Showing posts with label রাজধানী. Show all posts
Showing posts with label রাজধানী. Show all posts

01 November 2019

একাত্তরের মতো সংগঠিত হয়ে আন্দোলন করতে হবে

একাত্তরের মতো সংগঠিত হয়ে আন্দোলন করতে হবে

ছবিঃ সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার।। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগেই সবাইকে একাত্তরের মতো সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। আমাদের আন্দোলন হবে ইতিবাচক, আন্দোলন হবে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য। এই ধরণের আন্দোলনকে কেউ শক্তি দিয়ে থামাতে পারবে না, ধ্বংস করতে পারবে না।
গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, আর মাত্র এক থেকে দেড় বছর পর স্বাধীনতার ৫০ বছর। সেটাকে সামনে রেখে আসেন আমরা জেলায় জেলায় যাই। আক্রমণাত্মক কথা না বলে তাদের বুঝাই যে শহীদরা কিসের জন্য স্বাধীনতাযুদ্ধে জীবন দিয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সত্যিকার অর্থে একটা স্বাধীন দেশে বাস করা। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যদি বলি আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, দেশের মালিকানা দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে আমরা মনে করবো আমাদের ৫০ বছরের স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হয়েছে। চলেন এটা আমরা সবাই মিলে করি, প্রত্যেক জেলায়, প্রত্যেক গ্রামে, পাড়ায় মহল্লায়। ইনশাল্লাহ আমি মনে করি আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে যখন ঐক্যমত হয়েছে সেই ঐক্যমতের সামনে কোনো কিছু দাঁড়াতে পারেনি। বন্দুক নিয়ে কামান নিয়ে কোনো কিছু দাঁড়াতে পারেনি। বাঙালি যখন ঐক্যমতে আসে সেই শক্তি হলো সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তির কাছাকাছি আমরা অলরেডি এসে গেছি। আপনারা পরীক্ষা করে দেখেন। জেলায়, জেলায়, গ্রামে, গ্রামে দিয়ে দেখেন। মানুষ একাত্তরে যে স্বপ্ন দেখেছিল। প্রত্যেক পরিবারে শহীদ হয়েছিল। আমি যেখানে যাই জিজ্ঞাসা করি এখানে শহীদদের কবর আছে কি না। সবাই বলে প্রতিটা গ্রামে শহীদদের কবর আছে। এত শহীদরা কেন জীবন দিয়েছিল। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কারণ এই দেশের জনগণ হবে ক্ষমতার মালিক। সেই মালিকানার জন্য কত মূল্য দেয়া হয়েছে।

জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রবের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

26 September 2019

কাওরান বাজারের শ্রমিক লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে

কাওরান বাজারের শ্রমিক লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে


স্টাফ রিপোর্টার।। ফুটপাত দখল করে গজিয়ে ওঠা জাতীয় শ্রমিক লীগ তেজগাঁও থানার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে করপোরেশনের ভ্রাম্যমান আদালত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় অবৈধভাবে দখল করা সড়ক ও ফুটপাতকে মুক্ত করার অভিযানের অংশ হিসেবে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কাওরান বাজার ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার এর নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

এর আগে গতকালও কাওরান বাজার এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যেমে কারওয়ান বাজার এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করার অপরাধে প্রায় ৮০টি অস্থায়ী দোকানসহ অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান এক একটি এলাকা ধরে পরিচালনা করা হবে। ওই এলাকার ফুটপাত-সড়ক যতদিন পর্যন্ত দখলমুক্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই এলাকায় অভিযান পরিচালিত হবে। সেক্ষেত্রে এক এলাকার উচ্ছেদ অভিযান শেষ করতে যদি ৫-১০ দিনও সময় লাগে তবুও তা করা হবে।

চলমান এ উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসাবে অঞ্চল-৫ এর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফার্মগেট পুলিশ বক্স থেকে বিজয় সরণি, পান্থপথ সিগনাল থেকে সোনারগাঁও ফোয়ারা, জাহাঙ্গীর টাওয়ার থেকে এফডিসি রেলগেট, হলিক্রস কলেজ থেকে তেজগাঁও রেলগেট, তেজগাঁও রেলস্টেশন রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত, জনতা টাওয়ার থেকে পেট্রোবাংলা, ঢাকা ওয়াসার বাইলেন রাস্তার এক পাশের ফুটপাত, প্রথম আলো ভবনের দক্ষিণ পাশের ফুটপাত, ডিআইটি মার্কেট থেকে বিটিএমসি ভবন পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দিরা রোড থেকে টিএন্ডটি খেলার মাঠ, ইন্দিরা রোড বাইলেন রাস্তা এবং গ্রীণ রোড সিগনাল থেকে ফার্মভিউ সুপার মার্কেট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।

25 September 2019

আওয়ামীলীগের দুই নেতার সিন্দুক থেকে সাড়ে ৮ কেজি স্বর্ণ ও ৫ কোটি টাকা উদ্ধার!

আওয়ামীলীগের দুই নেতার সিন্দুক থেকে সাড়ে ৮ কেজি স্বর্ণ ও ৫ কোটি টাকা উদ্ধার!


ডেস্ক রিপোর্ট।। রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া, তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা, প্রায় সাড়ে আট কেজি স্বর্ণ (৭৩০ ভরি) এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

তিনটি সিন্দুক উদ্ধার করা হয় বানিয়ানগর মুরগিটোলায় গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বাসায়। সেখানে পাওয়া গেছে নগদ ১ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, ৭৩০ ভরি স্বর্ণের গয়না এবং দুইটি পিস্তল, দুইটি এয়ারগান ও একটি শটগান।

লালমোহন সাহা স্ট্রিটে এনামুল হক এনুর কর্মচারী আবুল কালামের বাসায় পাওয়া গেছে একটি সিন্দুক। সেটি ভাঙার পর পাওয়া গেছে দুই কোটি টাকা। ওই বাসা থেকে একটি পিস্তলও উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

আর শরৎগুপ্ত রোডে এনুর বন্ধু হারুন-অর-রশিদের বাসায় পাওয়া গেছে পঞ্চম সিন্দুকটি। সেখানে আরও অন্তত দুই কোটি টাকা পাওয়া গেছে।

গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের একজন শেয়ার হোল্ডার।

জানা যায়, ওয়ারি, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, বংশাল, কোতয়ালী এলাকায় এনামুল ও রুপনের ৫০টি বাড়ি আছে।

এনামুল এবং রুপন ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের অন্যতম শেয়ার হোল্ডার। ক্লাব থেকে টাকা এনে তারা বাসায় রাখতেন। টাকার পরিমাণ বিপুল হওয়ায়- তা রাখার অনেক বেশি জায়গা লাগায় তিনি স্বর্ণালংকার কিনে রাখতেন।

এনামুল হক এক সপ্তাহ আগে থাইল্যান্ড চলে গেছেন এবং তার ভাই রুপন ভূঁইয়া পলাতক। র‌্যাব তাকে খুঁজছে।

গেণ্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকার দেয়ালে দেয়ালে দুই ভাইয়ের ছবিসহ পোস্টারও দেখা গেছে।

23 September 2019

জুয়াড়ি ও সন্ত্রাসীদের গডফাদার সম্রাটকে নির্দোষ প্রমাণে মরিয়া যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক

জুয়াড়ি ও সন্ত্রাসীদের গডফাদার সম্রাটকে নির্দোষ প্রমাণে মরিয়া যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক


স্টাফ রিপোর্টার।। আটককৃত যুবলীগের রুই কাতলাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে সম্রাট হচ্ছে রাঘব বোয়াল, যদিও সে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাহিরে তবুও তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠছেন অনেকে। যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, যুবলীগের শ্রেষ্ঠ ইউনিটের শ্রেষ্ঠ সংগঠক ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বুধবার বিকালে মিরপুরে এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা কি বিরাজনীতিকরণের নীতি নিয়ে আসছেন? দলকে পঙ্গু করার কোনো ষড়যন্ত্রে আসছেন? নিষ্ক্রিয় করার ষড়যন্ত্রে আসছেন?’

এসময় যুবলীগে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও বহিষ্কারের কথা বলেন ওমর ফারুক।

এক বিবৃতিতে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যুবলীগের কোনো নেতা বা শাখার (যে পর্যায়েরই হোক না কেন) বিরুদ্ধে ন্যুনতম অভিযোগেরও যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে যুবলীগ ওই ব্যক্তি ও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

এর আগে গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যুবলীগের সবার আমলনামা আমার হাতে এসেছে। আমি সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে। আরেকজন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান। তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।’

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে ইঙ্গিত করেই প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেছিলেন বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা বলছেন ৬০টি ক্যাসিনো আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনারা ৬০ জনে কি এত দিন আঙুল চুষছিলেন? তাহলে যে ৬০ জায়গায় এই ক্যাসিনো, সেই ৬০ জায়গার থানাকে অ্যারেস্ট করা হোক। সেই ৬০ থানার যে র‌্যাব ছিল, তাদের অ্যারেস্ট করা হোক।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে অ্যারেস্ট করবেন? করেন। আমি রাজনীতি করি। ১০০ বার অ্যারেস্ট হব। আমি অন্যায় করেছি। কিন্তু আপনারা কী করেছেন? আপনারা অ্যারেস্ট করবেন। আমি বসে থাকব না। আপনাকেও অ্যারেস্ট হতে হবে। কারণ, আপনি প্রশ্রয় দিয়েছেন।’

20 September 2019

থানা থেকে ৩০০ গজ দূরের যুবলীগ নিয়ন্ত্রিত ক্যাসিনো সম্পর্কে, জানতো না পুলিশ!

থানা থেকে ৩০০ গজ দূরের যুবলীগ নিয়ন্ত্রিত ক্যাসিনো সম্পর্কে, জানতো না পুলিশ!


স্টাফ রিপোর্টার।। থানার পাশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল মতিঝিলের ফকিরেরপুলে অবস্থিত ইয়াংমেনস ক্লাব, অবৈধভাবেই চলছিল রমরমা ক্যাসিনো ব্যবসা।

২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এ ক্লাবটি। ক্লাবের হলরুম ভর্তি জুয়াড়িরা থাকেন জুয়ায় মত্ত। সঙ্গে উন্নতমানের খাবার ও মদ-বিয়ার পরিবেশন করা হয়।

এ ক্যাসিনোটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার।

কোটি কোটি টাকার ক্যাসিনো সেটাপ, নারী-পুরুষ এনে সেগুলো পরিচালনা করাসহ নানা অবৈধ কাজ চলতো এ ইয়াংমেনস ক্লাবে।

ক্লাবটি থেকে মতিঝিল থানার দূরত্ব মাত্র ৩০০-৪০০ গজ। থানা থেকে এমন দূরত্বেই বছরের পর বছর ধরে চলছিল জুয়ার ব্যবসা।

অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এ ক্লাবটি গত ৪ থেকে ৫ বছর প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অলৌকিক কারণে এর আগে কখনও অভিযান চালায়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজে সহযোগিতা করত খোদ পুলিশ। যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। এতে পুলিশের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় থানা পুলিশ টাকার বিনিময়ে ক্লাবের কর্মকর্তাদের ক্লাব পরিচালনায় সহযোগিতা করে আসছে। এমনকি অভিযান হতে পারে এমন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে কয়েক ঘণ্টা ক্লাবের কার্যক্রম বন্ধও রেখেছিলেন তারা।

থানার পাশেই এত বড় ক্যাসিনো, যেখানে ২৪ ঘণ্টা নারী-পুরুষের আনাগোনা, সঙ্গে থাকে মাদক। পুলিশের নজর এড়িয়ে এসব চলার কথা না, এভাবেই বললেন এক স্থানীয়।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ইয়াংমেনস ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও টাকাসহ ১৪২ জনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সন্ধ্যায় এ সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে বিষয়টি।

প্রশাসনের নাকের ডগায় ক্লাব এবং সামাজিক সংগঠনের আড়ালে কীভাবে আইনবহির্ভূত এসব কাজ চলছিল? এমন প্রশ্নে সরব ফেসবুক।

এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রানা বলেন, ‘যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা এখানে জড়িত থাকে বা গাফিলতি থাকে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শুধু ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবেই নয়- রাজধানীর গুলশান, বনানী, মতিঝিলে এমন আরও কয়েকটি ক্লাবে রমরমা ক্যাসিনো বাণিজ্য চলছে।

গতকালই মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং বনানী এলাকার একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে মাদক, জাল টাকা, বিপুল পরিমাণ টাকা ও ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার রাতেই গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনী মার্কেটসংলগ্ন একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ ক্যাসিনোর নেতৃত্বে আছেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট।

এদিকে পুলিশের চোখের সামনে এমন জুয়ার ব্যবসা কীভাবে করছিলেন সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া নিজেই।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে মতিঝিলের ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয়টি রাজধানীর কয়েকটি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতেন বলে দাবি করেছেস খালেদ। তবে পুলিশের সঙ্গে ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য কোনো আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি তিনি।

সূত্র জানায়, খালেদের ক্যাসিনোর বিষয়ে পুলিশ ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সংস্থা এবং রাজনীতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জানতেন। তাদের ‘ম্যানেজ করে’ ক্যাসিনো চালাতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, তাকে আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা যাবে না। বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও বলেছেন খালেদ। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করব। ঢাকায় অবৈধভাবে কোনো ক্যাসিনো থাকতে দেবে না র‍্যাব।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর দায় এড়াতে পারে না মন্তব্য করে ক্যাসিনোর প্রভাব সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বিরূপভাবে পড়বে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অপরাধ বিশ্লেষক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অনেক কিছুই খুব কঠিন। বলাটা সহজ হলেও করাটা কঠিন। তবে যা শুরু হয়েছে তার জন্য সাধুবাদ জানাই।’