Showing posts with label রোহিঙ্গা. Show all posts
Showing posts with label রোহিঙ্গা. Show all posts

26 September 2019

কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশেঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশেঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্টার।। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হবে। সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বন্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দফতরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন যে, দ্রুত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দিতে।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি দেখা গেছে, মাদকদ্রব্য পাচার ও খুনের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পগুলোতে প্রায়ই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। এমনকি সেখানে তারা এক আওয়ামী লীগ নেতাকেও হত্যা করেছে। এ জন্য তাদের নজরদারিতে রাখা বিশেষ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সে লক্ষ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের আবেদন করেছিল সশস্ত্র বাহিনী।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে রোহিঙ্গা এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি অনেক রোহিঙ্গা সেখান থেকে বেরিয়ে এদিক-সেদিক যাচ্ছে। এ জন্য আমরা সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছি। কেউ যেন ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারে, আবার কেউ যেন ক্যাম্পে ঢুকতে না পারে সেটি দেখতে বলেছি। নিরাপত্তা যথাযথভাবে দিতে বলেছি।।

21 September 2019

মিয়ানমারের নিন্দা জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস

মিয়ানমারের নিন্দা জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালানোয় মিয়ানমার সরকারের আচরণের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আহব্বানের পর এ প্রস্তাব পাস করলো ইউরোপীয় সংসদ সদস্যরা।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার পাস করা ওই প্রস্তাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশটিতে সংখ্যালঘুদের ওপর দীর্ঘদিন নির্যাতন চালানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা। প্রস্তাবনায় রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়।

সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা জোরদারে যেন শরণার্থীদের অধিকার লঙ্ঘিত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া শরণার্থীদের যেন জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন করা না হয়, সে ব্যাপারেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

19 September 2019

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার খলনায়িকা অং-সান-সু-খি’র বিচারের ইঙ্গিত

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার খলনায়িকা অং-সান-সু-খি’র বিচারের ইঙ্গিত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিয়ানমারে নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার প্রধান খলনায়িকা বার্মিজ নেত্রী অং-সান-সু-খি মানবতার বিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে পারে। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক ইয়াং লি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।

ইয়াং লি বলেছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেত্রী ও বেসামরিক নেতা হিসেবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে দেশটির সেনাবাহিনীর জাতিগত শুদ্ধি অভিযানে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে তার বিচার হতে পারে।

মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাকে দেয়া এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারে স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্তকারীদের একটি প্যানেল বলেছে- মিয়ানমারে ৬ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছে। এ ব্যাপারে অং-সান-সু-খি তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। নোবেল কমিটি তাদের বিবৃতিতে অং-সান-সু-খি-কে নোবেল পুরস্কার দেয়ার তিনটি কারণ উল্লেখ করেছিল, যার প্রতিটি লঙ্ঘন করেছে সে

মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যের বেসামরিক অঞ্চলে হেলিকপ্টার গানশিপ, ভারী আর্টিলারি এবং ল্যান্ড মাইন ব্যবহার করছে। রাখাইনে পুরুষদের মারাত্মক নির্যাতন করা হয়েছে এবং রাখাইন গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেন, সেনা পদক্ষেপের বিষয়ে অং-সান-সু-খি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তবে মিয়ানমারের পার্লামেন্টে ৬০ শতাংশ আসন নিয়ন্ত্রণকারী একটি দলের প্রধান হিসেবে সে এমন একটি সরকারকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যে সব আইন পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে।

বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং মানবাধিকারের জন্য অং-সান-সু-খি ব্যাপক ও বিস্তৃত দায়িত্ব ছিল বলেও জানায় তদন্তকারী দল।
বিশ্বের কারও কথা শোনে না মিয়ানমারঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বের কারও কথা শোনে না মিয়ানমারঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্ট।। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমার অত্যন্ত কট্টর ও রক্ষণশীল। তারা কারও কথা শোনে না।

তবে আশার কথা হলো তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিষয়ক এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ কিংবা ১৯৯২ সালেও তারা আলোচনার মাধ্যমে তাদের লোকদের ফেরত নিয়েছিল। তবে এবার সংখ্যাটা অনেক বেশি। ১৯৯২ সালে ২ লাখ ৫৩ হাজার ছিল। তারমধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার চলে যায়। এবার ১৩ লাখ। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।

তিনি বলেন, মিয়ানমার যাদের উপর নির্ভর করে সেই চীন বা রাশিয়া এখন অনেকটাই আমাদের পক্ষে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী একবাক্যে স্বীকার করেছেন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অত্যাবশ্যক। তারাও আমাদের সঙ্গে একমত, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হলে এই অঞ্চলে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

