Showing posts with label বরিশাল বিভাগ. Show all posts
Showing posts with label বরিশাল বিভাগ. Show all posts

16 August 2019

বরগুনার আসল "বন্ড" সুনাম দেবনাথ, সরকার দলীয় হিন্দু এমপিপুত্র বলেই কি তবে নিরব প্রশাসন!

বরগুনার আসল "বন্ড" সুনাম দেবনাথ, সরকার দলীয় হিন্দু এমপিপুত্র বলেই কি তবে নিরব প্রশাসন!


তোহুর আহমদ।। প্রশাসনের নাকের ডগায় পর্দার আড়ালে ০০৭ বাহিনী এখনো পুরোদমে সক্রিয়, নেতৃত্বে জন আলম। বন্দি মিন্নির চেয়ে মুক্ত মিন্নিকে নিয়ে অনেকেরই ভয়ে ঘুম হয়নি। নাম তার মঞ্জুরুল আলম জন ওরফে জন আলম। আলোচিত গ্যাং ০০৭ বন্ড গ্রুপের অন্যতম মূল হোতা। বরগুনা শহরের সবচেয়ে বড় মাস্তানও সে। চাঞ্চল্যকর রিফাত শরিফ হত্যাকাণ্ডের ৮ দিন পর সে অজ্ঞাত স্থানে গা ঢাকা দেয়।

তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছেও কোনো তথ্য নেই। জনের মোবাইল ফোনের সুইচ অফ। এমনকি তার ফেসবুক আইডিও এখন বন্ধ।

এদিকে নয়ন বন্ড হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বর্তমানে কারাগারে আছে। কয়েক দফা চেষ্টা করেও তার আইনজীবীরা জামিন করাতে পারেননি তাকে।

তবে এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন, মিন্নি কারাগার থেকে ছাড়া পেলে অনেকের আসল চরিত্র ফাঁস হয়ে যেতে পারে। এমন আশঙ্কায় মুক্ত মিন্নিকে নিয়ে প্রভাবশালীদের কেউ কেউ টেনশনে আছে।

সূত্র বলছে, বরগুনার মাদক জগতে জন আলম এক অতি পরিচিত নাম। সে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর রইসুল আলম রিপনের ছেলে।

তবে জনের সবচেয় বড় পরিচয় সে স্থানীয় উগ্রপন্থী হিন্দু সংসদ সদস্যের ছেলে সুনাম দেবনাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অনেকে বলে, জন আলম আসলে সুনামের ডান হাত। তার ক্ষমতা ও প্রভাবের পেছনে আর কেউ নয়। রয়েছে খোদ এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ। দিনের বেশিরভাগ সময় জন ও সুনামকে একসঙ্গেই চলাফেরা করতে দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আপনারা অনুসন্ধান করে দেখেন। শহরের মাস্তান হিসেবে অনেক যুবকের নামও শুনতে পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হল, সব মাস্তানের বসএকজনই। সে শম্ভু বাবুর (স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) ছেলে সুনাম। বরগুনার এক নম্বর মাতব্বরও সে। বলা যায় সে বরগুনার আসল বন্ড। মাদক ব্যবসা থেকে সন্ত্রাসীদের শেল্টারদাতা সবকিছুতেই তার নাম আছে। তবে প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস স্থানীয় কারও নেই।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর নেপথ্যের কুশীলবদের অনেকের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। সুনাম দেবনাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জন আলমকেও খুঁজছে পুলিশ।

ক্রসফায়ারে নিহত সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ডের গুরু হিসেবে পরিচিত ছিল এই জন আলম। এছাড়া সুনাম দেবনাথের ঘনিষ্ঠ হিসেবে আরও এক যুবকের নাম স্থানীয়দের মুখে মুখে ফিরছে। তার নাম শাওন ওরফে শাওন তালুকদার। তার পিতা সুবল তালুকদার বর্তমানে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক।

সূত্র বলছে, সুনাম দেবনাথ এমনিতে ভালো ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু তাকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার মূলে যে কয়কজনের হাত আছে তাদের মধ্যে এক নম্বরে আছে শাওন তালুকদার।

শহরের হাইস্কুল সড়কে নিজেদের বাড়ি হলেও শাওন থাকে ডিকেপি রোডের ভাড়া বাড়িতে। দৃশ্যমান আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও সে ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে যায়। মোবাইল সিমকার্ডের ব্যবসার আড়ালে মাদক হল তার আসল ব্যবসা। এ তথ্য বরগুনা শহরে প্রায় সবারই জানা। শহরের কলেজ রোডে শ্বশুর বাড়ি হওয়ার সুবাদে নয়ন বন্ডের সঙ্গে শাওন তালুকদারের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

সূত্র বলছে, শাওন তালুকদার এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের শেল্টারে ধীরে ধীরে বড়সড় মাদকের ডিলারে পরিণত হয়েছেন। শাওন একা নয়, তার আরও দুই চাচাতো ভাই তুষার ও অভি তালুকদারের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তর অভিযোগ আছে। এদের মধ্যে অভি তালুকদার একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জেল খাটে। এখনও তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন।

বরগুনার আলোচিত ০০৭ বন্ড গ্রুপের সাবেক এক সদস্য যুগান্তরকে বলে, জনের আস্তানা ছিল পৌর মার্কেটের দোতলায়। ছাদের অংশবিশেষ অবৈধভাবে দখল করে সে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করে। যেখানে রয়েছে তার ডিশ ব্যবসা।

কিন্তু ডিশ ব্যবসার আড়ালে এখান থেকেই মূলত শহরের নানা সন্ত্রাসী তৎপরতা ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হতো। জনের এ বিশেষ আস্তানায় ঘন ঘন যাতায়াত ছিল সুনাম দেবনাথের। এজন্য আস্তানার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সাজসজ্জায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা খরচ করে জন।

শাওন, জন ও সুনাম দেবনাথ এ তিনজনের সঙ্গেই নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠতা ছিল। নয়ন ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পরপরই জন আলম ঢাকায় চলে গেছে। শাওন ও অভি তালুকদারও গা ঢাকা দেয়। এখন তাদের আগের মতো শহরে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় না।

সূত্র বলছে, রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর জন আলমের খোঁজে পৌর মার্কেটের ছাদে কয়েক দফা লোক দেখানো অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলছেন, হত্যাকাণ্ডের পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় জন আলম বরগুনাতেই ছিল।

সে সময় পুলিশ তাকে ইচ্ছে করেই ধরেনি। এমনকি তার খোঁজও নেয়নি। কিন্তু রিফাত হত্যার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। একপর্যায়ে পুলিশই তাকে নিরাপদে অন্যত্র সরে পড়ার পরামর্শ দেয়।

রিফাত শরীফ হত্যকাণ্ডের পর স্থানীয় এমপি শম্ভুর বিরোধী পক্ষ হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি দেলোয়ার গ্রুপের লোকজনও এখন কোণঠাসা। কারণ দেলোয়ার হোসেনের আপন ভায়রা দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে খুনের আসামি হিসেবে এখন জেলে। এ দুলাল ফরাজীর বিরুদ্ধেও অভিযোগের অন্ত নেই। বরগুনা শহরে সে বিশাল ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

সূত্র বলছে, নয়ন বন্ডের ০০৭ গ্রুপের সদস্য না হলেও জেলার অন্যতম দাপুটে যুবক হিসেবে ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিকের নাম আছে প্রথম সারিতে। রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করে অনিক।

তবে রিফাত হত্যা মামলায় তার ঘনিষ্ঠভাজন চন্দন ওরফে তোতলা চন্দন গ্রেফতার হলে বেকায়দায় পড়ে অনিক। এরপর থেকে সে অনেকটাই চুপচাপ হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে রিফাত হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নয়ন বন্ডকে শেল্টার দিত এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ নিজে। তবে মামলার সব আসামি সুনাম দেবনাথের লোক নয়।

পুলিশের হাতে যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের মধ্যে অন্তত তিনজন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভির হোসেন গ্রুপের ছেলে বলে পরিচিত। এদের মধ্যে রিফাত, রিশান ও রাব্বি আকন অন্যতম।

অবশ্য পুলিশ বলছে জেলার ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি অনিক ও সাধারণ সম্পাদক তানভিরের বিরুদ্ধে সরাসরি মাদক ব্যবসার অভিযোগ নেই। সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগও অন্যদের তুলনায় অনেক কম। তবে তানভিরের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ আছে। তার মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

মাদক ব্যবসা যাদের নিয়ন্ত্রণেঃ তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বরগুনার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই জেলা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের শেল্টারে চলাফেরা করেন। এরা হলেন চরকলোনির হাকিম মৃধা ওরফে হাকিম কন্ট্রাকটরের ছেলে সানি মৃধা, প্রিন্স ওরফে ড্যাফোডিল প্রিন্স ওরফে ধানসিঁড়ি রোডের প্রিন্স, আসাদ জামান ওরফে কবি আসাদ, বাগান বাড়ি লেকপাড়ের মাওলা মীরের ছেলে অয়ন মীর, কাঠপট্টির মাহবুব, জন আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিমেল, শিবা, প্রত্যয় প্রান্ত, সানজিদ, কালীবাড়ির কালা রাজু ওরফে তারাকান্দা রাজু, নিরব হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে মাদক ব্যবসায়ী চোরা রাজিবের বড় ভাই সোহেল, জাহাঙ্গীর ওরফে পঙ্গু জাহাঙ্গীর, ৪ নম্বর ইউনিয়নের ডৌয়াতলার ইমরান, কলেজ রোডের ফুলের দোকানের সমীর, লাকুরতলার শুভ ওরফে শুভ খান, কাঠপট্টির জিন্নাত খান, মনির, রানা সিনহা ও রায়ভোগ চৌমুহনীর রাজা মেম্বার। এদের বেশিরভাগই আগে সুনাম দেবনাথের গ্রুপের সঙ্গে ঘোরাফেরা করলেও অনেকে এখন নতুন গ্রুপ তৈরি করেছে। আবার কেউ কেউ সুনামের গ্রুপ ছেড়ে অন্য গ্রুপে যোগ দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, অঢেল টাকার কারণে এরা সব সময়ই প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থাকে। তাছাড়া মাদকের অনেক সিন্ডিকেট। সব সিন্ডিকেট রাজনীতিকদের নিয়ন্ত্রণে নেই। বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ ও স্থানীয় ধনাঢ্য বক্তিরা। বরগুনার তালতলী এখন মাদকের অন্যতম মূল পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। কক্সবাজার থেকে সড়ক পথে ইয়াবার চালান ঢুকতে অসুবিধা হওয়ায় এখন রুট বদলে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে নৌপথে আসছে চালান। বরগুনা শহরে ইয়াবা ঢোকার ক্ষেত্রে ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের গোলবুনিয়া হচ্ছে ট্রানজিট পয়েন্ট। রাতারাতি ধনী হওয়ার নেশায় বরগুনার অনেক রাজনীতিক নেতাও এখন মাদক ব্যবসায় ভিড়ে গেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা আফসোস করে বলে, আমার জানামতে শম্ভু বাবু জীবনে কখনও মাদককে শেল্টার দেয়নি। সে নিজে একটা পানও খায় না। কোনোদিন এক টুকরো সুপারি পর্যন্ত মুখে দেয়নি। অথচ তার ছেলের বিরুদ্ধে এখন মাদক ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্য প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। এটা সত্যিই দুঃখজনক। স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরেক নেতা বলেন, সুনাম দেবনাথ শম্ভু বাবুর একমাত্র ছেলে। এমপির ছেলে হিসেবে সে ততটা খারাপ না হলেও তার আশপাশে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের ওঠাবসা আছে। আজেবাজে ছেলেপেলের সঙ্গে চলাফেরার জন্য বাবা হিসেবে শম্ভু বাবু ছেলেকে অনেক বকাঝকাও করেছে। কিন্তু ছেলে বড় হয়েছে। তাকে সব সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ছেলের কর্মকাণ্ডে শম্ভু বাবু নিজেও কিছুটা অসন্তুষ্ট।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে বলে, ‘জন আলম এবং শাওন তালুকদার দুজনই তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে তার চেয়েও বড় কথা, জন আলম নিহত রিফাত শরিফের সব থেকে কাছের বন্ধু ছিলো। রিফাতকে রক্তাক্ত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে নিয়ে যায় জন আলম।সে আরও বলে, ‘নিহত রিফাত আমাদের রাজনৈতিক কর্মী ছিল। স্বাভাবিক কারণেই আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। কিন্তু আমার প্রতিবাদকে রাজনৈতিক রং দেয়া হল। একটি পক্ষ মিন্নির বাবাকে দিয়ে আমাদের নাম বলিয়েছে। যাতে তারা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে আমার বাবার বয়স হয়েছে। আগামীতে তিনি হয়তো রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। তার ছেলে হিসেবে আমাকেও যদি মাইনাস করা যায় তাহলে তাদের পথ পরিষ্কার হয়ে যাবে। এ জন্যই আমাকে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে।

02 August 2019

বরগুনার হিন্দু এমপি পুত্র সুনামের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছিল ভয়ংকর ‘ইয়াবা ডন’ নয়ন বন্ড

বরগুনার হিন্দু এমপি পুত্র সুনামের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছিল ভয়ংকর ‘ইয়াবা ডন’ নয়ন বন্ড


স্টাফ রিপোর্ট।। বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যার মূল হোতা সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড ছিল শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক ও পুলিশ প্রশাসনের প্রশ্রয়ে এলাকার ছিঁচকে চোর থেকে স্বল্প সময়েই ভয়ঙ্কর ইয়াবা ডনহয়ে উঠে নয়ন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের সঙ্গে নয়ন বন্ডের ছিল নিয়মিত যোগাযোগ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার এমপি পিতার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বরগুনা শহরে কান পাতলেই ভেসে আসে মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের নাম। অনেক মাদককারবারির সঙ্গেই সুনামের ওঠবসের চিত্র পাওয়া যায়। নয়ন বন্ডও ছিল সুনামের লোক। সুনামের চাচাতো শ্যালক অভিজিত তালুকদারের সঙ্গেও নয়নের যাতায়াত ছিল সুনামের অফিস-বাসায়।

২০১৭ সালের শেষ দিকে বিপুল মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় নয়ন। ওই একই রাতে পুলিশ অভিযান চালায় কলেজ রোডে সুনাম দেবনাথের প্রতিষ্ঠান সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশনের অফিসে। পুলিশ যখন ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, তখন পেছন দিয়ে পালিয়ে যায় দুই-তিনজন।

বলাবলি হচ্ছে- ওই অফিসে যদি অপরাধ কর্মকাণ্ড নাই-ই ঘটবে তা হলে কেন তাদের পালিয়ে যেতে হলো?’ তার পর বন্ধ হয়ে যায় সুনাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘রিফাত হত্যার পর সুনামই গণমাধ্যমে বলেছেন, রিফাত তাদের কর্মী ছিল। রিফাতকে অনেক ভালোবাসত।

স্থানীয়রা জানান, নিহত রিফাত শরীফও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। রিফাত হত্যার পর আলোচনায় আসে নয়ন বন্ডের ০০৭ গ্রুপটিম সিক্সটিনামের দুটি গ্রুপ। টিম সিক্সটির প্রধান হচ্ছে মঞ্জুরুল আলম জন। জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকের পাইকারি বাণিজ্যের অভিযোগ।

জনের বাবা রইসুল আলম রিপন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এই নয়ন ও জনের সঙ্গে সুনামের অনেক ঘনিষ্ঠ ছবি রয়েছে। সুনামের ছত্রছায়ায় এভাবেই ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যায় নয়ন।

কথিত বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ডের মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। সাব্বির আহমেদ থেকে নয়ন বন্ড হয়ে উঠার পেছনে কাজ করেছে বরগুনার রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসন। এ দুটির প্রশ্রয়েই ছিঁচকে চোর থেকে ভয়ঙ্কর অপরাধী হয়ে উঠে নয়ন বন্ড। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে- প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও স্থানীয়রা সেটি মানতে নারাজ। তারা বলছেন, নয়ন বন্ডকে মেরে ফেলাহয়েছে। নয়ন গ্রেফতার হলে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যেত- এ কারণেই তাকে হত্যাকরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় পুলিশের অনেক অসাধু কর্মকর্তার কুর্কীতিও সামনে চলে আসত নয়ন বেঁচে থাকলে।

স্থানীয়রা বলছেন, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের জেরে নয়ন বন্ড রিফাত শরীফকে খুন করেছে এটি যেমন সত্য, ঠিক তেমনি সত্য হচ্ছে- নয়নের বন্ডহয়ে উঠার পেছনে উগ্রবাদী হিন্দু এমপিপূত্র সুনামই দায়ী।

অন্য অপরাধীর মতো নয়নের উত্থানটাও ছিল বেশ চমকের। নয়নের একসময়ের সহপাঠীরা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে সুনাম দেবনাথ ও থানার কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার আশকারায় সাব্বির আহমেদ থেকে নয়ন বন্ড হয়ে উঠে সে।

নয়নের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর স্থানীয় এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ এবং তার চাচাতো শ্যালক শাওন তালুকদার ও অভিজিৎ তালুকদারের সঙ্গে নয়নের সখ্য গড়ে ওঠে। অভিজিৎ ও নয়ন একসঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়। তখন বিভিন্ন ছাত্রাবাসে গিয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়া, চাঁদাবাজি ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়া ছিল তাদের নিয়মিত কাজ।

তাদের আশ্রয়ে ছিঁচকে চোর থেকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হয়ে উঠে নয়ন। মাদক, নারী, অবৈধ টাকা এসবের সঙ্গে ছিল তার নিত্য আনাগোনা। নিজের বাংলোয় (বিশেষ কক্ষ) ডেকে নিয়ে বহু তরুণীর সর্বনাশ করেছে নয়ন। নারীর পাশাপাশি মাদক নেশায়ও বুঁদ হয়ে পড়েছিল নয়ন।

সন্ত্রাসের পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসায় ছিল তার বড় ভাগ। এসব অপরাধের মধ্য দিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে এলাকার নেতৃস্থানীয়দের নজরে চলে নয়ন। তার সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে এলাকার রাজনৈতিক মহলের। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও নয়নের ওঠবস ছিল চোখে পড়ার মতো।

নয়নের একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নূর হোসেন জানান, বাবার মৃত্যুর কিছু দিন পর প্রেমে বিচ্ছেদ হয়। এর পর নয়ন গাঁজা সেবন শুরু করেন। ২০১১ সালে মাধ্যমিক পেরোনোর আগেই সে ইয়াবা ও হেরোইনে আসক্ত হয়ে পড়ে। তখন মাদকের টাকা জোগাতে মানুষের মুঠোফোন, গহনা ছিনিয়ে নেয়ার মতো ছিঁচকে অপরাধ শুরু করে।

মাদকের টাকার জন্য নয়নের এমন অপরাধ দিন দিন বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটি মামলা হয়। ভুক্তভোগীরা তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে নয়নের বিষয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেন। নয়নও তখন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরাদ হোসেইনের হাত ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়।

নয়নের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর সুনাম দেবনাথ এবং তার চাচাতো শ্যালক শাওন তালুকদার ও অভিজিৎ তালুকদারের সঙ্গে নয়নের সখ্য গড়ে ওঠে। অভিজিৎ ও নয়ন একসঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয় তখন বিভিন্ন ছাত্রাবাসে গিয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়া, চাঁদাবাজি ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়া ছিল তাদের নিয়মিত কাজ।

হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ০০৭ লাইসেন্সর নায়কের নামানুসারে নিজের নামের সঙ্গে বন্ডযুক্ত করে নয়ন। এর পর সিনেমাটির গল্পের আদলে গড়ে তোলে সন্ত্রাসী বাহিনী।

নয়নের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নয়নের ঘরে সাদা দেয়ালে লাল রঙ দিয়ে এক জায়গায় লেখা ০০৭ (নয়নের সন্ত্রাসী গ্রুপের সাংকেতিক নাম)।

প্রসঙ্গত ০০৭ লাইসেন্সএকটি বিখ্যাত হলিউড সিনেমা সিরিজ। সিনেমার মৌলিক গল্প অনুযায়ী ০০৭ হচ্ছে মানুষ হত্যার লাইসেন্স। এতে যে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করে, তার নাম জেমস বন্ড।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, এই ছবি দেখে নয়ন বিশেষভাবে প্রভাবিত হয় এর পর নিজেকে ০০৭ লাইসেন্সসিনেমার নায়ক ভাবতে শুরু করে। একপর্যায়ে নিজের নামের সঙ্গে নিজেই যুক্ত করে দেয় বন্ডশব্দটি এবং একই সঙ্গে গড়ে তোলে ০০৭ নামের সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনী নয়নের হুকুমে চলত। তার নির্দেশমতো অপকর্ম করে বেড়াত।

পুলিশের সঙ্গে ছিল নয়নের নিত্য ওঠাবসা। শহরের বাসিন্দারা এমনও বলছেন, নয়ন চাইলে যে কাউকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি বা গ্রেফতার করাতে পারত। নয়ন কাজ করত পুলিশের বিশ্বস্ত সোর্স হিসেবে।

সন্ত্রাসের পাশাপাশি নারী নেশায় বুঁদ ছিল নয়ন। নয়ন বন্ডের হাতে ঠিক কতজন তরুণীর সর্বনাশ হয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই পুলিশের কাছেও। তবে নয়নের বিশেষ কক্ষথেকে উদ্ধার একটি ল্যাপটপে বহু পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে।

কয়েকটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পর্নো ভিডিওতে নয়ন বন্ডের সঙ্গে একাধিক তরুণীর বিশেষ মুহূর্তের দৃশ্য রয়েছে। একেক দিন একেক তরুণী নিয়ে সে যে ফুর্তিতে মেতে উঠেছিল তা স্পষ্ট।

পুলিশের সূত্র বলছে, নয়ন বন্ডের ওই বিশেষ কক্ষের গোপন জায়গায় সুকৌশলে আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট ক্যামেরা) বসানো থাকত।

বিশেষ উদ্দেশে নয়ন বন্ড যাদের ওই কক্ষে আনত তারা কেউ ক্যামেরার অস্তিত্ব টের পেতেন না। একবার নয়নের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার পর ওই মেয়ের আর রক্ষা ছিল না।

ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বারবার কিশোরী- তরুণীদের ব্যবহার করত সে। অনেক তরুণী নয়নের হাত থেকে বাঁচতে কলেজ পর্যন্ত ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

অনেকে আবার নয়নের চাহিদামতো মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। পুলিশের হাতে এমন অন্তত ১২ তরুণীর তথ্য আছে বলে জানা গেছে।

নয়ন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে বা কারা এসব ভিডিও ছড়াচ্ছে তার সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ।

নয়ন বন্ডের বাড়ি বরগুনা শহরের ডিকেপি রোডের মাঝ বরাবর একটি সরু গলির শেষ প্রান্তে। বাড়ির সামনে অনেকটা জায়গা খালি।

বাড়ি নির্মাণের জন্য সম্প্রতি সেখানে অনেক ইট এনে রাখা হয়েছে। নয়নের বাড়ির মূল দরজার পাশেই একটা ছোট্ট বৈঠক ঘর। নয়ন সেখানেই থাকত। গভীর রাত পর্যন্ত ঘরের দরজা খোলা থাকত। সারা দিন এখানে-সেখানে ঘোরাঘুরির পর গভীর রাতে বাড়ি ফিরত।

রাত ১২টার পর তার কক্ষে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যেত। আসতেন পুলিশের সদস্যরাও। প্রতিবেশীরা বলছেন, পুলিশের কয়েকজন অসাধু সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা নয়নকে ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছে। শহরের অনেকেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের চেনে- জানে। কিন্তু কেউ-ই মুখ খুলতে নারাজ।

শহরের বাজার রোডের আরেক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, নয়নের মনোরঞ্জনে ব্যবহৃত অনেক তরুণীকে পরে পুলিশের মনোরঞ্জনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা শোনা গেছে। বিনিময়ে পুলিশের উদ্ধার করা মাদকের ভাগ পেত নয়ন।

এ বিষয়ে সুনাম দেবনাথ বলছে, রাজনীতি করি, বহু মানুষের সঙ্গেই ছবি আছে। তার মানে কি এই যে, তারা চোর হলে আমিও চোর? খবরের কাগজগুলোতে আমার সম্পর্কে যেসব লেখা হচ্ছে তা দেখছি প্রতিদিন। আমার বিষয়ে লেখা হচ্ছে- জানা গেছে’, ‘শোনা গেছে’, ‘একটি সূত্র বলেছেএসব। আরে ভাই সূত্রটা কে, তা লিখুন। সাংবাদিকতা তো এখন অনেকদূর এগিয়েছে।

তাহলে জানা গেছে, শোনা গেছে কেন? আমার কোন ভবনে পুলিশি তল্লাশি হয়নি। অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ লিখুন। সঠিক প্রমাণ দিতে পারলে আমি নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেব। সবাই জানে যে আমার বাবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আছে। তারা আমাদের রাজনীতি ধ্বংস করতে চায়। তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। বারবার বলা হচ্ছে কতিপয় ছাত্রলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলনের কথা।

ওই সম্মেলনেও কি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কেউ দিতে পেরেছে যে, আমি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত? সংবাদপত্রের মতো একটি মহান প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করবে বলে আমি আশা করি।

মাদকের অভিযোগ নিয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হাসান বলেন, ‘যেভাবে মাদকের বিস্তারের কথা বলা হচ্ছে পরিস্থিতি আসলে ততটা ভয়াবহ নয়। তাছাড়া আমরাও প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। ২০১৮ সালে ৬৯৪টি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৮২৫ জন। ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ১১ হাজারের বেশি। মাদক প্রতিরোধে প্রতিনিয়তই কাজ করছি আমরা। আর এক্ষেত্রে কোনো মহলের তদবির বা পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তারেরও কোনো ঘটনা নেই।
সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিন্দু এমপী শম্ভুর রাজত্বে কথা না শুনলেই চড়-থাপ্পড় খেতে হয় মুসলমানদের

সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিন্দু এমপী শম্ভুর রাজত্বে কথা না শুনলেই চড়-থাপ্পড় খেতে হয় মুসলমানদের

এমপী শম্ভু
আকতার ফারুক শাহিন, বরগুনা।। সরকারি মুসলিম কর্মকর্তারা বরগুনায় বেশিদিন টিকতে পারেন না। বিশেষ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডিসহ ঠিকাদারিসংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে রয়েছে শম্ভু আতঙ্ক।

টেন্ডারবাজি ঠেকাতে ই-টেন্ডার চালু করা হলেও তা মানতে চান না শাসক দলের মদদপুষ্ট ঠিকাদাররা। এরা সবাই স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুরই লোক। কথা না শোনায় প্রকাশ্যে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে মারধরের দৃষ্টান্তও আছে বরগুনায়। শুধু তাই নয়, কথিত দুর্নীতি মামলায় ফাঁসিয়ে তাকে জেলে পাঠানোর অভিযোগও আছে এমপির বিরুদ্ধে।

শম্ভুর হয়ে দফতরগুলোতে প্রভাব বিস্তারকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে আসা জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ, তেড়ে যাওয়া, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদাহরণও আছে একাধিক। তাই বরগুনায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই বদলির জন্য নামেন তদবিরে। বদলি হওয়ার পর তারা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচেন।

কামালভীতি সড়ক ও জনপথ বিভাগে (সওজ) : বাবা ছিলেন বরগুনা জিলা স্কুলের দফতরি। তারই ছেলে কামাল হোসেন এখন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। বাগিয়ে নিয়েছেন জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদও। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারও তিনি। বার্ষিক টার্নওভার হিসাবে বড় ঠিকাদার না হলেও বরগুনার সওজে তিনি মুকুটবিহীন সম্রাট। তার কথায় চলেন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কথা না শুনলেই শুরু হয় গালাগাল ও লাঞ্ছনা।

বরগুনা জেলা স্কুলসংলগ্ন যে ভবনে কামাল ও তার পরিবারের বসবাস সেটিও সরকারি জমিতেই। তার আরেক ভাই মনিরুজ্জামান জামাল বরগুনা পৌরসভার কাউন্সিলর। ঠিকাদারি করেন গণপূর্ত বিভাগে।

সড়ক ও জনপথের বরগুনা জেলা অফিস সূত্র বলছে, এমপির ক্যাডার হিসেবে কামালকে কেউ কিছু বলার সাহসও পান না। যখনই নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্বে আসেন তখন তাকে এমপি সাহেব ফোন করে কামালের কথা বলে দেন। বর্তমানে যিনি দায়িত্বে তিনিও এমপির ফোন পেয়েছেন ফেব্রুয়ারিতে যোগ দেয়ার পরপরই। এর আগে এ পদে ছিলেন জাভেদ হোসেন তালুকদার। দাফতরিক নিয়মে কাজ করতে গিয়ে তাকেও শুনতে হয়েছে গালাগাল, মারতেও চাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি নাটোরে বদলি হয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচেন।

জানতে চাইলে প্রকৌশলী জাভেদ হোসেন বলেন, ‘৩ মাস ছিলাম বরগুনায়। পরে দেখলাম ওখানে মানসম্মান বাঁচিয়ে চাকরি করাই মুশকিল। তাই বদলি।জুনে বরগুনা ছেড়েছেন সওজের আরেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী অরুন কুমার বিশ্বাস। মে মাসে সওজের দফতরেই তার ওপর চড়াও হন কামাল। প্রায় ২ কোটি টাকার টেন্ডার বাগাতে ব্যর্থ হয়ে প্রকাশ্যে তাকে তেড়ে যান কামাল। ক্ষোভে-দুঃখে আর দফতরেই যাননি তিনি। জানতে চাইলে অরুন কুমার বলেন, ‘বরগুনায় চাকরি করার মতো পরিবেশ ছিল না। আমি সিনিয়রদের জানানোর পর তারা আমাকে পটুয়াখালীতে বদলি করেন।

এছাড়া এমপি শম্ভুর ক্যাডার কামালের গালাগাল শোনেননি এমন কর্মকর্তা এ দফতরে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এর মধ্যে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাসেলও আছেন। সওজের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঠিকাদারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ই-টেন্ডার চালুসহ বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ তার অন্যতম। কিন্তু তা মানতে চান না এ কামাল। কথা হল- তাকে কাজ দিতেই হবে। অন্য ঠিকাদাররাও কামালের হয়রানির শিকার। বরগুনার সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন অবশ্য মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

জুনে যে ৫টি আরএফকিউর (রিকোয়েস্ট অফ কোটেশন) কাজ হয়েছে তার ৪টিই পেয়েছেন (২৫ লাখ টাকা) কামাল। একই মাসে স্মল কোটেশনের ২০টি কাজের মধ্যে ১৫টিই পান কামাল। এটম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৭ লাখ টাকার সরবরাহও জুটেছে কামালের ভাগ্যে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় কাজ করছি। অনিয়মের সুযোগ নেই। যারা কাজ পেয়েছেন তার টেন্ডার দিয়েই পেয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, ‘এমপি মহোদয় আমাকে স্নেহ করেন। তাই বলে আমি কোনো অন্যায় করিনি। সওজ অফিসেও কোনো প্রভাব বিস্তার করিনি। আমি একজন ছোট ঠিকাদার। টুকটাক কাজকর্ম করে জীবনধারণ করি। যা বলা হচ্ছে তার পুরোটাই অপপ্রচার।

কথা না শুনলেই চলে এমপি শম্ভুর হাত : বরগুনা সদরে পরপর ৫ বারের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। একবার ছিলেন উপমন্ত্রী। ২৭ বছর ধরে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে। দোর্দণ্ড প্রভাবশালী এ নেতার বিরুদ্ধে আমতলী উপজেলায় জমি কেনায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং তালতলী উপজেলায় রাখাইনদের জমি কিনে টাকা পরিশোধ না করার বহু অভিযোগ রয়েছে।

বরগুনা থেকে বহু শ্রমিক কলকাতায় নিয়ে সেখানে বাড়ি তৈরির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে দফতরে দফতরে লোক ফিট করে রাখার অভিযোগ আছে এমপি শম্ভুর বিরুদ্ধে।

সড়ক ও জনপথে কামালের মতো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে আছেন তার আপন ভায়রা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকর রহমান। ২০১৬-১৭ সালে ই-টেন্ডার চালুর আগে এ সিদ্দিকুরই শম্ভুর হয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন এলজিইডি। ঠিকাদার এবং দফতর সূত্রে জানা যায়, ই-টেন্ডারের আগে সিদ্দিকুরের কথা বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না কারও।

জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘আগে থেকেই ঠিকাদারি পেশার সঙ্গে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান। সফল ছিলেন না। এমপি শম্ভুর ভায়রা হওয়ার পর সফলতা আসতে থাকে।

তার সিদ্ধান্তেই নির্ধারণ হতো শত শত কোটি টাকার কাজের ঠিকাদারি। ই-টেন্ডার চালুর পর তা কমে গেছে। এখন তার কাজ হচ্ছে, যারা কাজ পাচ্ছেন তাদের ওপর খবরদারি করা, কাজের অংশীদার করতে বাধ্য করা।

বরগুনা এলজিইডির এক প্রকৌশলী বলেন, ‘এমপির ভায়রা হিসেবে তার অনেক অন্যায় আবদার মেনে নিতে হচ্ছে।এ নিয়ে কথা বলার জন্যে সিদ্দিকুরের মোবাইলে কয়েকবার ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।

কয়েক বছর আগে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন আবদুল মালেক। আইলার পরে বরগুনায় যখন শত শত কোটি টাকার কাজ হয় তখন এমপির কথা অনুযায়ী কাজ না করায় মালেককে ডিসির দফতরের বারান্দায় নিজ হাতে চড়-থাপ্পড় মেরেছিলেন এমপি শম্ভু। তখন প্রকৌশলীরা আন্দোলনে নামার ঘোষণা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। বহু কষ্টে পরিস্থিতি সামাল দিলেও ক্ষোভ ভুলতে পারেননি শম্ভু। তার কিছুদিনের মধ্যেই বরগুনায় দুর্নীতির এক মামলা হয় মালেকের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় কিছুদিন জেলেও ছিলেন তিনি। পরে বদলি হয়ে বরগুনা ছাড়েন। কথা না শোনায় সওজের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে।

আলাপকালে পাউবোর প্রকৌশলী আবদুল মালেক বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা সবাই জানেন। আলাদা করে কিছু বলার নেই।

পিতার হয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার পুত্রের: বর্তমানে ভারত সফরে আছেন এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। ফলে কথা বলা যায়নি তার সঙ্গে। বাবার হয়ে কথা বলেন এমপিপুত্র বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘আগাগোড়াই বলে এসেছি যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে এসব অপ-প্রচার চালাচ্ছে। বাবা ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পরপর ৬ বার দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। ৫ বার তিনি বিজয়ী হয়েছেন। দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী হলে সাধারণ মানুষ তাকে বারবার ভোট দিয়ে এমপি বানাতেন না। আমার বাবা কোনোদিন ঠিকাদারি করেননি এবং সরকারি দফতরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটাননি। আমার খালু সিদ্দিকুর রহমান বিয়ের আগে থেকেই একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার। বাবার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য যাদের নাম বলা হচ্ছে, তারাও তো কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক নন। বাবা ২২-২৩ বছর ধরে এমপি।

তার বাবার প্রতিনিধিত্ব পেলে তো তাদের শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার কথা। এসবই অপ-প্রচার। আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এটি। এসব অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। একজন সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবেই তিনি পরিচিত। এসব মিথ্যা অপ-প্রচার চালিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কখনোই সফল হবে না।

31 July 2019

উজিরপুরে স্কুলভ্যান উল্টে খালে পড়ে ২ মাদ্রাসা শিশু ছাত্রের মৃত্যু, দায় কার?

উজিরপুরে স্কুলভ্যান উল্টে খালে পড়ে ২ মাদ্রাসা শিশু ছাত্রের মৃত্যু, দায় কার?


স্টাফ রিপোর্টার।। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মূলপাইন দারুস সুন্নাহ নূরানী হাফেজী মাদ্রাসার ১৮ শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি ভ্যান উল্টে খালে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও ১০ শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উজিরপুর-ধামুরা সড়কের সমীর হালদারের বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ভ্যানে থাকা ৭ শিশু সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের সাকরাল ও মুলপাইন গ্রাম থেকে একটি স্কুলভ্যানে ১৮ শিশুকে নিয়ে ভ্যানচালক মুলপাইন গ্রামের মহিউদ্দিন সিকদার মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন। ভ্যানটি সমীর হালদারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আশা একটি রিকাশকে পাশ কাটাতে গিয়ে খালের পানিতে পড়ে যায়। ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত খালে লাফিয়ে পড়ে স্কুলভ্যানসহ শিশুদের উদ্ধার করে পাড়ে তুলে আনে। কিন্তু তার আগেই লামিয়া (৬) ও আব্দুল্লাহ (৭) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহত লামিয়া মুলপাইন গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করত। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন, বাড়ি ময়মনসিংহ। আব্দুল্লাহর বাড়ি উপজেলার সাকরাল গ্রামে। সে ওই গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আতিক (৬), বিল্লাল (৬), নিয়াজ মাহমুদ (৬), মুক্তাকে (৭) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং হোসাইন (৬), তাসফিয়া (৬), রহমতউল্লাহ(৬), তামিম (৬), আব্দুর রহমান (৭), আব্দুল্লাহ আল মাহিন (৬) ও ভ্যান চালক মহিউদ্দিনকে (৩২) উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভ্যানে ৮ শিশুর ধারন ক্ষমতা থাকলেও ১৮ জনকে বহন করা হচ্ছিল। এ কারণে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হাবিবুর রহমানকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, নিহত শিশুদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কেউ অভিযোগ দিলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা আ. লতিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত ও আহতদের খোঁজ খবর নেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান ও আহতদের পরিবারকে সহযোগীতা প্রদান করা হবে।

19 July 2019

মূল হোতা এমপি পুত্র এ্যাড. সুনাম দেবনাথদের বাচাতেই মিন্নিকে গ্রেফতারের নাটক

মূল হোতা এমপি পুত্র এ্যাড. সুনাম দেবনাথদের বাচাতেই মিন্নিকে গ্রেফতারের নাটক



স্টাফ রিপোর্টার॥ বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তাকে বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার নিজ বাসা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। এরপর ঐ দিন রাতে তড়িঘড়ি করে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

একদিকে নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিক হঠাৎ নিজের স্বামী হত্যার দায়ে মামলার প্রধান স্বাক্ষী স্ত্রী মিন্নি গ্রেফতার কেন?

তাহলে কি মুল হোতাদেরকে বাচিয়ে রাখতে এই কারসাজি?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ০০৭ বন্ড বাহিনীর মূল হোতা স্থানীয় আওয়ামী এমপি পুত্র এ্যাড. সুনাম দেবনাথ। তার প্রশ্রয়েই বরগুনার সাব্বির পরিনত হয়ে ওঠে ভয়ংকর সন্ত্রাসী নয়ন বন্ডে। জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান তিন আসামির দুজন রিফাত ফরাজী ও তাঁর ভাই রিশান ফরাজী বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের আপন ভায়রার ছেলে। আরেক আসামি সাব্বির জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। সুনাম দেবনাথ বরগুনা সদর আসনের সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর পুত্র।

অনুসন্ধান বলছে, এই এমপিপুত্রেরই রিফাতের বাবাকে নিজের পুত্রবধু মিন্নিকে খুনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য করে। এমনকি নিজেই খুনিদের বাঁচাতে মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবিতে গত ৩০ জুন রবিবার বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এই এমপিপুত্র। ঐদিন বক্তব্যে মিন্নিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সন্ত্রাসী সুনাম। এমপি পুত্র পলাতক আসামীদের গ্রেফতার বা গ্রেফতারকৃতদের শাস্তি না চেয়ে বরং তাদের সাফাই গাওয়ায় ব্যাপক সমলোচনার জন্ম নেয়।

এদিকে রিফাত শরীফ হত্যার প্রধান ঘাতক নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারের পর আজ নিশান ফরাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের একাংশের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেও পার পেয়ে যেত নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী আর তাদের বাহিনীর সদস্যরা। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরেও ছিল ক্ষোভ আর অসন্তোষ।

অন্যদিকে, রিফাত খুনের আগের দিন নয়ন বন্ডের বাসায় মিন্নি গিয়েছিলেন বলে মিডিয়াতে নয়ন বন্ডের মায়ের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এই বক্তব্যও নয়ন বন্ডের মাকে দিতে বাধ্য করে এই এমপি পুত্র। এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন মিন্নি। তিনি বলেন, ২৫ জুন দুপুরে রিফাতের ফুফাতো বোন হ্যাপির চরকলমীর এলাকার বাসায় রিফাতের পুরো পরিবার গিয়েছিল। মিন্নিও তাদের সঙ্গেই ছিলেন।

স্থানীয়রা বলছেন, মিন্নিকে গ্রেফতার করে ঘটণা অন্য খাতে প্রবাহিত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কাদের ভয়ে মিন্নির পক্ষে ছিল না কোনো আইনজীবী? তাহলে কি প্রধান স্বাক্ষী মিন্নি আটক নাটকের মাধ্যমে ০০৭ বন্ড গ্রুপ ও স্থানীয় এমপি পুত্রকে বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?