে তারা লেগে যাবে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় যে গোষ্ঠীটি ক্ষেপেছে তারা ঐ এলাকার হকদার ছেলে পেলে। এতদিন তারা হক পেয়েছে তাই রোহিঙ্গাদের থাকতে দিয়েছে, এখন হকে টান পড়েছে, তারাও ক্ষেপে গেছে। তবে এইটুকুর মধ্যে আমি কোন সমস্যা দেখি না।

সমস্যা তৈরী হয় তখন, যখন এলাকার হকদার ছেলেদের স্বার্থবাদী কথাগুলোকে লুফে নিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে বাংলাদেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া যাচাই বাছাই না করেই ছেপে দেয় এবং সেই কথাগুলো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। আর তা সোশ্যাল মিডিয়ার হুজুগে মাতাল জনগণের কল্যাণ্যে মূহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশজুড়ে। (চলবে)