30 January 2019

ভোটার হবেন অনার্স মাস্টার্স ও এমফিলের শিক্ষার্থীরা


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও ভোটার হবেন অনার্স, মাস্টার্স এবং এমফিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা যারা ভোটার হবেন, তারাই প্রার্থী হতে পারবেনএক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ৩০ এর মধ্যে (তফসিল ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত)তবে যারা অন্য প্রতিষ্ঠানে অনার্স করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স অথবা এমফিল করছেন তারা ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন না

ভোট দিতে পারবেন না সান্ধ্যকালীন, পেশাদারী অথবা বিশেষ মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও বিভিন্ন কোর্সের শিক্ষার্থীরাভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার্থী এবং সরকারি অথবা বেসরকারি চাকরিতে যোগদান করা শিক্ষার্থীরাওআর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতেই ১১ মার্চের এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক সভায় ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্রের বিষয়ে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়চূড়ান্ত করা হয় নির্বাচনের আচরণবিধিওএকাধিক সিন্ডিকেট সদস্য  এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেনসন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়শেষ হয় রাত ৮টার দিকেভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সিন্ডিকেটের ১৮ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র একজন অনুপস্থিত ছিলেনএর আগে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি এবং সাত সদস্যের আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি সিন্ডিকেটে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন

এসব প্রস্তাবনা ও সুপারিশ আলোচনা পর্যালোচনা শেষে সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয়সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে চারটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন হয়েছেসেগুলো হল- এমফিলে অধ্যয়নরতদের ভোটার ও প্রার্থিতার সুযোগ দেয়া, প্রার্থিতার বয়সসীমা ৩০ নির্ধারণ এবং ডাকসু সভাপতি ভিসির ক্ষমতা হ্রাস করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের প্রতি ন্যস্ত করাএর বাইরে নতুন দুটি পদ সংযোজন করা হয়েছে

প্রার্থিতার বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, প্রথমবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে যারা অনার্স, মাস্টার্স ও এমফিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত এবং বয়স ৩০ এর মধ্যে আছে তারাই প্রার্থী ও ভোটার হতে পারবেনআরেক সিন্ডিকেট সদস্য ড. মো. মিজানুর রহমান জানান, যারা ভোটার হবে, তারাই প্রার্থী হতে পারবেনসান্ধ্যকালীন কোর্স (এমবিএ, ইএমবিএ, এমএড ইত্যাদি), প্রোফেশনাল/এক্সিকিউটিভ/স্পেশাল মাস্টার্স/কোর্স, পিএইচডি, ডিবিএ অথবা সমমানের কোর্স, ডিপ্লোমা এবং সার্টিফিকেট কোর্স, ভাষার কোর্স এবং অন্যান্য কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ভোটার হাতে পারবেন না

আচরণবিধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত : এদিকে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটির খসড়া প্রস্তাবনাগুলোই চূড়ান্ত হয়েছেএক্ষেত্রে শুধু পরিবর্তন এসেছে প্রচারণার শেষ সময় রাত ১১টার পরিবর্তে ১২টা করা হয়েছেতবে প্রচারণা শুরুর সময় সকাল ১০টা ঠিক রাখা হয়েছে

এছাড়া আচরণবিধির প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত ৪ নম্বর ধারার গ-তে কিছু পরিবর্তন এসেছেসেখানে প্রচারণায় কারা অংশ নিতে পারবেন না- এমন নির্দেশনায় খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীএই শব্দগুলো বাদ দিয়ে ভোটার ও প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে নাএমনটি লেখা হয়েছেএর বাইরে কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির বিষয়েও আলোচনা হয় সিন্ডিকেটেএ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, ভোট দেয়ার গোপন বুথের বাইরে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে

সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা : এদিকে অনার্স ও মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমফিল অধ্যয়নরতদের নির্বাচনে প্রার্থিতার সুযোগ দেয়ায় এবং বয়সীমা ৩০ বছর নির্ধারণ করায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরতারা বলছেন, এর ফলে হলগুলো বহিরাগত ও অছাত্রমুক্ত করা এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সিট দেয়ার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে

কারণ এখন অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে সঠিক সময়ে মাস্টার্স করবে নাযা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা দেয়ায় প্রতিবন্ধকতা ও জট তৈরি করবেএসব বিষয়ে ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আহ্বায়ক এবং গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাসুদ আল মাহদী বলেন, প্রশাসন যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে নাকারণ বর্তমান বাস্তবতায় একজন ছাত্র নিয়মিত অধ্যয়ন করলে ২২-২৩ বছরের মধ্যে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন হয়

আর এই নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই ছাত্রদের স্বার্থ ভালো বুঝবেসেজন্য তাদের মতামত নেয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলঅথচ নির্বাচনের বিষয়ে সাধারণ ছাত্রদের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। এমন তো হতে পারত, বিভাগগুলোর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের (সিআর) থেকে এ বিষয়ে পরামর্শ আহ্বান করা যেত অথবা লিখিত মতামত আহ্বান করা যেতঅথচ তার কোনোটিই করা হয়নিবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছে নতি স্বীকার করেছেডাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আশাবাদী করলেও প্রার্থিতার বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত আমাদের আশাহত করেছে

ভোট কেন্দ্র একাডেমিক ভবনে করার দাবি : এদিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র একাডেমিক ভবনে করার দাবিতে অনড় রয়েছে সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার রাতে সিন্ডিকেট সভার পর হলে ভোট কেন্দ্র করার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে প্রগতিশীল ছাত্র জোটসাড়ে ১০টার দিকে বিশ্বদ্যিালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে স্মৃতি চিরন্তন, মুহসীন হল, সূর্যসেন হল, বিজয় একাত্তর হল, জিয়াউর রহমান হল, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ঘুরে টিএসসিতে এসে শেষ হয়


শেয়ার করুন

0 facebook: