Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts

01 November 2019

টিপু সুলতানের নাম মুছে ফেলতে চাইছে ভারতের বিজেপি

টিপু সুলতানের নাম মুছে ফেলতে চাইছে ভারতের বিজেপি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো দক্ষিণ ভারতের মহীশূরের রাজা টিপু সুলতান সম্বন্ধে যা যা লেখা আছে কর্নাটকের স্কুলে ইতিহাসের পাঠ্য বইগুলোতে, তা সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে সে রাজ্যের সরকার। বর্তমানে কর্নাটকে বিজেপি-র সরকার ক্ষমতাসীন।

মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা জানিয়েছেন, "টিপু জন্ম-জয়ন্তী আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল পাঠ্য বইতে যা রয়েছে টিপু সুলতানের সম্বন্ধে, সেগুলোও সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছি আমরা।"

সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সময়ের অপেক্ষা, সেটাও উল্লেখ করেছেন মি. ইয়েদুরাপ্পা।

বিজেপির এক নেতা এর আগে দাবি করেছিলেন যে টিপু সুলতানকে যেভাবে গৌরবান্বিত করা হয় স্কুলের পাঠ্য বইগুলিতে, তা বন্ধ করা উচিত। টিপু সুলতান হিন্দুদের ওপরে সাংঘাতিক অত্যাচার করতেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন কোডাগু জেলা থেকে নির্বাচিত বিধানসভা সদস্য, বিজেপির এ. রঞ্জন।

টিপু সুলতানের ওপরে বহুদিন ধরে গবেষণা করেছেন মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান যোসেফ। তিনি বলেন টিপু সুলতানকে ভারতীয় ইতিহাসের একজন 'খলনায়ক' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

"টিপু সুলতানকে নিয়ে যা বলা হচ্ছে, সেগুলো রাজনৈতিক কথাবার্তা। টিপু সুলতানকে একজন খলনায়ক করে তোলার এই প্রচেষ্টাটা কয়েক বছর ধরেই শুরু হয়েছে, '' বলেন মি. যোসেফ, যিনি বর্তমানে 'নলওয়াঢি কৃষ্ণারাজা ওয়াদিয়ার চেয়ার'-এর ভিসিটিং প্রফেসর।

সেরিঙ্গাপত্তমের যুদ্ধে ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াইয়ে মারা যান মহীশূরের রাজা টিপু সুলতান।
এই প্রথম নয়, এর আগেও কর্নাটকে সরকারিভাবে যে টিপু জয়ন্তী পালিত হত, তা-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিজেপি-র আমলে।

বিজেপি এবং হিন্দু পুনরুত্থানবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস মনে করে টিপু সুলতান কুর্গ, মালাবার সহ নানা এলাকায় কয়েক লক্ষ হিন্দুকে মেরে ফেলেছিলেন এবং বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করেছিলেন।

আরএসএসের মতাদর্শে বিশ্বাস করে, এমন একটি সংগঠন, ইতিহাস সংকলন সমিতির পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ইতিহাসের অধ্যাপক রবিরঞ্জন সেন বলছিলেন, তার মতে, বাস্তবে যা যা করেছেন টিপু সুলতান - সবটাই থাকা উচিত।

''তিনি যেমন ধর্মীয় নিপীড়ন চালিয়েছেন তেমনই বলপূর্বক ধর্মান্তকরণও করিয়েছেন। এগুলো ঐতিহাসিক সত্য,'' তিনি বলেন।

''আমাদের মতে তার যদি কিছু অবদান থেকে থাকে সেগুলোর সঙ্গেই নেতিবাচক দিকগুলোও থাকা দরকার,'' মি. সেন বলেন।

তার মতে, অনেক সময়েই পাঠ্য পুস্তকে একপেশে, একধরণের ইতিহাস লেখা হয়ে এসেছে। কিন্তু তার জীবন আর শাসনামলের দুটি দিকই তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

টিপু সুলতান যে হিন্দুদের ওপরে নিপীড়ন চালিয়েছিলেন বা লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে মেরে ফেলেছিলেন বলে আর এসএস যা দাবী করে, তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন অধ্যাপক যোসেফ।

"টিপু সুলতানকে নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে, তাতে এরকম তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না যে তিনি নির্দিষ্টভাবে হিন্দুদের ওপরেই অত্যাচার করেছিলেন,'' তিনি বলেন।

''কুর্গ বা মালাবার উপকূলে যুদ্ধ নি:সন্দেহে হয়েছিল সেখানকার হিন্দু শাসকদের সঙ্গে। এবং সেই যুদ্ধে অনেক হিন্দুর যে প্রাণ গিয়েছিল, সেটা অস্বীকার করা যাবে না - কিন্তু সেটাকে একটা ধর্মীয় অত্যাচার বলা ভুল,'' অধ্যাপক যোসেফ বলেন।

তিনি বলেন, মহাভারতের কাহিনিতে তো যারা নিহত হয়েছিলেন, তারাও হিন্দুই ছিলেন। আবার মারাঠারা যখন মহীশূর দখল করতে এসেছিল, তখন তারা অতি পবিত্র হিন্দু তীর্থ শৃঙ্গেরি মঠ ধ্বংস করে দিয়েছিল - এমনকী বিগ্রহটিও ধ্বংস করে দেয় তারা।

''শৃঙ্গেরি মঠ পুণর্নিমানে অর্থ দিয়েছিলেন টিপু সুলতান। এগুলোকে তো ধর্মীয় নিপীড়ন বলা যায় না," ব্যাখ্যা করছিলেন অধ্যাপক যোসেফ।

টিপু সুলতান যখন ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে যেতেন, রাজ্যের সর্বেসর্বা হয়ে শাসন চালাতেন একজন হিন্দু - পুন্নাইয়া। আবার মালাবার দখল করার সময়েও টিপুর সেনাপতি ছিলেন শ্রীনিবাস রাও - তিনিও হিন্দু।

অধ্যাপক যোসেফের যুক্তি, "টিপুর পরেই যার হাতে সব ক্ষমতা, সেই পুন্নাইয়া, কুর্গে হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার করতে দিয়েছেন, এটা কি যুক্তিগ্রাহ্য বা হিন্দু হয়েও শ্রীনিবাস রাও মালাবারে হিন্দুদের ধর্মান্তকরণ করানোতে মদত দিয়েছিলেন - সেটা কি মেনে নেওয়া যায়?"

কলকাতায় টিপু সুলতান শাহী মসজিদ। টিপু সুলতানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র প্রিন্স গুলাম মোহাম্মদ কলকাতায় এই মসজিদ তৈরি করেন ১৮৩২ সালে।
টিপু সুলতান ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হওয়ার পরে তার ১২জন পুত্র এবং পরিবার পরিজন সবাইকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেয় ব্রিটিশ সরকার।

সেই থেকে কলকাতাতেই টিপুর পরিবারের বসবাস। শহরের সবথেকে পরিচিত মসজিদ 'টিপু সুলতান মসজিদ' যেমন এই কলকাতাতেই, তেমনই তার পুত্র আনোয়ার শাহ এবং পরিবারের আরও কয়েকজনের নামে রয়েছে শহরের বড় বড় কয়েকটি রাস্তার নাম। বিবিসি

22 August 2019

কাশ্মিরীদের বর্তমান দুর্দশার জন্য শুধু ভারতই নয়, দায়ী আছে আরও কিছু লোক

কাশ্মিরীদের বর্তমান দুর্দশার জন্য শুধু ভারতই নয়, দায়ী আছে আরও কিছু লোক


চিফ রিপোর্টার।। তারা কারা? তারা হল কাশ্মীরের কিছু মুনাফিক নেতাবৃন্দ। স্বাধীনতা খয়রাতের মাল নয়, এটি অনেক খুন ঝরানো অতি কষ্টে অর্জিত একটি বিষয়। এজন্য অপরিহার্য হল, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব এবং জনগণের কুরবানি। মুসলমানদের অপূরণীয় ক্ষতি শুধু অমুসলিম শত্রুরাই করেনি।

বড় বড় ক্ষতি করেছে মুসলমান নামধারি সেকুলাঙ্গার ও ইসলামের প্রতি প্রচন্ড বিদ্বেষী জাতীয়তাবাদী মুনাফিক নেতারা। আজ মুসলিম বিশ্ব যেরূপ বিভক্ত, শক্তিহীন ও ইজ্জতহীন তার কারণ তো তারাই।

বাংলা, পাঞ্জাব, সিন্ধু, সীমান্ত প্রদেশ ও বেলুচিস্তানের মুসলমানদের ন্যায় কাশ্মিরীদেরও স্বাধীন হওয়ার মোক্ষম সুযোগ এসেছিল। ভারতবর্ষের বুকে মুসলমানদের জন্য স্বাধীন দেশ রূপে যারা পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখতেন তারা কাশ্মির নিয়ে যতটা ভাবতেন কাশ্মিরীদের নিজেদের নেতারাও ততটা ভাবেনি।

ক্যাম্ব্রিজের ছাত্র চৌধুরি রহমত আলী তার আবিস্কৃত পাকিস্তান শব্দটির অক্ষরটি নিয়েছিলেন কাশ্মিরের প্রথম অক্ষর থেকে। কিন্তু ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার একমাত্র যে ট্রেনটি নতুন স্বপ্নের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে সেটি ধরতে তারা দারুন ভাবে ব্যর্থ হয়। এর জন্য দায়ী তাদের ইসলামের প্রতি বিদ্বেষী সেকুলাঙ্গার নেতারা। এ নেতাদেরই একজন হল শেখ আব্দুল্লাহ।

কাশ্মিরের অমুসলিম ডোগরা রাজার বিরুদ্ধে তুমুল গণ আন্দোলনের সূত্রাপাত হয় ১৯৩১ সালে এবং সেটি জম্মুতে রাজার সৈন্যদের দ্বারা পবিত্র কুরআনের অবমাননা হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তখন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিল মুসলিম কনফারেন্স এবং তার নেতা ছিল শেখ আব্দুল্লাহ। সে ছিল চিন্তা-চেতনায় সেকুলার এবং ইসলামে অঙ্গিকার শুন্য। পাকিস্তানের স্বপ্ন তার ভাল লাগেনি। অথচ পাকিস্তান গড়ার কাজ চলছিল তার ঘরের পাশে। তার ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব ছিল কংগ্রেস নেতা জওহার লাল নেহেরুর সাথে।

নেহেরুও ন্যায় সেও মুসলিম লীগের দ্বি-জাতি তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিল না। বিশ্বাসী ছিল ভারতীয় এক জাতি তত্ত্বে।ফলে মুসলিম লীগের সাথে সম্পর্ক না গড়ে সে সম্পর্ক গড়ে কংগ্রেসের সাথে। তার কাছে যেটি অধিক গুরুত্ব পায় সেটি কাশ্মিরের মুসলমানদের ঐক্য নয়, বরং সেটি কাশ্মিরের হিন্দু পন্ডিতদের সাথে একাত্ব হওয়া। ফলে দুই টুকরায় বিভক্ত হয় কাশ্মিরী মুসলমানেরা।

১৯৩৯ সালের ১১শে জুনে শেখ আব্দুল্লাহ মুসলিম কনফারেন্সের নাম পাল্টিয়ে রাখে ন্যাশনাল কনফারেন্স। এভাবে একতার গুরুত্ব যে সময়টিতে সর্বাধিক ছিল তখন অনৈক্যই তীব্রতর হয়। মুসলিম কনফারেন্স দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিপরীতে মুসলিম কনফারেন্সের নেতৃত্ব দেন চৌধুরি গোলাম আব্বাস এবং মির ওয়াইজ ইউসুফ শাহ। মুসলিম কনফারেন্স পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার পক্ষে জোর দাবী জানায়।

১৯৪৭ সালে হিন্দু রাজা হরি শিংয়ের সাথে শেখ আব্দুল্লাহ কাশ্মির ভূক্তির পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। মুসলিম স্বার্থের সাথে এরূপ বিশ্বাসঘাতকতার বিণিময়ে শেখ আব্দুল্লাহ কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী হয়। এবং কারারুদ্ধ করা হয় পাকিস্তানপন্থি নেতা চৌধুরি গোলাম আব্বাসকে। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক নিছক বিশ্বাসঘাতকই, তাদের গুরুত্ব বেশীকাল টিকে থাকে না। এমনকি যাদের কাছে নিজেদের বিক্রি করে তাদের কাছেও না।

নেহেরুও সাথে শেখ আব্দুল্লাহর সম্পর্কে ফাটল ধরতে থাকে। ১৯৫৩ সালে তার মনে কাশ্মিরকে স্বাধীন দেশ রূপে দেখার স্বপ্ন জাগে।ভারত সরকার তাকে এ স্বপ্ন দেখার শাস্তি স্বরূপ ১৯৫৩ সালের ৯ই আগষ্ট কারারুদ্ধ করে। শেখ আব্দুল্লাহ যখন জেলে তখন ভারতের শাসনতন্ত্রে কাশ্মিরের যে আলাদা মর্যাদা ছিল সেটিও বিনষ্ট করা হয়।

অবশেষে ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধি সরকার শেখ আব্দুল্লাহর সাথে চুক্তি করে এবং আবার তাকে কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী করে। শেখ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর একই চেতনার অনুসারি পুত্র ডাঃ ফারুক আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী হয়।

আজকে কাশ্মিরি মুসলমানদের দুর্দশার মুলে মুনাফিক শেখ আবদুল্লাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা। যুগে যুগে মুসলমান নামধারী মুনাফিকেরাই মুসলমানদের দুর্দশার মুলে কাজ করেছে।

21 August 2019

৪৭’ এর জম্মুর মুসলমানদের রক্তের কাফফারাই এখন পর্যন্ত কাশ্মীরি মুসলমানরা আদায় করে যাচ্ছে

৪৭’ এর জম্মুর মুসলমানদের রক্তের কাফফারাই এখন পর্যন্ত কাশ্মীরি মুসলমানরা আদায় করে যাচ্ছে

ছবিঃ পুরাতন কাশ্মীরী সভা
দস্তার রাজদরবার।। কাশ্মীরে মুসলমানরা এবারের ঈদ পালন করতে পারেনি, এই সংবাদে অনেকেই ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। কিন্তু ঈদ পালন করার আগে তো মুসলমান হওয়া দরকার, আর কাশ্মীরিরা কি মুসলমান হতে পারবে তওবা করার আগপর্যন্ত? ৪৭-এ এই কাশ্মীরিদের পূর্বপুরুষেরাই মুসলমানের বদলে সেক্যুলার হতে চেয়েছিল, আর মুসলমান হওয়ার অপরাধেজম্মুর মুসলমানদের উপর হিন্দুদের গণহত্যায় ইন্ধন দিয়েছিল তারা।

ইন্টারনেটের কল্যাণে জম্মু গণহত্যা, স্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া ইতিহাস আমরা সবাই কমবেশি জানি। বর্তমান ভারতে জম্মু নামক অঞ্চলটি হিন্দু অধ্যুষিত হলেও দেশবিভাগের আগে তা ছিল মুসলিম অধ্যুষিত, জম্মুর ৬১ শতাংশ জনসংখ্যাই ছিল মুসলমান। সেই জনসংখ্যা রাতারাতি ৩৫% এ নেমে আসে গণহত্যার ফলে। ১৯৫১ সালের আদমশুমারি করতে গিয়ে এজন্য দেখা যায়, জম্মুতে গ্রামের পর গ্রাম কোন মানুষ নেই। ১২৩টি গ্রাম সম্পূর্ণ জনমানবহীন ছিলো, জম্মুর কাঠুয়া জেলার ৫০ শতাংশ মুসলিম গায়েব হয়ে গিয়েছিল। প্রিয়া সাহারা যে মিথ্যাচার করে থাকে, হিন্দুরা হারিয়ে গিয়েছে, কিভাবে হারিয়ে গিয়েছে? হারিয়ে যাওয়া কাকে বলে, তা জম্মু গণহত্যার দিকে তাকালে বোঝা যায়।

এখন প্রশ্ন হলো, জম্মুতে মুসলিমদের গণহত্যা হলেও কাশ্মীরে কেন তা হলো না? এখানেই রয়ে গিয়েছে জম্মু গণহত্যার উত্তর, যা গতানুগতিক লেখায় উঠে আসেনি। জম্মুর মুসলমানরা সেক্যুলার হতে চায়নি কাশ্মিরীদের মতো, যে কারণে তারা একইসাথে শত্রুতে পরিণত হয়েছিল হিন্দুদের এবং সেক্যুলার কাশ্মীরি নেতা শেখ আব্দুল্লাহ ও তার অনুসারী কাশ্মীরি জনগণের।

কাশ্মীরে মুসলমানদের একটিই সংগঠন ছিল, ‘অল জম্মু এন্ড কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্স’, তার দুইজন প্রধান নেতা ছিলে। একজন ছিলেন চৌধুরী গোলাম আব্বাস, যিনি ছিলেন জম্মুর অধিবাসী ও জম্মুর মুসলমানদের নেতা। আরেকজন ছিল শেখ আব্দুল্লাহ, যে ছিল কাশ্মীরের অধিবাসী ও কাশ্মীরি মুসলমানদের নেতা। এই শেখ আব্দুল্লাহ একপর্যায়ে কংগ্রেস নেতা নেহরুর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং সেক্যুলাঙ্গারে পরিণত হয়। সে তার দলটির নাম থেকে মুসলিমশব্দটি বাদ দিয়ে দেয়, নতুন নাম দেয় জম্মু এন্ড কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স। অনেকটা আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম থেকে মুসলিমবাদ দেয়ার মতো।

চৌধুরী গোলাম আব্বাস প্রতিবাদস্বরূপ দল থেকে বের হয়ে যান এবং নিজেই আলাদাভাবে মুসলিম কনফারেন্সগঠন করেন তার ন্যায় মুসলিম চেতনাসমৃদ্ধ নেতাকর্মীদের নিয়ে। এর পর থেকেই জম্মু অঞ্চলটি চৌধুরী গোলাম আব্বাসের নেতৃত্বে মুসলিম কনফারেন্স, এবং কাশ্মীর অঞ্চল শেখ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে ন্যাশনাল কনফারেন্সের ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

শুধু তাই নয়, চৌধুরী গোলাম আব্বাসের সাথে ছিল জিন্নাহর সুসম্পর্ক, আর নেহরুর সাথে শেখ আব্দুল্লাহর দোস্তালি তো আগে থেকেই ছিল। এর ফলশ্রুতিতেই ৪৭ এ জম্মুর মুসলমানদের উপর গণহত্যা চালানো হয়, কারণ জম্মুর জনগণ ছিল মুসলিম কনফারেন্সএর সমর্থক ও চৌধুরী গোলাম আব্বাসের নেতৃত্বে পাকিস্তানে যোগ দিতে আগ্রহী।

তবে শুধু হিন্দু নয়, শেখ আব্দুল্লাহ নামক বেঈমানটিও ছিল এই জম্মু গণহত্যার ইন্ধনদাতা। কারণ জম্মু ছিল মুসলিম কনফারেন্সের ঘাঁটি, সেখানকার নেতা চৌধুরী গোলাম আব্বাস ছিল তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। শেখ আব্দুল্লাহ বেঈমানটি চিন্তা করেছিল, জম্মুকে মুসলিম মুক্ত করতে পারলে ভারতভুক্তির পর তার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে কোনো সমস্যা হবে না। এ প্রসঙ্গে lostkashmirihistory.com ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে-

Soon after taking over as the emergency administrator of the state, Sheikh Abdullah crushed the dissidents in Kashmir. A galaxy of leaders of the Muslim Conference including Aga Showkat Ali, Qureshi Muhammad Yusuf, Yusuf Buch and many others were exiled. Hundreds were jailed. The “Peace Brigade” commonly known as Khuftan Fakirs let loose a reign of terror. Even listening to Radio Pakistan was forbidden. Sheikh Abdullah also allowed the massacre of Jammu Muslims. The massacre had begun in July for a purpose. He expected stiff resistance from Jammu. Earlier the Muslim Conference, headed by Chowdhury Abbas, had passed a resolution seeking accession of Jammu & Kashmir to Pakistan. And, to tame the Jammu Muslims, they were massacred and forced to migrate. Being the head of the administration, Sheikh Abdullah could have prevented the carnage but he did not act because preventing it did not fit anywhere in New Delhi’s scheme of things. Sheikh visited Jammu when it had been cleared of ‘mischief mongers’ only to sent Chowdhury Abbas and Allah Rakha Sagar into exile.

অর্থাৎ কাশ্মীরের তৎকালীন জরুরী অবস্থাজনিত প্রশাসনের দায়িত্ব নেয়ার পরই শেখ আব্দুল্লাহ তার প্রতিদ্বন্দ্বী মুসলিম কনফারেন্সের সব নেতাকর্মীদের জেলে ভরেছিল। জম্মুর মুসলমানদের Tame তথা বশীভূত করতে চালানো হয়েছিল গণহত্যা। এই শেখ আব্দুল্লাহ তখনই জম্মু পরিদর্শনে গিয়েছিল, যখন যাবতীয় ‘Mischief Mongers’ তথা ভারতবিরোধী মুসলমানদের বের করে দেয়া হয়েছিল এবং চৌধুরী আব্বাস ও আল্লাহ রাখা সাগরের মতো নেতাদের নির্বাসিত করা গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পাকিস্তানের অধীনে যে আজাদ কাশ্মীর অঞ্চলটি রয়েছে, তা ভারতের জম্মু অঞ্চলের পাশে একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। জম্মুর মুসলমানরা পূর্ব থেকেই প্রস্তুত থাকায় পাঠান মুজাহিদদের দ্বারা জম্মুর পুঞ্চও সংলগ্ন এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভবপর হয়, যার ফলে উক্ত অংশটি পরবর্তীতে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়।

বর্তমানে যে ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার কথা হচ্ছে, তা ছিল ভারতভুক্তির পর কাশ্মীরে শেখ আব্দুল্লাহর আধিপত্য বিস্তারের চুক্তি। কিন্তু মুসলমানদের সাথে বেঈমানি করা মুনাফিকদেরকে কখনোই আল্লাহ পাক সফলতা দেননি, ইতিহাসের পাতায় তার নজির নেই। ১৯৫৪ সালেই এই শেখ আব্দুল্লাহকে পাকিস্তানের সাথে ষড়যন্ত্রকারীতকমা দিয়ে জেলে ছুঁড়ে ফেলেছিল তার দোস্ত নেহরু, অবশেষে ১৯৭৫ সালে, ২০ বছর পর নেহরুর মেয়ে ইন্দিরার সাথে আজ্ঞাবহ হয়ে থাকার চুক্তি করে তবেই তার পরিত্রাণ মিলেছিল।

সুতরাং ৩৭০ ধারার জন্য আফসোস কেন, কাশ্মীরের মুসলমানরা ঈদের নামায পড়তে পারেনি সেজন্য আফসোস কেন? ঈদের নামায কি মুনাফিকদের জন্য, নাকি মুসলমানদের জন্য? পশ্চিমবঙ্গের জিম নওয়াজ সম্প্রতি জম্মু গণহত্যা নিয়ে একটি লেখা লিখেছে, স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সেখানে সে উল্লেখ করেছে যে, “হরি সিং-এর ডোগরা সেনা, আর এস এস কর্মী, হিন্দু মহাসভার কর্মী, কংগ্রেস নেতা, পাঞ্জাব ও অন্যান্য প্রদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী হিন্দু এবং শিখদের যোগসাজশে জম্মুতে ব্যাপক মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালানো হলেও প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাশ্মীর প্রদেশের মুসলিমরা একজন কাশ্মীরি পণ্ডিতকেও হেনস্থা করেনি, হত্যা দূরে থাক।

অর্থাৎ ভারতীয় মুসলমান হিসেবে জিম নওয়াজ বোঝাতে চেয়েছে যে, কাশ্মীরি মুসলমানরা কতোটা অছাম্প্রদায়িক! আসলে অছাম্প্রদায়িকতা নয়, কাশ্মিরী মুসলমানরা তো গণহত্যার সমর্থক ছিল। সমর্থক ছিল বলেই তারা জম্মুর গণহত্যার প্রতিবাদে কাশ্মীরে একটি হিন্দুর মরামুখও নিশ্চিত করেনি। এখন সেই জম্মুর মুসলমানদের রক্তের কাফফারা, জম্মুর মুসলিম মা-বোনদের ইজ্জতের কাফফারা কাশ্মিরী বেঈমানদের দিতে হবে। না আমি তাদেরকে মুসলিম বলতে রাজি নই, যতক্ষণ তারা না প্রকাশ্যে বলবে আমরা ভুল করেছি, আমাদের পূর্বপুরুষেরা ভুল করেছে। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, আমরা তওবাপ্রার্থী।
জম্মু গণহত্যাঃ স্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া ইতিহাস

জম্মু গণহত্যাঃ স্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া ইতিহাস


চিফ রিপোর্টার।। পেক্টা সান্ট সারভেন্ডা (Pacta Sunt Servanda) হল আন্তর্জাতিক দেওয়ানি আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি। ল্যাটিন ভাষায় লিখিত বাক্যটির মর্মার্থ হল, দুটি পক্ষ একে অপরের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হলে, উভয়পক্ষই চুক্তির শর্তাবলী শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে চলবে। চুক্তির শর্তাবলী ভঙ্গ করলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং উভয়পক্ষের অবস্থান চুক্তির আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

কাশ্মীর সমস্যা, আর্টিকেল 370 এবং 35A ইত্যাদি নিয়ে বিস্তর আলাপ আলোচনা, নানা তর্কবিতর্কের পরেও একথা ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও সত্য যে, স্বাধীনতা অর্জনের পরে ঘটনাবহুল পরিস্থিতির পর্যায়ক্রমে প্রিন্সলি স্টেট কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং শর্তসাপেক্ষে ইন্সট্রুমেন্ট অফ একসেশন সাক্ষর করে কাশ্মীরকে ভারতের সাথে যুক্ত করেন। অর্থাৎ কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয় এবং কাশ্মীর শর্তসাপেক্ষে চুক্তির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়।

বর্তমানে ধারা 35A এবং 370 বাতিলের ফলে ভারত এবং কাশ্মীরের মধ্যে চুক্তি যেহেতু লঙ্ঘিত হয়েছে, সেহেতু ল অফ কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী পরিস্থিতি ইন্সট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশনের আগের মুহূর্তে ফিরে যাবে। অর্থাৎ চুক্তি লঙ্ঘনের পরে আইন অনুযায়ী কাশ্মীর স্বাধীন হয়ে যাওয়ার কথা। ধারা 35A এবং 370 বাতিলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ভারতের সুপ্রিমকোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। রায় বেরলে বোঝা যাবে সে সব মামলার সারবত্তা। যাই হোক, এই নিবন্ধে আলোচনার মূল বিষয় হল- জম্মুতে বীভৎস মুসলিম গণহত্যা এবং জাতিগত নির্মূলকরণ যা খুবই কম চর্চিত হয়েছে বা চর্চিত হয়নি। অথচ এ নিয়ে অনেক তথ্য আছে, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ রয়েছে। রয়েছে ঐতিহাসিক দলিল।

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা লাভের পরে জম্মু ছিল হিন্দু অধ্যুষিত, কাশ্মীর ছিল মুসলিম অধ্যুষিত’- নিখাদ অসত্য এই প্রোপাগাণ্ডা বহুলভাবে প্রচারিত হয়ে থাকে। জম্মু এবং কাশ্মীর কোনো প্রদেশই হিন্দু অধ্যুষিত ছিল না, দুটোই ছিল প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত। সুপ্রিমকোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী এ জি নুরানি তাঁর ‘The Kashmir Dispute, 1947-2012’ বইতে জহরলাল নেহেরু কর্তৃক লর্ড মাউন্টব্যাটনকে লেখা একটি চিঠির সূত্র উল্লেখ করে বলেন, জম্মুর মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৬১ শতাংশ। জম্মুর তৎকালীন ৬১ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা বর্তমানে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ আসলগুলি কী কী? ইতিহাসের আলোকে সঠিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে,  বিপুল পরিমাণে জনসংখ্যা হ্রাসের পিছনে রয়েছে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত ভয়ানক মুসলিম গণহত্যা ও বিতাড়ন। কাশ্মীর সমস্যা, কাশ্মীরিদের উপর নির্যাতন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সময় আবশ্যিকভাবেই কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যা ও বিতাড়নের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর চলা নির্যাতন এবং কাশ্মীর থেকে তাদের বিতাড়ন অবশ্যই ঘৃণিত ও চরম নিন্দনীয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জম্মুতে সংঘটিত লক্ষগুণ ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যার নৃশংসতা ইতিহাসের আড়ালেই রয়ে যায়, রেখে দেওয়া হয়।

১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস নাগাদ জম্মুতে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল, সে সব নিয়ে জানতে গেলে এবং নিহত মুসলমানদের পরিসংখ্যান জানতে হলে তৎকালীন ব্রিটিশ সাংবাদিক, ব্রিটিশ পত্রিকাগুলির দ্বারস্থ হতে হয়।

১৯৪৭ সালের ১৬ই জানুয়ারি হোরাস আলেক্সান্ডার ব্রিটিশ পত্রিকা’The Spectator’-এ উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জম্মুতে নিহত মুসলিমের সংখ্যা ২ লক্ষেরও বেশি।

১৯৪৮ সালের ১০ই আগস্ট বৃটিশ দৈনিক পত্রিকা’The London Times’-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জম্মুতে কমপক্ষে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার মুসলিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

‘The Statesman’ পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদক ইয়ান স্টেফেনসতাঁর ‘Horned Moon’ বইতেও জম্মুতে ২লক্ষের বেশি মুসলিম নিধনের পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছেন।

ব্রিটিশ সাংবাদিকদের লেখালেখিতে উল্লেখিত পরিসংখ্যান থেকে একথা পরিষ্কার যে, জম্মুতে অন্ততপক্ষে ২ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজারের কাছাকাছি মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ব্রিটিশ সাংবাদিক ছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শী জম্মুর সাংবাদিক বেদ ভাসিন এবং অল্পকিছু সাংবাদিক জম্মু গণহত্যা নিয়ে সোচ্চার হন, লেখালেখি করেন। অবশ্য এজন্য বেদ ভাসিনকে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হল, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কারা ছিলেন?

স্বাধীনতা অর্জনের পরেপরেই অন্যান্য অধিকাংশ প্রিন্সলি স্টেটের মতো কাশ্মীর ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেয়নি বলে অনেকেই কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং-কে স্বাধীনচেতা মহান হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অথচ মহারাজা হরি সিং ছিলেন আদ্যোপান্ত একজন ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারী এবং জম্মু গণহত্যার অন্যতম প্রধান নায়ক। ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতেই তিনি ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেননি। ক্ষমতা সুনিশ্চিত করতে তিনি তার ডোগরা সেনাদের দিয়ে নির্বিচারে মুসলিম গণহত্যা চালিয়েছিলেন। জম্মুতে সংঘটিত মুসলিম গণহত্যার জন্য মহারাজা হরি সিং-কে দায়ী করে  ১৯৪৭ সালের ২৫শে ডিসেম্বর মহাত্মা গান্ধী বলেন, “জম্মু এবং জম্মুর বাইরে থেকে আসা হিন্দু ও শিখরা  নির্বিচারে জম্মুর মুসলিমদের হত্যা করেছে। মুসলিম নারীদের অসম্মান করেছে। এজন্য দায়ী মূলত মহারাজা হরি সিং।

মহারাজা হরি সিং আশঙ্কা করেছিলেন, কাশ্মীর মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় ভবিষ্যতে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন। সেজন্য তিনি যেনতেনপ্রকারেণ অন্ততপক্ষে জম্মুকে কুক্ষিগত রাখতেই এই নির্মম গণহত্যা চালিয়েছিলেন এবং জাতিগত নির্মূলকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ‘Being the Other: The Muslim in India’ বইতে লেখক সাঈয়েদ নাকভি ১৯৪৯ সালের ১৭ই এপ্রিল বল্লভভাই প্যাটেলকে লেখা জহরলাল নেহেরুর চিঠির সূত্র উল্লেখ করে বলেন, হরি সিং সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে জম্মুকে নিজেদের অধীনে রাখতে চেয়েছিলেন, নেহেরু ও বল্লভভাই প্যাটেলকে সেকথা তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন।

অন্য প্রদেশের মানুষ কাশ্মীরে জমির দখল নিতে পারবেন না, এই আইন ১৯২৬ সালে মহারাজা হরি সিং নিজেই তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কাশ্মীর স্বাধীন হওয়ার পরে তারই উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে পাঞ্জাব এবং সীমান্তবর্তী প্রদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু ও শিখরা জম্মুতে এসে বসবাস শুরু করে। সেই সঙ্গে মহারাজা হরি সিং জম্মুর মুসলমান-প্রজাদের উপর নানাবিধ কর আরোপ করেন। করের এ হেন বোঝা চাপানো ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে স্থানীয় মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷ অন্যদিকে একইসময়ে ডোগড়া সেনা অফিসার পদ থেকে মুসলিমদের অপসারণ করা হয় এবং মুসলিম সেনাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে বলা হয়। এরপর হরি সিং এর ডোগড়া বাহিনী বিক্ষোভকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওই সময় জম্মুর উধমপুর, ছেনানি, রামনগর, রিয়াসি, বাদেরওয়া, ছাম্ব, দেবা বাটালা, আখনুর, কাটুয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আবালবৃদ্ধবনিতা বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আনুমানিক ২৭০০০ মুসলিম মহিলাকে অপহরণ ও ধর্ষণ করা হয়। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে জম্মুর ১১৩টি গ্রামকে জনমানবহীন করে দেওয়া হয়। যারা বাড়িঘর ছেড়ে পাকিস্তান দখলকৃত সীমান্তের দিকে রওয়া হয়েছিলেন, তাদেরও অনেককেই ধরে ধরে হত্যা করা হয়। গণহত্যা চলাকালীন কার্ফু জারি করা হয়েছিল, তবে সেগুলি ছিল মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলির জন্য, মুসলিমদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে। অন্যদিকে হত্যাকারীরা বাধাহীনভাবে খোলা অস্ত্র হাতে নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছে এবং হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে গেছে।

প্রখ্যাত সাংবাদিক বেদ ভাসিন-এর মতে, জম্মুর মুসলিম নিধনে ডোগরা সেনাদের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আর এস এস) কর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। এমনকি এই হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গেও আর এস এস, হিন্দু মহাসভার মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি যুক্ত ছিল। এছাড়া তৎকালীন বহু কংগ্রেস নেতাও এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন, পরবর্তী কালে যাঁদের কেউ কেউ মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন।

জম্মুর বৃহৎ বীভৎস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল পাকিস্তানি পাঠানদের জম্মু কাশ্মীর আক্রমণের পাঁচদিন এবং ইন্সট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন সাক্ষরের নদিন আগে। সাংবাদিক বেদ ভাসিন-এর মতে, হরি সিং-এর ডোগরা সেনা, আর এস এস কর্মী, হিন্দু মহাসভার কর্মী, কংগ্রেস নেতা, পাঞ্জাব ও অন্যান্য প্রদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী হিন্দু এবং শিখদের যোগসাজশে জম্মুতে ব্যাপক মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালানো হলেও প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাশ্মীর প্রদেশের মুসলিমরা একজন কাশ্মীরি পণ্ডিতকেও হেনস্থা করেনি, হত্যা দূরে থাক। সেই সময়ে কাশ্মীরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছিল সম্পূর্ণ অটুট। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ক্ষমতালোভী মহারাজা হরি সিং-কে সঙ্গে নিয়ে হিন্দুত্ববাদী সঙ্ঘ পরিবার এবং হিন্দু মহাসভা ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালিয়ে, বিতাড়ন করে জম্মুর সংখ্যাগুরু মুসলিমদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করে জম্মুতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। বর্তমানে সঙ্ঘ পরিবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাশ্মীর থেকে 35A এবং 370 তুলে দিয়ে তাদের পূর্বপরিকল্পিত, পূর্বরচিত বৃত্তই সম্পন্ন করলো কিনা সেকথা সময়ই বলবে।

তথ্যসূত্রঃ
1) Being the Other: The Muslim in India- Saeed Naqvi.
2) The killing field of Jammu- How muslims become a minority in the region- Saeed Naqvi , Scroll In.
3) The Kashmir Dispute, 1947-2012- A.G Noorani.
4) WHY JAMMU ERUPTS- A.G Noorani, Frontline.
5) The forgotten massacre that ignited the Kashmir dispute- Rifat Fareed, ALJAZEERA.
6) The forgotten Poonch uprising of 1947- Christopher Snedden.

শেষ করার আগে পশ্চিমবঙ্গের জিম নওয়াজ এর এই কোটেশন দিয়ে শেষ করছি। সে লিখেছে "কাশ্মীর সমস্যাকাশ্মীরিদের উপর নির্যাতন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সময় আবশ্যিকভাবেই কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যা ও বিতাড়নের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর চলা নির্যাতন এবং কাশ্মীর থেকে তাঁদের বিতাড়ন অবশ্যই ঘৃণিত ও চরম নিন্দনীয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জম্মুতে সংঘটিত লক্ষ গুণ ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যার নৃশংসতা ইতিহাসের আড়ালেই রয়ে যায়রেখে দেওয়া হয়"

24 July 2019

শোনতে খারাপ লাগলেও ইহাই সত্য যে মুসলমানের নাতি আজ বৃটিশ ইহুদি প্রধানমন্ত্রী

শোনতে খারাপ লাগলেও ইহাই সত্য যে মুসলমানের নাতি আজ বৃটিশ ইহুদি প্রধানমন্ত্রী

ছবিঃ (বামে) ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী (মাঝে) ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর (ডানে উপরে) বরিসের পরদাদা (ডানে নিচে) বরিসের বাবা আলী কেমাল।
আব্দুল বাতেন মিয়াজী॥ বরিস জনসন, নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। শুনে না থাকলে আন্তর্জাতিক খবরে কান পাতুন, এখন থেকে অহরহ এ নামটি শুনতে পাবেন। সে এখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সে সর্বোচ্চ ভোটে এ পদের জন্য মনোনীত হয়। তার পরদাদা ছিলেন একজন টার্কিশ মুসলমান। আধুনিক এবং সেক্যুলার মুসলমান। সেক্যুলার বলে পরিচয় দিতে পারলে আমাদের দেশসহ আরবের অনেক মুসলিমই নিজেকে ধন্য মনে করে। মনে করে তার ভেতরে আধুনিকতা প্রবেশ করেছে। আমাদের দেশে তো আধুনিক ও সেক্যুলার হওয়া মানে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ঝেড়ে ফেলে দিয়ে হিন্দুদের মতো করে কথা বলা, চলতে শেখা, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ভুতপ্রেতের কাছে সাহায্য চাওয়াকে বোঝায়। ফলে নামায-রোযা করা মানুষকে সেকেলে, আনকালচার্ড, গোড়া, মৌলবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল বলে অবহেলা করার একটা মানসিকতা আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

কে এই বরিস জনসন? উইকিপেডিয়াতে গেলেই এর চৌদ্দপুরুষ সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনাদেরকে সহজ করে এর পেছনের বংশাবলী একটু তুলে ধরছি।

এই বরিসের দাদা ছিলেন একজন মুসলমান, সেক্যুলার মুসলমান। তার বাবা ছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ সময়ের একজন মন্ত্রী। পরে স্বাধীনতা কামিদের দ্বারা তিনি নিহত হন। নাম তার আলী কেমাল। এটি আরবি নাম কামালের টার্কিশ রূপ। তিনি বিয়ে করেছিলেন এক সুইস খৃষ্টান মহিলাকে। উইনিফ্রেড ব্রুন জনসন। ১৯০৯ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের গোলযোগের কারণে তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং এর কিছুদিন পরই তার স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান জন্ম দিয়ে মারা যান। সন্তানের নাম রাখেন উসমান। উসমানীয় সাম্রাজ্যের টালমাটাল অবস্থায় তার পক্ষের লোকজন সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদকে ক্ষমতা থেকে সরালে আলী কেমাল তুরস্কে ফিরে যান। তার দুই সন্তান সেলমা এবং উসমান নানির কাছে বড় হতে থাকে। এক সময়ের মুসলমান নামিয় উসমান ঝরে পড়ে এবং কেবল উইলফ্রেড জনসন নামে পরিচিত হতে থাকে। সেই বরিসের দাদা।

বরিসের বাবা বিয়ে করে রাশিয়ান এক ইহুদি আর্টিস্টকে। ইহুদি এবং খৃষ্ট-মুসলমানের ঘরে জন্ম নেয় আজকের বরিস। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় সে ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এবং এখন থেকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। তার মুসলিম বিদ্বেষ জনবিদীত এবং বহুল আলোচিত। দেখা যাক মুসলমানদের জন্য কি অপেক্ষা করছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র পুত্রবধু আমেরিকান ইহুদি। আর ইহুদীদের রীতি অনুযায়ী সন্তান মায়ের পরিচয় ও ধর্ম গ্রহণ করে। মানে এদের সন্তান ইহুদি হিসেবে পরিচিতি পাবে। প্রধানমন্ত্রীর বোনের মেয়ে বিয়ে করেছে ইংল্যান্ডের একজন খৃষ্টানকে। টিউলিপ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন এমপি। আজ থেকে হয়তো ৫০ বছর পর কেউ লিখবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কিংবা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিংবা উলটোটাও হতে পারে। এখন থেকে ২৫ বছর পরে সংবাদ ছাপা হতে পারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলিয় নেতা আমেরিকান ইহুদি কিংবা ব্রিটেনের খৃষ্টান বংশোদ্ভূত। আজকে যারা বাংলাদেশে নিজেদেরকে সেক্যুলার হিসেবে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করছেন তাদের নাতিপুতিরা একদিন ইহুদি বা খৃষ্টান বা হিন্দু হয়ে ফিরে আসলে অবাক হবেন না। মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে এবং আমাদের সন্তানদেরকে হেফাজত করুন এবং ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। এ রহমত থেকে যেন আমরা বঞ্চিত না হই।