31 August 2019

রোহিঙ্গা নিয়ে হলুদ মিডিয়ার মিথ্যাচার ও আমার সাম্প্রতিক এনালাইসিস (৬): নয়ন চ্যাটার্জি

রোহিঙ্গা নিয়ে হলুদ মিডিয়ার মিথ্যাচার ও আমার সাম্প্রতিক এনালাইসিস (৬): নয়ন চ্যাটার্জি


মতামত ডেস্ক।। রোহিঙ্গা সমাবেশ বিরোধী গুজবের পেছনে কে? আমাদের এই ব্যপারে প্রথমেই জানতে হবে নাহলে আমরা কি ঘটছে তা বুঝতে পারবনা। আমি আপনাদের আগেই বলেছি, রোহিঙ্গা সমাবেশের পর একটি মহল হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা বিরোধী গুজব তৈরীতে। এতে নেতৃত্ব দেয় বসুন্ধরা গ্রুপের কালের কণ্ঠ পত্রিকা। কালেরকণ্ঠ পত্রিকাটিকে কলকাতার কণ্ঠবলা যায়, কারণ কালেরকণ্ঠ পত্রিকাটির মালিক বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে মাত্র ৪ মাস আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মিডিয়া জগতে অবদানের জন্য বিশেষ পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়। (https://bit.ly/2ZKmKqR)

(১) অভিযোগ: রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা

ক) ২৫ তারিখে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ হয়। ২৬ তারিখ কালেরকণ্ঠ দাবী করে, এই সমাবেশের পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র আছে। মানে পাকিস্তান ভিত্তিক এনজিও আল খিদমাত ফাউন্ডেশনসেখানে অর্থায়ন করেছে। যদিও এর পেছনে কোন দলিল না রেফারেন্স তারা দিতে পারেনি। (https://bit.ly/2Lc2HgK)

খ) পাকিস্তানের এনজিও রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনে আছে, এই গোপন তথ্যের রেফারেন্স (!) প্রথমে দিতে ব্যর্থ হলেও ২৮ তারিখে কালেরকণ্ঠ তার রেফারেন্স নিয়ে হাজির হয়। সেই রেফারেন্স হলো ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া’ (ইউএনআই)। যদিও ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবীর পেছনে কোন সূত্র ছিলো না। (https://bit.ly/2ZpR6Uc)

গ) অতঃপর রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনে পাকিস্তানের হাত আছেচতুর্দিকে চেতনাবাদীদের মধ্যে হাওয়া ছড়াতে থাকে। একে একে বাংলাদেশের চ্যানেল আই, এনটিভি, ভারতের ইকোনোমিক টাইম সবাই কালেরকণ্ঠের রেফারেন্সকে পূজি করে খবর কপি করে। শেষ পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরও এক সভায় বলে বসে রোহিঙ্গা সমাবেশের পেছনে পাকিস্তানের হাত আছে। (https://bit.ly/2Ln0Vs7) কিন্তু সেই পাকিস্তানী হাতটা আসলে কিভাবে আছে, তার সূত্রই কেউ দিতে পারেনি।

(২) অভিযোগ: বাংলাদেশীদের ৩০ হাজার চাকুরী নিয়ে গেছে রোহিঙ্গারা

কালেরকণ্ঠ একটা খবর ছড়াইছে- রোহিঙ্গারা নাকি বাংলাদেশীদের ৩০ হাজার চাকুরী নিয়ে গেছে (https://bit.ly/2MNt0f6)

এই খবর দেখে- একদল বাংলাদেশী পারলে এখনই নেমে যায় রোহিঙ্গাদের জবাই করতে। এই কাণ্ডকারখানা দেখে আমি প্রয়াত কবি শামসুর রহমানকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারি না। তিনি যদি এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে, চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলেশিরোনামে কবিতাটি না লিখতেন, তবে আমরা বোধহয় হুজুগে বাঙালীর চরিত্র এক কথায় কখন বুঝাতে পারতাম না।

পাবলিক কালের কণ্ঠ থুক্কু কলকাতার কণ্ঠ পত্রিকাটির হেডিং দেখে লাফ দিলেও আসলে ভেতরে খবর পড়ে নাই, ভেতরে কিন্তু লেখা আছে এই ৩০ হাজার চাকুরী আসলে রোহিঙ্গা শরনার্থী নির্ভর এনজিওর চাকুরী। অর্থাৎ যে এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করতে আসছে, তারাই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে। এখানে বাংলাদেশীদের চাকুরী খাওয়ার কি হইলো?

তবে ৩০ হাজার রোহিঙ্গার চাকুরীর সংখ্যা নিয়ে গড়মিল লাগে, কালেরকণ্ঠ এখানেও রেফারেন্স ব্যবহার করে নাই।

উল্লেখ্য ১১ লক্ষ রোহিঙ্গার বিপরীতে ৩০ হাজার শুধু এনজিও কর্মী, তাও রোহিঙ্গা ! আর বাকি মিলালে কত হবে ? যদি ৫০ হাজার হয়, তবে ২০ জনের বিপরীতে ১ জন এনজিও কর্মী, কথাটা কতটুকু সত্য? আর ৩০ হাজার মোটামুটি শিক্ষিত রোহিঙ্গা আছে চাকুরী করার মত??

এই সব আনন্দবাজার টাইপের গাজাখুরি কথা রটায় কালেরকণ্ঠ নিজের শেষ অবস্থানটাও শেষ করে দিচ্ছে।

তবে এই বিষয়ে ঘাটতে গিয়ে একটা মজার বিষয় টের পেলাম- গত কয়েকদিনে বিভিন্ন মিডিয়ায় রোহিঙ্গা বিরোধী নিউজ করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু লোকের রেফারেন্স ব্যবহার করা হইছে। এর মধ্যে আছে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এবং উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী (https://bit.ly/30zfsHA, https://bit.ly/2ZBEHeR)।

এই লোকগুলোর নেতৃত্বে স্থানীয় কক্সবাজারবাসীর একটা গ্রুপ (যারা আসলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী) রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বেশ ক্ষেপে আছে। এই ক্ষেপে যাওয়া শুরু হয় গত জানুয়ারী মাসে। যখন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কাজে নিয়োজিত কিছু এনজিও এইসব স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীগুলোকে ছাটাই করে। তখন তারা এই দুই চেয়্যারম্যানের নেতৃত্বে কক্সাবাজারে আন্দোলন করে বলে, “রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কাজে নিয়োজিত এনজিওতে কাজ করার অধিকার আমাদের সববেচে বেশি। আমাদেরকে রোহিঙ্গা ত্রাণ কাজে নিয়োজিত চাকুরীতে কমপক্ষে ৭০% দিতে হবে, নয়ত এখানে আর কোন এনজিওর কার্যাক্রম চালাতে দেয়া হবে না, এনজিওগুলোকে প্রতিহত করা হবে। (তথ্যসূত্র: https://bit.ly/2ZzOVN3, https://bit.ly/2HCzcm3)

অর্থাৎ যে এনজিওগুলো এতদিন ভালো ছিলো, যে রোহিঙ্গারা এতদিন ভালো ছিলো, যখনই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের চাকুরী থেকে ছাটাই করা হইছে, তখনই রোহিঙ্গা আর এনজিওর খারাপ হয়ে গেছে। (এসব রাজনৈতিক নেতাকর্মী কাজকর্ম কতটুকু পারে? সততা কতটুকু আছে?)

তবে আমি এখানে কোন সমস্যা দেখি না। এটাকে বলে এলাকার ছেলেদের হক। আপনি বাংলাদেশে যে কোন কাজ করতে যান আগে আপনাকে এলাকার ছেলেদের হক পূরণ করতে হবে।

ধরেন আপনি বাড়ি বানাবেন, আপনাকে এলাকার রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের থেকে ইট, বালু, সিমেন্ট, থাইগ্লাস, রড, ইলেকট্রিক মালামাল কিনতে হবে। যদি না কিনেন, তবে আপনার বাড়ি উঠানোই বন্ধ করে দিবে। এটা এলাকার ছেলেদের হক, এটা ফরজ।

আপনি কোন কারখানা দিতে যান, কোন দোকানপাট দিতে যান আপনাকে এলাকার ছেলেদের হক আগে পূরণ করতে হবে। যতদিন আপনি এলাকার ছেলেদের হক পূরণ করবেন, ততদিন আপনি ভালো। আর যেদিন হক বন্ধ করে দিবেন, সেই দিন থেকে আপনি খারাপ। আপনার ব্যবসা বন্ধ করতে তারা লেগে যাবে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় যে গোষ্ঠীটি ক্ষেপেছে তারা ঐ এলাকার হকদার ছেলে পেলে। এতদিন তারা হক পেয়েছে তাই রোহিঙ্গাদের থাকতে দিয়েছে, এখন হকে টান পড়েছে, তারাও ক্ষেপে গেছে। তবে এইটুকুর মধ্যে আমি কোন সমস্যা দেখি না।

সমস্যা তৈরী হয় তখন, যখন এলাকার হকদার ছেলেদের স্বার্থবাদী কথাগুলোকে লুফে নিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে বাংলাদেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া যাচাই বাছাই না করেই ছেপে দেয় এবং সেই কথাগুলো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। আর তা সোশ্যাল মিডিয়ার হুজুগে মাতাল জনগণের কল্যাণ্যে মূহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশজুড়ে। (চলবে)