![]() |
স্টাফ রিপোর্টার॥ ১৫ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে এক কিশোরকে বলাৎকারের ঘটনায় ২০১৫ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার আল-মাদ্রাসাতুল ইসলামিয়া মিছবাহুল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সহকারী পরিচালক মাওলানা আব্দুল জব্বার; এর আগে বাঁশখালী পুঁইছড়ি গ্রামের হাফেজ আহমদ আলী মাদ্রাসার আরো ২ শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।
শুধু বলাৎকারের অভিযোগ নয়; মাওলানা আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস সৃষ্টি, হত্যাচেষ্টা, ভূমি দখলসহ নানা অভিযোগে আরো অন্তত ৪টি মামলা রয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানায়। এ ধরনের একজন আসামির পক্ষে সাফাই গেয়ে হেফাজত ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে- চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উত্তর জলদীর মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মাওলানা আব্দুল জব্বারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও জানি। তিনি আমাদের আল-মাদ্রাসাতুল ইসলামিয়া মিছবাহুল উলুম এর প্রতিষ্ঠাতা ও সহকারী পরিচালক। তিনি কোনো অনৈতিক, অসামাজিক, অবৈধ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজে জড়িত নয়। আমি তাহার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও উত্তরোত্তর সুখ, শান্তি কামনা করি।
২০১৫ সালের ২৮ জুলাই বায়েজিদ বোস্তামী থানায় শিশু বলাৎকারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় একই বছরের ২৪ নভেম্বর মাওলানা জব্বারকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মুহম্মদ একরামুল হক। উক্ত মামলায় ভুক্তভোগি শিশু ও তার রিক্সাচালক বাবা আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
আদালতের সহানুভূতি পেতে হেফাজত ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী সাক্ষরিত উক্ত প্রত্যয়নপত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে বলাৎকারের মামলায় অব্যাহতি পাওয়ার দরখাস্ত দেয়ার সময় ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি। বায়েজিদ বোস্তামী থানায় দায়েরকৃত মামলাটি এখন অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যায়ে আছে।
জানা গেছে, হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম এর মহাপরিচালক পদে আছেন হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফী। উক্ত মাদ্রাসার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল জব্বারের প্রতিষ্ঠা করা আল-মাদ্রাসাতুল ইসলামিয়া মিছবাহুল উলুম মাদ্রাসা। তাই পদাধিকার বলে মিছবাহুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল পদে রয়েছেন শাহ আহমদ শফী।
হেফাজত আমিরের প্রত্যয়নপত্রটি সত্যায়িত করে আদালতের নথিতে যুক্ত করেছেন আসামি আব্দুল জব্বারের আইনজীবী মুহম্মদ আনিসুর রহমান। তবে এ প্রসঙ্গে হেফাজত আমিরের প্রেস সচিব সরওয়ার কামালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কিছুই জানেন না- বলে এড়িয়ে যান।
এদিকে খুলশী গার্ডেন ভিউ এলাকায় মারধর ও জমি দখলের ঘটনায় মাওলানা জব্বারের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের ১৪ মার্চ খুলশী থানায় একটি মামলা হয়। মামলা নাম্বার ১০ (০৩) ২০০৫। উক্ত মামলাটি এখনো বিচারাধীন। এছাড়া হত্যাচেষ্টা, জবরদখল, মারধরের অভিযোগে ২০০৬ সালে বাঁশখালী থানায় জব্বারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলা নাম্বার ৫ (০২) ২০০৬।
পুলিশ সূত্রে জব্বারের বিরুদ্ধে চার মামলার খোঁজ পাওয়া গেলেও আদালতে কয়টি মামলা হয়েছে সেটা বের করা যায়নি।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর শহীদুল আলম নামে এক ব্যক্তি ও তার ভাগিনা শওকত আলীর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান আব্দুল জব্বার ও তার সহযোগিরা। আহত শহীদুল চমেক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রায় দুই সপ্তাহ। এ ঘটনায় হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ২৭ ডিসেম্বর আব্দুল জব্বার ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নাম্বার ২৮ (১২) ২০১৮। শহীদুল আলমের নির্মানাধীন ব্রীজে ইটবোঝাই ট্রাক চলাচলে বাধা দেয়ার কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
উক্ত মামলায় আব্দুল জব্বারকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি খুলশী থানা পুলিশ। এই মামলায় তিনি এখনো জামিন পাননি বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে। ভুক্তভোগী শহীদুল আলম বলেন, একের পর এক জঘন্য অপরাধ করলেও পার পেয়ে যাচ্ছেন জব্বার। এ কারণে তিনি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। এ ধরনের অপরাধপ্রবণ মাওলানা আমি আর দেখিনি। তার মতো লোকের শাস্তি হলে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়বে।
তদন্ত কর্মকর্তা খুলশী থানার এস আই মুহম্মদ নোমান বলেন, জব্বার নামের একজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা তদন্তের জন্য সম্ভবত আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত জানাতে পারবো। নিয়ম অনুযায়ী মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের সবসময় চেষ্টা থাকে।
সূত্রঃ একুশে পত্রিকা।
খবর বিভাগঃ
অপরাধ
কওমী সমাচার
চট্টগ্রাম বিভাগ
ধর্ষণ
0 facebook: