![]() |
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ ছাত্ররা বেপরোয়া চালকের ফাঁসির আইন, সংবিধানে বিধান সংযোজন, ছাত্ররা হাত তুললেই বাস দাঁড়ানোর বিধান, ঢাকাসহ সারাদেশে হাফ ভাড়ার বিধান, ফিটনেসহীন যান ও লাইসেন্সহীন চালকের হাতে স্টিয়ারিং না দেয়া, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ, এমইএইচ মোড়ে ওভারপাস নির্মাণের যে দাবি তুলেছে-সেগুলো কীভাবে এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সে বিষয়ে প্রশ্নের কোনো সুরাহা নেই আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ছাত্রদের আরেক দাবি মেনে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এরই মধ্যে প্রথমে দুঃখ প্রকাশ এবং পরে ক্ষমা চেয়েছেন। তবু কাজ হয়নি।
গত ২৯ জুন বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহতের প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয় এই আন্দোলন। আর সোমবার থেকে তাদের আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীতে চলাচলে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। ছাত্রদেরকে শুরুর দিকে যারা সমর্থন জানিয়েছিলেন সামাজিক মাধ্যমে, তাদের অনেকেও এখন বিরক্তি প্রকাশ করছেন, আহ্বান জানাচ্ছেন উঠে পড়ার।
এরই মধ্যে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় সড়ক আটকে অবস্থান নেয়া গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্র নাদিম আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশ্বাস নিয়ে ঘরে ফিরে যাব না।’ ঢাকা সিটি কলেজের সামনে আন্দোলনরত এই শিক্ষার্থী আরো বলেন, ‘আমরা শুনেছি কোটার বড় ভাইরা আমাদের সাথে যুক্ত হবে। কিন্তু আমরা এটা চাই না। আমরা ছাত্র, আমরা সে হিসেবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই। কোন রাজনৈতিক ইন্ধন কিংবা সাপোর্ট আমরা চাই না।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অবরোধ থাকা অবস্থায় দাবি পূরণ করা সম্ভব। তাছাড়া আমরা সব রাস্তা বন্ধ করিনি। রাস্তা খোলা আছে। সরকার চাইলে তাদের কাজ করতে পারে। আমরা তাদের সাহায্য করব।’
গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘লাইসেন্স নেয়ার ব্যাপারে একটা দুর্নীতি আছে। বিআরটিতে স্বচ্ছতা নিয়ে আসতে হবে। সরকারের এসব দিকে তাকানো উচিত। গাড়ির চাদা কারা নিচ্ছে সেদিকে তাকানো উচিত। এগুলো বন্ধ হলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।’
ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মীরণ মাহমুদ বলেন, ‘দাবি আদায় করা হবে বলে লাভ নাই। বাস্তবায়ন করে দেখাক। পুলিশ সাইডে কেন দাঁড়িয়ে থাকবে? তাদের কাজ এটা? আমরা তাদের কাজ করছি৷ তাদের উচিত না আমাদের সাথে দাঁড়ানো? দুই জন সৎ পুলিশ দাঁড়ালে তো আর এই অনিয়মগুলো থাকে না।’ শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে মিরপুর রোড ও এলিফ্যান্ট রোডে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা না করা হলেও ট্রাফিক নিয়মে সারিবদ্ধভাবে যান চলাচল করাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এসব একটি মাত্র লেন দিন যান চলাচল করতে বেশ সময় লাগছে গন্তব্যে যেতে।
আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে রাস্তায় কোনো গণপরিবহনের দেখা মেলেনি। ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোডে লেগুনা চলাচল করলেও তা অন্যান্য সময়ের চাইতে সংখ্যায় অনেক কম।
একেবারেই গণপরিবহন শূন্য রয়েছে মিরপুর রোড। আর রিকশা ভাড়া করে দূরের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এতে পরিবহন ভাড়ায় অনেক বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে
খবর বিভাগঃ
জাতীয়

0 facebook: