Showing posts with label আফ্রিকা. Show all posts
Showing posts with label আফ্রিকা. Show all posts

26 September 2019

জেনে নিন মিশরের সর্বশেষ পরিস্থিতি এখন কি!

জেনে নিন মিশরের সর্বশেষ পরিস্থিতি এখন কি!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিশরে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আস-সিসির বিরুদ্ধে হঠাৎ বিক্ষোভের পর গত কয়েক দিনে এক হাজার একশ’ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে। খবর পার্সটুডে’র।

মানবাধিকার সংগঠন ‘আরব নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস ইনফরমেশন্স’ এর প্রধান গামাল ঈদ বলেছেন, তার নিজের সংস্থার পাশাপাশি আরও দুটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নজর রেখেছে এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিশরের কয়েক জন বিখ্যাত ব্যক্তিও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোস্তফা কামাল আল সাঈদ বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ সামি আনানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হাজেম হোসনিকে মঙ্গলবার বিকেলে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়া প্রখ্যাত লেখক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান নাফা নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনিও আটক হয়েছেন।

গত শুক্রবার রাতে মিশরের রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে সিসি’র পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মানুষ। এরপর আতঙ্ক দেখা দেয় শাসক শিবিরে। ওই ঘটনার পর থেকে সারাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গেছে এবং সর্বত্র তল্লাশি চলছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে এবং রাস্তায় চলাচলকারী কাউকে সন্দেহ হলেই থামিয়ে দেহ তল্লাশি করছে। সিসি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিক্ষোভে নামে মিশরীয়রা।

মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ মুরসিকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে তৎকালীন সেনাপ্রধান আব্দুল ফাত্তাহ আস সিসি।
আবারো সিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মিসরে রাজনৈতিক নেতাদের গণগ্রেফতার চলছে

আবারো সিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মিসরে রাজনৈতিক নেতাদের গণগ্রেফতার চলছে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিসরের স্বৈরাচারী একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অপসারণের দাবিতে চলা বিক্ষোভ থেকে আটকের সংখ্যা বেড়েই চলছে। দেশটিতে এখন টার্গেট করা হয়েছে সিসি বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদদের। এ পর্যন্ত অনন্ত ২০ জন বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার বিরোধী সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর ইয়েনি শাফাকের।

এর আগে শুক্রবার ও শনিবার রাতে সিসিবিরোধী বিক্ষোভে পাঁচ শতাধিক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

গত শুক্রবার কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী তাহরির স্কয়ারে জড়ো হন। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানে এ চত্বরের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কায়রোর পাশাপাশি আলেকজান্দ্রিয়া ও সুয়েজেও সিসি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের সূত্র ধরে ২০১৩ সালে সিসি নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকে বিরোধীদের ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চালিয়ে সিসিই নজিরবিহীভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন। চলতি বছরের শুরুতে মুরসির বিরুদ্ধে বিচার চলাকালীন অবস্থায় আদালতে মারা যান তিনি।

এদিকে সিসির হাতে শাসনভার যাওয়ার পর এ ধরনের প্রথম সরকারবিরোধী বিরল বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ‘সিসি সরে যাও’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

আইন বিভাগের অধ্যাপক নুর ফারহাত বলেন, মঙ্গলবার বিকালে শিক্ষাবিদ হাজিম হোসনিকে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি কোথায় আছেন এখন পর্যন্ত জানি না। প্রফেসর ফাহাত তার দ্রুত মুক্তি এবং আইনজীবীদের সঙ্গে আসামিদের দেখার করার সুযোগ দাবি করেন।

সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নেমেছেন ইসতিকলাল পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসতিকলাল পার্টির সাধারণ সম্পাদকসহ অনন্ত ২০ জন সিনিয়র সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সরকারি বাহিনী। দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

25 September 2019

স্বৈরশাসক সিসি বিরোধী বিক্ষোভে এবার মিসরের সেনাবাহিনীর সমর্থন!

স্বৈরশাসক সিসি বিরোধী বিক্ষোভে এবার মিসরের সেনাবাহিনীর সমর্থন!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিসরের স্বৈরশাসক সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে এবার সমর্থন জানিয়েছে মিসরের সেনাবাহিনী। সাধারণ জনগনের সাথে মিসরের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে ক্ষমতা থেকে হঠিয়ে দেয়ার ডাক দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি অংশও।

মঙ্গলবার মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ‘ইজিপশিয়ান অফিসার্স ফ্রন্ট’ নামের একটি জোট নাগরিকদের রাস্তায় নেমে সিসির পদচ্যুতির দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ওই জোটটি মিসরের সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল সামি আনানের অনুগত।

জনতার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে এ গোষ্ঠীটি জানায়, ‘আপনারা রাজপথে নামুন। সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রাখুন। হোসনি মোবারকের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি সেনাবাহিনী যেভাবে বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করেছিল, ঠিক সেভাবেই আমরা আপনাদের সুরক্ষা দেব।’

ওই পোস্টে সামি আননের সরকারি মুখপাত্র হিসেবে ড. মাহমুদ রেফাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যে কোনো তথ্যের জন্য নাগরিকদের তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ খবর নিশ্চিত করে রেফাত জানান, যে সব সেনা কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা দেবেন তাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ এবং তাদেরকে ‘মিসরীয় সেনাবাহিনীর সম্মানিত অফিসার’ বলে অভিহিত করা হবে।

তবে এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এদিকে শুক্রবার ও শনিবার রাতে সিসিবিরোধী বিক্ষোভে পাঁচ শতাধিক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।

গত শুক্রবার ও শনিবার কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী কায়রোর তাহরির স্কয়ারে জড়ো হন। আলেকজান্দ্রিয়া ও সুয়েজেও সিসি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে হঠিয়ে ২০১৩ সালে সিসি ক্ষমতা গ্রহণ করে।

এরপর থেকে বিরোধীদের ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চালিয়ে সিসিই নজিরবিহীভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন। আইন করে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেন জেনারেল সিসি। নিষেধাজ্ঞার মুখে সিসির বিরুদ্ধে এ ধরনের বিক্ষোভ বিরল।

23 September 2019

মিসরে বিক্ষোভ দমাতে প্রতিবাদকারীদের ব্যাপক ধরপাকড় স্বৈরশাসক সিসি বাহিনীর

মিসরে বিক্ষোভ দমাতে প্রতিবাদকারীদের ব্যাপক ধরপাকড় স্বৈরশাসক সিসি বাহিনীর


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিসরের স্বৈরশাসক ও একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অপসারণের দাবিতে চলা বিক্ষোভ থেকে আটকের সংখ্যা বেড়ে চলছে।

বিগত দুইদিনে আটককৃতদের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে বলে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে। যদিও আটকের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু স্বীকার করছে না সিসি প্রশাসন।

আল-জাজিরার কায়রো প্রতিনিধি সাইফুদ্দীন জানান, শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া সিসি বিরোধী বিক্ষোভ থেকে কতজনকে আটক করা হয়েছে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু জানায়-নি মিসর সরকার। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমসূত্রে ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।

গ্রেফতার হওয়া বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ৩৪ জন নারীও রয়েছেন। শুধুমাত্র কায়রো থেকেই ১৬০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া আলেক্সজান্দ্রিয়া থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর আটকদের ছেড়ে দিতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ(এইচআরডব্লিউ)।

এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক মাইকেল পেজ বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দমন করতে ফের পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করেছে প্রেসিডেন্ট আল-সিসির নিরাপত্তা বাহিনী।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের ঠাহর করা উচিত যে তাদের এই পাশবিক শক্তির প্রয়োগ বিশ্ব দেখছে এবং অতীতের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সব পদক্ষেপ নেবে।

আসছে সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে শুক্রবার যখন নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে আল সিসি, তখনই শুরু হয়েছে এ বিক্ষোভ।

বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, জাতিসংঘের মহাসচিবসহ মিসরের আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশগুলোর উচিত লোকজনের বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে মিসরীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো।

22 September 2019

মিসরের স্বৈরশাসক সিসির পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষোভ অব্যাহত

মিসরের স্বৈরশাসক সিসির পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষোভ অব্যাহত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিসরের স্বৈরশাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় দিন শনিবার বন্দরনগরী সুয়েজ এবং রাজধানী কায়রোর পার্শ্ববর্তী গিজা ও মাহাল্লাসহ বেশ কিছু শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর সেই ঐতিহাসিক তাহরির স্কয়ারে কয়েক বছর প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও লাইভ বুলেট ব্যবহার করেছে। এতে বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে।

আলজাজিরা বলছে, শুক্রবারের বিক্ষোভের সময় অন্তত ৭৪ জনকে আটক করা হয়। এর পর শনিবারের বিক্ষোভে তাদের মুক্তি দাবি করা হয়। সেইসঙ্গে সিসির পদত্যাগ দাবি করেন তারা। ‘সিসি তুমি চলে যাও’, ‘ভয় নেই জেগে উঠো’ এ রকম নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।

সুয়েজ শহরে এক বিক্ষোভকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুই শতাধিক লোক দ্বিতীয় রাতে অবস্থান করেছেন। যেখানে ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও সামরিক যান।

তিনি বলেন, ‘তারা (নিরাপত্তা বাহিনী) টিয়ার গ্যাস, রাবার ও লাইভ বুলেট ব্যবহার করেছে। এতে বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে।’

এদিকে, কায়রোর তাহরির স্কয়ারে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। এই তাহরির স্কয়ারে ২০১১ সালে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় তার জেরেই পতন ঘটে দেশটির ৩০ বছরের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের।

পরবর্তীতে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হন মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মুহম্মদ মুরসি। কিন্তু ২০১৩ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান সিসি অভ্যুত্থান করে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুৎ করে। এর পর মুরসিসহ মুসলিম ব্রাদারহুডের অসংখ্য নেতাকর্মীকে বন্দি ও হত্যা করা হয়। সম্প্রতি আদালতে বিচার চলাকালে হার্টঅ্যাটাক করে মারা যান মুরসি। এর কয়েকদিন পর তার এক ছেলেও মারা যান।

এদিকে, ক্ষমতা দখলের পর ২০১৪ সালে নামমাত্র নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় সিসি। যেখানে ছিল না কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। তার পর এই প্রথম বিরোধিতার মুখে পড়ল সে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, স্বেচ্ছায় নির্বাসিত মিসরীয় ব্যবসায়ী ও অভিনেতা মুহম্মদ আলীর এক আহ্বানের পর শুক্রবার রাস্তায় নেমে আসতে শুরু করে মিসরের সাধারণ মানুষ। জেনারেল সিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুহম্মদ আলী।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেখানে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত সেখানে সিসি ও তার কর্মকর্তারা জনগণের বিপুল অংকের অর্থ অপচয় করছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জেনারেল সিসি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মুহম্মদ আলী বলেন, সিসি যদি বৃহস্পতিবারের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা না দেয়, তবে শুক্রবার মিসরের জনগণ রাজপথে নেমে আসবে। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকেই জেনারেল সিসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করেন মুহম্মদ আলী। অনলাইনে এসব ভিডিও লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদের কার্যত নেতা হয়ে উঠেছেন স্বেচ্ছা নির্বাসিত এ ব্যবসায়ী।

নিজেদের দাবি আদায়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা সবাইকে বিভেদ ভুলে সিসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈধ সরকারের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ ইসলামে বৈধঃ মিসরের গ্রান্ড মুফতি তাইয়্যেব আজহারী

বৈধ সরকারের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ ইসলামে বৈধঃ মিসরের গ্রান্ড মুফতি তাইয়্যেব আজহারী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিসরীয় স্বৈরশাসক একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। ২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিসরে সব ধরনের গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে সামরিক শাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

দীর্ঘদিন পর রাতের নীরবতা ভেঙে আকস্মিক এ বিক্ষোভে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসছে। এর মধ্যে মিসরের প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যায়ের প্রধান ও দেশটির গ্রান্ড মুফতি ডা. আহমাদ তাইয়্যেবের একটি বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

গত বুধবার এক বিবৃ‌তিতে শাইখুল আজহার বলেন, নির্বাচিত শাসকের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ জনতা শা‌ন্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূ‌চি পালন করতে পারবে এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বৈধতা রয়েছে। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে স্বৈরশাসক সিসির বিরুদ্ধে মিসরীয় জনগণের আন্দোলন শুরু হওয়ার দুইদিন আগে গ্রান্ড মুফতির বক্তব্যটি প্রকাশিত হয়েছে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে এ কথাটি ব্যাপক তাৎপর্য বহন করছে।

ড. আহমাদ তাইয়্যিব বলেন, শাসকের বিরুদ্ধে শা‌ন্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূ‌চি শরিয়তে বৈধ। এর সঙ্গে ঈমান বা কুফরের কোনো সম্পর্ক নেই। শাসকদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীদের যারা কাফের বলে তারা ইসলাম থেকে দূরে সরে পড়েছে। তারা ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তবে শাসকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান বড় ধরনের অপরাধ ও পাপ।

তি‌নি বলেন, এমনকি যারা খোলাফায়ে রাশেদিনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান করেছে তাদেরকেও কাফের ব‌লা হয়নি।

এই ফতোয়ার ব্যাপারে মিসরের গ্রান্ড মুফতি বলেন, আল আজহার সব সময় সবার কথা বিবেচনা করে কাজ করে এবং আমাদের শক্তি-সামর্থ্য দুর্বলকারী ও প্রতিষ্ঠানটির স্বাতন্ত্র্য বিলোপকারী বিভেদ এবং বিভাজন থেকে দূরে থাকে।
মিসরের স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট সিসি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে!

মিসরের স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট সিসি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। ২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিসরে সব ধরনের গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে সামরিক স্বৈরাচারী শাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

তবে দীর্ঘদিন পর যুলুম আর নির্যাতনে ঘুমিয়ে থাকা মিসরীয়রা রাতের নীরবতা ভেঙে শুক্রবার হঠাৎ করেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘সিসি, তুই ক্ষমতা ছাড়’। কিন্তু আকস্মিক এ বিক্ষোভে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসছে।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মধ্যপ্রাচ্যনীতিবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক খালিদ এলজিনদি বলেন, সামাজিকমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি দেখে মিসরীয় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে তিনি অস্বস্তিবোধ করছেন।

তিনি বলেন, কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে, ছোট্ট আকারে হলেও। এমন একটি সরকারের শাসনামালে এই বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন ভিন্নমতের প্রতি শূন্যসহনীয় নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।

এমন একসময় মিসরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছে মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

কিন্তু সিসির নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আল-জাজিরার সাংবাদিক আহমেদ মনসুর জানালেন আরেক কথা। তার মতে, স্বৈরশাসক সিসি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যায়নি যেমনটি সে ঘোষণা করেছিল। সে মিশর থেকে নিউইয়র্ক গিয়েছে ঠিকই, তবে তা হল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য।

গণমাধ্যমের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আহমদ মনসুর জানান, সিসি মূলত বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আশ্রয় অনুসন্ধান করতে গিয়েছে। মিসরীয় জনগণ দীর্ঘদিনের ভয় ও বাধা ভেঙে তার পতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসার বিষয়টি সে আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল।

মিসরের সবশেষ পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি মিসরীয় জনগণের মনে সিসির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ রয়েছে তা যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

21 September 2019

কে এই মুহম্মদ আলী, যার কারনে হঠাৎ জেগে উঠলো যুলুম আর নির্যাতনে ঘুমিয়ে থাকা মিসর!

কে এই মুহম্মদ আলী, যার কারনে হঠাৎ জেগে উঠলো যুলুম আর নির্যাতনে ঘুমিয়ে থাকা মিসর!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিসরীয় স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অপসারণের দাবিতে রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে শুক্রবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

২০১৩ সালে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ মুরসিকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে তখনকার সেনাপ্রধান এই জাহেল সিসি। দেশটির একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির শাসনামলে এটিই প্রথম কোনো গণবিক্ষোভ।

২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সব ধরনের গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে সামরিক শাসক আল-সিসি। দীর্ঘদিন পর রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মিসরীয়রা। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘সিসি, তুই ক্ষমতা ছাড়’। কিন্তু এই বিক্ষোভের পিছনে কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা সংঘবদ্ধতার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়াই বড় ভূমিকা রেখেছে।

স্পেনে নির্বাসিত মিসরীয় ব্যবসায়ী মুহম্মদ আলী গত মঙ্গলবার সিসি প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি স্বৈরশাসক সিসি পদত্যাগ না করে, তবে শুক্রবার মিসরীয়রা তাহরির স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।

মিসরের যে নির্বাসিত ব্যবসায়ী এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তার নামেই আরবি মিডিয়াগুলো এবারের আন্দোলনের নামকরণ করছে। এ বিক্ষোভটিকে তারা বলছে ‘সাউরাতু মুহম্মদ আলী’।

তবে আন্দোলনের ক্ষেত্রে একজন সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট হিসেবেই তার পরিচয়টা মুখ্য হয়ে উঠেছে। দেশের স্বার্থে স্বৈরশাসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার ডাক দিয়েছেন তিনি।

যেভাবে তৈরি হয় জাগরণের প্রেক্ষাপটঃ

২ সেপ্টেম্বর একটি ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত করেন মুহম্মদ আলী। ওই ভিডিওতে তিনি প্রশাসন ও সরকারে বিভিন্ন স্তরে থাকা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে সে সবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

দীর্ঘ ১৫ বছর মিসরে একজন মিলিটারি ঠিকাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মুহম্মদ আলী। সে কারণে অভ্যন্তরীণ অনেক দুর্নীতির ব্যাপারে অবগত তিনি। দেশ গণতান্ত্রিক হলেও অঘোষিতভাবে সেনাশাসনই চলছে মিসরে। তাই অনেক সেনাকর্মকর্তা ও জেনারেল সিসির কাছের লোকদের বিরুদ্ধে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে ফাইভ স্টার হোটেল আর ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে অভিযোগ মুহম্মদ আলী দাঁড় করান তাতে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে থাকে।

এরপর মুহম্মদ আলী সোশ্যাল মিডিয়াতে ধারাবাহিক হতে শুরু করেন। পরের ভিডিওগুলোতে বিগত ছয় বছরের আরও যে ইস্যুগুলো নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল সেগুলো নিয়েও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তিনি।

তার দাবিগুলোর মধ্যে ছিলঃ মিসরের চরম অর্থনৈতিক মন্দা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে সানাফির ও তিরান দ্বীপ বিক্রি করে দেয়া, ইসরাইলের স্বার্থরক্ষায় জাতীয় স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য না রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া, রাজনৈতিক বন্দি ও গুমের রেকর্ড তৈরি করা, এককভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসা, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়ীত করা।

এতদিন যাবৎ এসব দুর্নীতির কোনো বিষয় নিয়েই কোনো ধরনের প্রতিবাদের সুযোগ পায়নি মিসরীয় জনগণ। পুঞ্জিভূত এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যখন সাহস করে একজন বেসামরিক মানুষ করে দেখালেন, সামরিক কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কর্মরত থাকায় তার কথাগুলো জনগণের মধ্যে বিশেষ আবেদন তৈরি করে। এভাবেই তৈরি হতে থাকে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট।

ঘটনার একপর্যায়ে মুহম্মদ আলীর কথা আমলে নিতে বাধ্য হয় জেনারেল সিসি। একটি অনুষ্ঠানে মিডিয়ার সামনেই রাষ্ট্র পরিচালনায় ত্রুটির কথা কৌশলে স্বীকার করে নেয় এ স্বৈরশাসক। কিন্তু এতে মুহম্মদ আলীর আন্দোলনের পক্ষে জনমত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

সর্বশেষ মুহম্মদ আলী গত মঙ্গলবার জেনারেল সিসিকে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় জনগণ শুক্রবার আন্দোলনে নেমে পড়বে বলে হুশিয়ারি করেন তিনি৷ শুক্রবারের কর্মসূচিকে ‘জুমুয়াতুল গজব’ (বিক্ষোভের শুক্রবার) বলে অভিহিত করেন মুহম্মদ আলী।

কর্মসূচি পরবর্তী প্রতিক্রিয়াঃ

স্বেচ্ছায় নির্বাসন গ্রহণ করা মুহম্মদ আলী বর্তমানে স্পেনে অবস্থান করছেন। দেশের বাইরে থাকার কারণে অনেক অনলাইন একটিভিস্টরা টুইট করেছিলেন, তার এই কর্মসূচি সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাছাড়া সিসি সরকার যেভাবে আন্দোলনের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এতে কর্মসূচির দিন ব্যাপক প্রস্তুতি থাকবে প্রশাসনের।

কিন্তু এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শুক্রবার রাত আটটার পর থেকে তাহরির স্কয়ারসহ রাজধানীর প্রায় চারটি স্পটে মোটামুটিভাবে ও রাজধানীর বাইরে আলেকজান্দ্রিয়া ও মানসুরায় জনগণ সিসির পদত্যাগের দাবিতে বিশাল শোডাউন করে। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের প্রোফাইল পিকচারে লাল ছবি দিয়ে রাজপথে নেমে আসে।

বিভিন্ন জায়গা থেকে সিসির ছবি সংবলিত ব্যানার নামিয়ে পোড়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা। সবার স্লোগান ছিল ‘আশ শা'ব ইউরিদ ইসকাতুন নিযাম’ তথা জনগণ সরকারের পতন চায়। আরও স্লোগান ছিল ‘আমরা যাবো না, এবার সিসি যাবে’।

তথ্যসূত্রঃ ক্বনাতুল জাজিরা, আল জাজিরা, শাবাকাতুর রসদ
জালিম স্বৈরশাসক সিসির বিরুদ্ধে বিরল বিক্ষোভঃ মিসরে এখন যা হচ্ছে!

জালিম স্বৈরশাসক সিসির বিরুদ্ধে বিরল বিক্ষোভঃ মিসরে এখন যা হচ্ছে!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। মিসরীয় একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অপসারণের দাবিতে রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অনলাইনে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

সিসির শাসনাধীন ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের কারণে মিসরে এ রকম বিক্ষোভের ঘটনা একেবারেই বিরল বলা চলে।

শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালের এই বিক্ষোভে লোকজন এসে আরব বসন্তের কেন্দ্রস্থল তাহরির স্কয়ারে জড়ো হন। ২০১১ সালে এখান থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদে দেশটির সেই সময়ের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন ঘটেছিল।

এছাড়াও বিভিন্ন শহরে রাতের নীরবতা ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়েন সিসির নিপীড়নে ক্ষুব্ধ লোকজন।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মধ্যপ্রাচ্যনীতিবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক খালিদ এলজিনদি বলেন, সামাজিকমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি দেখে মিসরীয় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে তিনি অস্বস্তিবোধ করছেন।

তিনি বলেন, কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে, ছোট্ট আকারে হলেও। এমন একটি সরকারের শাসনামালে এই বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন ভিন্নমতের প্রতি শূন্যসহনীয় নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।

‘আমরা জানি, সামাজিকমাধ্যমের লোকজনের একটা প্রবণতা আছে, নিজেদের সামনে তুলে ধরার। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে- মিসরের বিভিন্ন স্থানে স্বল্পসংখ্যক লোকজন বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, মিসরীয় সরকার কতটা নিপীড়ক, এ বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে সেটি বোঝা যাচ্ছে,’ বললেন এই বিশ্লেষক।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যের পরিচালক সারাহ লিহ উইটসন বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে লোকজন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। এটি মিসরের ভয়াবহ পরিস্থিতিকেই তুলে ধরছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, দেশজুড়ে কয়েক হাজার লোক বিক্ষোভ করছেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি সম্মান দেখাতে মিসরীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক মাইকেল পেজ জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করতে প্রেসিডেন্ট আল-সিসির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ফের নৃশংস উপায় বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের উচিত এসব স্বীকার করে নেয়া। অতীতের নৃশংসতা যাতে ফের না ঘটে, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

এমন একসময় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

টুইটারে গণতন্ত্রপন্থী তৎপরতাকারী আইয়াদ আল-বাগদাদী বলেন, হেই, ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনার প্রিয় একনায়ক এখন নিউইয়র্কের পথে। তাকে সেখানেই রাখেন। তিনি ফিরে আসুক, মিসরীয়রা সেটি চান না।

শুক্রবারের বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনেক সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী তাদের প্রফাইলে পুরাদস্তুর লাল ছবি আপলোড করেছেন।

মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ মুরসিকে অভ্যত্থানের মাধ্যমে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন তখনকার সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

এরপর সব ধরনের বিরোধীদের প্রতি তিনি দমনাভিযান চালিয়েছেন। ষাট হাজার ভিন্নমতাবলম্বীকে তিনি কারাগারে ঢুকিয়েছেন। অনেকের বিচার চলছে।

গত ১৭ জুন বিচার চলাকালে আদালত কক্ষে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন মুহম্মদ মুরসি। তার মৃত্যুকে সম্পূর্ণ হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, কারাগারে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

সংগঠনটিকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হিসেবে কালোতালিকাভুক্ত করেছে আল-সিসি। ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী শত শত বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে সে।
মিসরে জালিম সিসির বিরুদ্ধে গণজোয়ার শুরু, রাতের নীরবতা ভেঙে আকস্মিক বিক্ষোভ, ‘সিসি, তুই সরে যা’ (ভিডিও)

মিসরে জালিম সিসির বিরুদ্ধে গণজোয়ার শুরু, রাতের নীরবতা ভেঙে আকস্মিক বিক্ষোভ, ‘সিসি, তুই সরে যা’ (ভিডিও)


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মিসরীয়রা। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘সিসি, তুই ক্ষমতা ছাড়’।

দেশটির একনায়ক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির শাসনামলে এটাই প্রথম কোনো গণবিক্ষোভ। ২০১৩ সালে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ মুরসিকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে তখনকার সেনাপ্রধান এই সিসি।

এরপর ভিন্নমত ও রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি শূন্যসহনীয় নীতি বেছে নেয় সে। ষাট হাজারের মতো বিরোধীকে কারাগারে আটকে রাখে। অনেকের বিচার চলছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা রয়টার্সের প্রতিবেদক বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু অনেক তরুণ পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শহরের মূল সড়কে অবস্থান করে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।

বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর আলেক্সান্দ্রিয়ার সড়কেও বিক্ষোভ দেখা গেছে।

এর আগে স্পেনে নির্বাসিত মিসরীয় ব্যবসায়ী মুহম্মদ আলী বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি আল-সিসি পদত্যাগ না করে, তবে শুক্রবার মিসরীয়রা তাহরির স্কয়ারের জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।

আল-জাজিরার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ইয়াহিয়া গানাম বলেন, মিসরীয়দের গতিশক্তির বিভিন্ন মাত্রার প্রতিনিধিত্ব করে শুক্রবারের এই বিক্ষোভ।

তিনি বলেন, মিসরে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন পাওনা আছে। দেশটিতে এখন যা ঘটছে, সেটা তারই প্রতিফলন। আরও আগেই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দেশবাসী জুলুমশাহির কবল থেকে মুক্তি পেতে চাচ্ছেন।

২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সব ধরনের গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেন সামরিক শাসক আল-সিসি।

টুইটারে গণতন্ত্রপন্থী তৎপরতাকারী আইয়াদ আল-বাগদাদী বলেন, হেই, ডোনাল্ড ট্রাম্প, তোমার প্রিয় একনায়ক এখন নিউইয়র্কের পথে। তাকে সেখানেই রেখে দাও। সে ফিরে আসুক, মিসরীয়রা সেটি চায় না।

শুক্রবারের বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনেক সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী তাদের প্রফাইলে পুরাদস্তুর লাল ছবি আপলোড করেছেন।

গত ১৭ জুন বিচার চলাকালে আদালত কক্ষে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন মুহম্মদ মুরসি। তার মৃত্যুকে সম্পূর্ণ হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, কারাগারে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

সংগঠনটিকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হিসেবে কালোতালিকাভুক্ত করেছে আল-সিসি। ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী শত শত বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে সে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০১৮ সালের দ্বিতীয় মেয়াদে নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করার পর বিরোধীদের বিরুদ্ধে তার নিরাপত্তা বাহিনী ভীতিপ্রদর্শন, সহিংসতা ও বিনাবিচারে গ্রেফতারের অভিযান বাড়িয়ে দিয়েছে।

মিসরের বাকস্বাধীনতার ওপর ব্যাপক হামলাকে গভীর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের বিশ্লেষকরা।

দেশটিতে প্রচুর সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের অবৈধভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির গবেষক ডালিয়া ফাহমি বলেন, ২০১১ সালের তুলনায় শুক্রবারের বিক্ষোভ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবন্ধকতার আতঙ্ক থেকে এই গণজাগরণ। তবে এটা প্রত্যাশিত। আজকের জনগণের দিকে যদি আপনি তাকান, তবে লাখ লাখ লোকের বয়স ২৩ বছরের আশপাশে হবে। এখন তাদের বয়স থেকে আট বছর বিয়োগ করলে যেটা থাকবে, আরব বসন্তের সময় সেটাই ছিল তাদের বয়স। এর অর্থ দাঁড়ায় তখন তাদের গড় বয়স ছিল ১৫।

ডালিয়া বলেন, আপনার বিপুলসংখ্যক জনসংখ্যা বিপ্লব-পরবর্তী আতঙ্ক ও স্মৃতি নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। এসব তরুণদের চাহিদা ভিন্ন রকম। ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের বোঝাপড়াও ভিন্ন ধরনের। কাজেই আজ যারা সড়কে বিক্ষোভ করছেন, আট বছর আগের তুলনায় তারা একটু ভিন্নই হবে।