09 July 2019

তুরস্কে নারী-পুরুষের আলাদা শিক্ষাব্যবস্থা চান সুলতান এরদোগান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। তুরস্কেও নারী-পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। তবে উনার এমন ধর্মীয় অনুশাসনমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে সেদেশের অনেক স্যাকুলারপন্থীরা।

জাপানে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে গিয়ে নারী-পুরুষের পৃথক শিক্ষা নিয়ে এক অভূতপূর্ব বক্তব্য দেন সুলতান এরদোয়ান। জাপানে ৮০ টি নারী বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়হিসাবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জানান, তুরস্কেও তিনি এটি চালু করতে চান ইং-শা-আল্লাহ।

সম্মেলন থেকে ফিরে আঙ্কারায় জাপানি মডেলে নারী-পুরুষের পৃথক শিক্ষার কথা বলেন সুলতান এরদোয়ান। তিনি বলেন, তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পৃথক শিক্ষার মধ্যে ভালো কিছু দেখছেন তিনি। তুরস্কের উচ্চ শিক্ষা কাউন্সিল-(ওয়াইওকে) কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলার কথাও জানান সুলতান এরদোয়ান।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে উনার এমন ইচ্ছার তীব্র সমালোচনা করেছে স্যাকুলার উগ্র নাস্তিক্যবাদী নারী অধিকার কর্মী ও কথিত নারীবাদীরা। তারা বলছেন, জাপানের আদলে সবদেশে এটা করে ফেলা কোনোভাবে উপযুক্ত নয়। কারণ নারী অধিকার বিবেচনায় বৈশ্বিকভাবে অনেক পিছিয়ে জাপান।

২০১৮ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ)-এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে ১৪৯ দেশের মধ্যে ১১০তম স্থান জাপানের। যদিও তুরষ্ক জাপান থেকে ২০ ধাপ পেছনে ছিল।

পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা করলে ছাত্রীরা ভালো ফলাফল করবে বলে মত দিয়ে থাকেন এরদোয়ান এবং উনার দল একেপির নেতারা। তবে এক্ষেত্রে ভিন্নমত দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও কথিত নারী অধিকার বিশেষজ্ঞ ফাতেমা গুল বার্কতাই।

এরদোয়ানের পৃথক শিক্ষা-পদ্ধতি পরিকল্পনাকে অলীক কল্পনা' হিসাবে অভিহিত করে কথিত নারীবাদী শিক্ষাবিদ আকসু বোরা। ‘‘একবিংশ শতকে এসে কোনো নারী, এমনকি রক্ষণশীল নারীরাও এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইবে না বলেও সে দাবী করে

স্যাকুলার কামাল আতাতুর্কের হাত ধরে ধর্মনিরপেক্ষ মুক্তমতের নীতি নিয়ে ১৯২৩ সালে ইসলামিক তুরস্ক ভেঙ্গে স্যাকুলার তুরস্কের প্রতিষ্ঠা হয়। সে কারণে দেশটিতে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

১৯৭৩ সালে পাস করা স্যাকুলার তুরস্কের জাতীয় শিক্ষা আইনেও বলা আছে, ‘‘নারী-পুরুষের একীভূত শিক্ষাপদ্ধতিই উত্তম আমাদের রাষ্ট্রে।'' সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে নানা রকম ধর্মীয় পদক্ষেপ নিয়ে চলছেন এরদোয়ান সরকার যার কারনে দুশ্চিন্তায় আছে স্যাকুলার টার্কিশ সমাজ।


শেয়ার করুন

0 facebook: