25 February 2019

বিমান ছিনতাইকারীর কাছে ছিল খেলনা পিস্তলঃ সিএমপি কমিশনার


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ চট্টগ্রামে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারীর হাতে থাকা অস্ত্রটি খেলনা পিস্তল বলে জানিয়েছেন পুলিশ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মুহম্মদ মাহবুবর রহমান।

সিএমপি কমিশনার জানান, 'তার কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে এটা ফেইক, খেলনা পিস্তল। তাছাড়া শরীরে তেমন কিছু প্যাঁচানো ছিল না।'

৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে শ্বাসরুদ্ধকর দুই ঘণ্টার সমাপ্তি শেষে রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবর রহমান একথা জানান। বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছেন মাহাদী নামের যুবকটি।

পরে বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মুহম্মদ মাহবুব আলীও রাতে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বলেন, ওই পিস্তলটি ছিল খেলনা। ঢাকা থেকে বিমানটি ছেড়ে যায় রোববার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে। কেবিন ক্রুসহ বিমানে ছিলো প্রায় দেড়শ জন। চট্টগ্রাম হয়ে সেটি দুবাই যাওয়ার কথা। কিন্তু ১৫ হাজার ফুট উপরে উঠার পরই অস্ত্রধারী এক যাত্রী ককপিটে ঢোকার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি ক্রুদের জানান, বিমান ছিনতাইয়ের কথা।

বিমানে থাকা এক যাত্রী জানান, ওই ব্যক্তি পিস্তল নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের বলে, কেউ উঠে দাঁড়ালে বা নড়াচড়া করলে গুলি করা হবে। এসময় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ওই ব্যক্তি কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে। ককপিটে ঢুকতে না পেরে উড়ন্ত বিমানে ধুমপান করতে থাকেন ছিনতাইকারী।
সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান বলেছিলেন, ওই যুবকের কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, 'শুরুতে আমরা ছিনতাইকারীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। পরে সে আক্রমণাত্মক থাকায় স্বাভাবিক নিয়মে অভিযান চালানো হয়। এতে সে শুরুতে আহত হয়। পরে নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিমানের মধ্যে তার সাথে আমাদের অ্যাকশন হয়েছে, পরে সে বাইরে নিহত হয়েছে।' সিএমপি কমিশনার জানান, 'পুলিশের এখন তদন্ত শুরু হল। তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করে কিছু পাওয়া যায়নি। তবে এ নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে।'

বিমান ছিনতাইয়ের এই ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।


শেয়ার করুন

0 facebook: