Showing posts with label অর্থনীতি. Show all posts
Showing posts with label অর্থনীতি. Show all posts

07 August 2019

পবিত্র কোরবানি ঈদে দাম বাড়ছে না লবণের, মজুদ আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ

পবিত্র কোরবানি ঈদে দাম বাড়ছে না লবণের, মজুদ আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ


স্টাফ রিপোর্ট।। চাহিদা মোতাবেক পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুদ থাকায় আসন্ন কোরবানির ঈদে লবণের ঘাটতি হবে না। সেই সঙ্গে লবণের দামও বাড়বে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। শনিবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় চামড়া ব্যবসায়ী, লবণ ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া যায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাত সুলতানা বলেন, ২০১৮ সালে সারাদেশে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ মোট এক কোটি পাঁচ লাখ পশু কোরবানি করা হয়েছিল। এবছর বন্যা ও ডেঙ্গুর কারণে গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম পশু কোরবানি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লালবাগের পোস্তা এলাকার পাইকারি লবণ বিক্রেতা জামিল হোসেন জানান, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ আছে। দামও বর্তমানে কম। ২০১৮ সালে বস্তা প্রতি এক হাজার টাকা দরে লবণ বিক্রি করেছি। এবছর ৭৪ কেজির বস্তা ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। তবে ঈদের দিন থেকে হয়তো দাম সামান্য কিছু বাড়তে পারে। কঙবাজার জেলার লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সালমা সল্টের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবছর বৃষ্টি না থাকায় প্রচুর পরিমাণে লবণ উৎপাদন হয়েছে। ফলে দামও অনেক কম। চামড়ায় দেওয়া লবণ বর্তমানে বস্তা প্রতি ৬৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে কোরবানির ঈদে কি হয় তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ জানান, এবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুদ আছে। দামও স্থিতিশীল রয়েছে। দাম আর বাড়বে বলেও মনে হচ্ছে না। এবছর আবহাওয়া লবণ উৎপাদনের অনুকূলে থাকায় ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। সেই সঙ্গে লবণের বাজারমূল্যও স্থিতিশীল রয়েছে। আসন্ন ঈদে কি হবে, তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও খুব একটা হেরফের হবে না বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘তবে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে লবণকে ঘিরে বাজারে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই সিন্ডিকেট বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরেও অটো ক্রাইসিস তৈরি করে লবণের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।’ এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

08 July 2019

রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে ঢাকার ৪ রুটে হবে পাতাল রেল

রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে ঢাকার ৪ রুটে হবে পাতাল রেল

ছবিঃ সংগৃহীত
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ যানজটে অসহনীয় হয়ে উঠছে রাজধানীর জনজীবন। অপচয় হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা। সেই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

কেননা শহরগুলোই হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির মূল নিয়ামক। তার মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবদান সবচেয়ে বেশি। এসব বিবেচনায় রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে বৃহত্তর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। ঢাকার চারটি রুটে নির্মাণ করা হবে সাবওয়ে (পাতাল রেল)। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে মাটির নিচ দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে।

ফলে ভূমির ওপরে জনসংখ্যার চাপ কমবে। ফাঁকা জায়গার পরিমাণ বাড়বে। এতে রাজধানীর পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য সেতু কর্তৃপক্ষ ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর কনস্ট্রাকশন অব সাবওয়ে ইন ঢাকা সিটি’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এটি ২০২০ সালে শেষ হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের একটি প্রস্তাব দেয়া হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এতে ভেটো দিয়েছে সেতু বিভাগ। ফলে আপাতত এ প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত চারটি সাবওয়ে রুট হচ্ছে- রুট-১ : টঙ্গী-বিমানবন্দর-কাকলী-মহাখালী-মগবাজার-পল্টন-শাপলাচত্বর-সায়েদাবাদ-নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত। রুট-২ : আমিনবাজার-গাবতলী-আসাদগেট-নিউমার্কেট-টিএসসি-ইত্তেফাক ও সায়েদাবাদ পর্যন্ত। রুট-৩ : গাবতলী-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-কাকলী-গুলশান-২-নতুনবাজার-রামপুরা টিভি ভবন-খিলগাঁও-শাপলা চত্বর-জগন্নাথ হল ও কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত এবং রুট-৪ : রামপুরা টিভি ভবন-নিকেতন-তেজগাঁও-সোনারগাঁও-পান্থপথ-ধানমণ্ডি-২৭, রায়েরবাজার-জিগাতলা-আজিমপুর-লালবাগ ও সদরঘাট পর্যন্ত।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আবুল হোসেন যুগান্তরকে জানান, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং মধ্যবর্তী প্রতিবেদন শেষ হয়েছে। এরপরই করা হবে খসড়া প্রতিবেদন এবং তারপরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা শহরে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৭ হাজার ৯৫০ জন। মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২৮৬ কিলোমিটার। সড়কের ঘনত্ব ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। অথচ আদর্শমান হচ্ছে ২০-২৫ শতাংশ সড়কের ঘনত্ব। ফাঁকা জায়গা রয়েছে ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, কিন্তু থাকার প্রয়োজন ১৫-২০ শতাংশ। সড়কের বর্তমান সক্ষমতা ৩ লাখ হলেও বিআরটিএর নিবন্ধিত গাড়ি প্রায় ৯ লাখ। ঢাকা শহরে যানজটের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সেতু বিভাগ ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সড়কপথে যেখানে ১০০ বাসে ঘণ্টায় ১০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারে, সেখানে সাবওয়েতে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রীর চলাচল সম্ভব। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে (সরকারের নিজস্ব অর্থেই) সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সাবওয়ে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের পরিমাণ, সম্ভাব্য উৎস, প্রয়োজনীয় এয়ারফ্লোর ব্যবস্থা, সাবওয়ের জন্য অপসারিত মাটি কোথায় এবং কিভাবে রাখা হবে বা কিভাবে ব্যবহার করা হবে এবং সাবওয়ের অবস্থান, এলাইনমেন্ট ও দৈর্ঘ্য নির্ধারণ, প্রকল্পের বিভিন্ন উপ-অঙ্গে নির্মাণ পদ্ধতি, জিওটেকনিক্যাল ইনভেস্টিগেশন, সিসমিক স্টাডি ও সার্ভে, ট্রাফিক সার্ভে করা হবে।

এছাড়া পরিবেশ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত সমীক্ষা পরিচালনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাথমিক ডিজাইন প্রণয়ন ও এর ভিত্তিতে প্রাক্কলন প্রস্তুত, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং ক্রয়, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ‘ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে সাবওয়ে নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

এ প্রস্তাবের ওপর রোববার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেতু বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, ঢাকার চারটি রুটে সাবওয়ে নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে। এসব রুটে টঙ্গী-বিমানবন্দর রয়েছে।

সেখানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির রুটের মধ্যে দ্বৈধতা রয়েছে। এ সময় সেতু বিভাগের পক্ষ থেকেও ভেটো দেয়া হয়। পরবর্তীকালে পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়েছে, সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারপর প্রকল্পটির প্রস্তাব করতে হবে। তখন আবারও পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত এটি স্থগিত থাকবে বলে জানা গেছে।

08 April 2019

বছরে ৩০০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হয় রাজধানীর হকারদের

বছরে ৩০০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হয় রাজধানীর হকারদের

ছবিঃ সংগৃহীত
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ রাজধানীর হকারদের ৩০০ কোটি টাকারও বেশী চাঁদা দিতে হয়। যার কোন বৈধতা নেই। ওই টাকা রাজস্ব হিসেবে নিয়ে সিটি কর্পোরেশন হকারদের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারে। যার মাধ্যমে হকাদের জীবনমান উন্নয়ন ও পথচারীদের চলাচলের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। দীর্ঘ দিনের গবেষণা তথ্য তুলে ধরে এবিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নগর গবেষক মারুফ হোসেন।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নগর ব্যবস্থাপনায় হকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন আয়োজিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল হাশেম কবীর।

আলোচনায় অংশ নেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, শিশু সংগঠক ডা. লেনিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, সংগঠনের উপদেষ্টা সেকেন্দার হায়াৎ, মুর্শিকল ইসলাম শিমুল প্রমুখ।

বৈঠকে মারুফ হোসেন আরো বলেন, যেখানে একজন হকারের (ডিম বিক্রেতা) ফুটপাতে ৫ বর্গফুট জায়গা লাগে, সেখানে একটি গাড়ি ১৬০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ যানজটের জন্য হকারদের দায়ি করে উচ্ছেদ ও তাদের মালামাল লুটপাট চলছে। যা অমানবিক। এধরণের অবাস্তব পদক্ষেপ থেকে সরে এসে যানজট নিরসনে সুনির্দ্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সকল নাগরিকের অধিকার কায়েমের জন্য আমরা বুকের রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। আমাদের নাগরিকরা শতকরা ৯৫ ভাগ গরীব ও মধ্যবিত্ত। এর একটা অংশ হকার। আর হকারদের কাছ থেকে যারা ক্রয় করেন তারাও গরীব ও মধ্যবিত্ত মানুষ।

তিনি আরো বলেন, হকারদের বৈধতা দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরূপ তাদেরকে আইডি কার্ড প্রদান করেন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হকার সমস্যার সমাধান করেন।

সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, হকাররাও মানুষ। তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই সরকারের আমলে গ্রামের মানুষ যেভাবে সুরক্ষা পাচ্ছে, একইভাবে হকারসহ শহরের মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে হকারদের জন্য আইন হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরণের আইন ও নীতিমালা করতে হবে। এবিষয়ে সংসদে আলোচনা ছাড়াও বেসরকারী বিল উত্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি।

গোলটেবিল বৈঠকে ১০ দফায় দাবি উত্থাপন করে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, হকারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, চাঁদাবাজী বন্ধ, হকারদের উপর দমন পীড়ন বন্ধ, প্রকৃত হকারদের তালিকাভুক্তিকরণসহ আইডি কার্ড প্রদান, দখলকৃত সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে হকারদের পুর্নবাসন, হকারদের ট্যাক্সের অন্তর্ভুক্ত করা, হকারদের পুর্নবাসনের জন্য ৫ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং জাতীয় বাজেটে হকারদের জন্য বরাদ্দ রাখা। সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

18 March 2019

বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না প্রভাবশালীরা, বিপাকে ব্যাংকিং খাত

বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না প্রভাবশালীরা, বিপাকে ব্যাংকিং খাত


বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে। বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোর লোকসানের পাল্লা। এতে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, মাত্র ১ ও ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এবং সুদের ওপর বিশেষ ছাড় নিয়ে ১১টি শিল্প গ্রুপ ১৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিল। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ওই নতুন ঋণও আবার খেলাপি হয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে ওই ঋণ সুদে-আসলে ২০ হাজার কোটি টাকা ছেড়ে গেছে, যা গত সেপ্টেম্বর শেষে ছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।

ঋণ গ্রহীতা এসব প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা নিয়ে ঋণ পুনর্গঠন করেও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছে না। উল্টো কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে স্থাগিতাদেশ নিয়ে  আবার অন্য ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ নিচ্ছে।

ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকার সমর্থিত দেশের প্রভাবশালী একটি শিল্পগ্রুপ ২০১৫ সালে বিশেষ সুবিধায় ৫ হাজার ২১৬ কোটি টাকার ঋণ নবায়ন করেছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ওই ঋণ বেড়ে এখন সুদে-আসলে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার ওপরে ঠেকেছে।

অপর একটি শিল্পগ্রুপ ১ হাজার ৭৭৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় সুদে-আসলে তা বেড়ে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকায় উঠেছে।

দেশের প্রথম কাতারের আরেকটি শিল্পগ্রুপ ১ হাজার ৬৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিল। যথাযথভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় এখন তা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় ঠেকেছে।

সাম্প্রতিককালে বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত আরেকটি শিল্প গ্রুপ ১ হাজার ৯৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিল। যথাযথভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় এখন তা বেড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এ প্রসঙ্গে বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন রেডিও তেহরানের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লুটপাট চলতে থাকলে জনগণের উপর এ বোঝা চাপবে। জনগণের পকেট কেটে টাকা আদায় করা হবে।

তিনি মনে করেন, এ লুটপাটের আর্থনীতির বিরুদ্ধে সমাজের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লষকেরা জানিয়েছেন, বড় গ্রাহকদের একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে দেয়া উচিত নয়। ঋণ কেন্দ্রিভূত হওয়া ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ নেয়া উচিত। একই সাথে বড় শিল্প গ্রুপের ঋণগুলো কঠোরভাবে তদারকি করা উচিত।

এদিকে, বাংলাদেশের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল জানিয়েছেন, সরকার খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করার পরিকল্পনা  করছে। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনার পর তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি গ্রহণের কথা জানান।

নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “খেলাপি ঋণ বিক্রি করার জন্য আমরা একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করব। ওই কোম্পানির কাছে ঋণ বিক্রি করে দীর্ঘ মেয়াদে এসব ঋণ আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রঃ ফাষ্টটুডে

15 March 2019

অর্থমন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমূক্ত করার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

অর্থমন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমূক্ত করার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ সবার আগে আর্থিক খাত ও অর্থমন্ত্রনালয়কে দুর্নীতিমূক্ত করার ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, মানুষের ধারণা ব্যাংক ও আর্থিক খাত এখন বিপদগ্রস্ত। যা নিয়ে কিছুটা হলেও আতংক রয়েছে। যা কাটিয়ে আস্থা ফেরানো হবে।

সকালে রাজধানীতে অগ্রনী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। জানান খুব দ্রুতই দেউলিয়াত্ব আইন তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিকশিত করা হবে বন্ড মার্কেট। অবিরত অগ্রযাত্রায় অগ্রনী এমন প্রতিপাদ্য নিয়ে অগ্রনী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সম্মেলনে জানানো হল গেল বছর বেড়েছে ব্যাংকটির আমানত, সাথে মুনাফাও। কমেছে লোকসানি শাখার সংখ্যা। তবে এসময়ে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। যদিও আমানতের অনুপাতে কমেছে পরিমান।অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য, ব্যাংক নিয়ে কিছুটা হলেও ভীতি আছে সাধারণ মানূষের। যা কাটিয়ে ফেরানো হবে আস্থা। তিনি ঘোষণা দিলেন, সবার আগে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে আর্থিক খাতকে।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই দেউলিয়াত্ব আইন থাকলেও নেই বাংলাদেশে। অর্থমন্ত্রী জানালেন, খুব দ্রুতই যা প্রণয়ন হবে এদেশেও। চালু হবে বন্ড মার্কেট। বলেন, ভালো ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে সরকার।যারা নিয়মিত কর দেন, আগামী বাজেটে কমবে তাদের কর। তবে যারা সামর্থ্য থাকার পরেও কম দেন, ধরা হবে তাদের। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ ১৫ জন গুনী গ্রাহককে পুরষ্কৃত করে অগ্রনী ব্যাংক।