Showing posts with label অর্থনীতি. Show all posts
Showing posts with label অর্থনীতি. Show all posts

07 August 2019

পবিত্র কোরবানি ঈদে দাম বাড়ছে না লবণের, মজুদ আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ

পবিত্র কোরবানি ঈদে দাম বাড়ছে না লবণের, মজুদ আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ


স্টাফ রিপোর্ট।। চাহিদা মোতাবেক পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুদ থাকায় আসন্ন কোরবানির ঈদে লবণের ঘাটতি হবে না। সেই সঙ্গে লবণের দামও বাড়বে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। শনিবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় চামড়া ব্যবসায়ীলবণ ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া যায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাত সুলতানা বলেন২০১৮ সালে সারাদেশে গরুমহিষছাগল ও ভেড়াসহ মোট এক কোটি পাঁচ লাখ পশু কোরবানি করা হয়েছিল। এবছর বন্যা ও ডেঙ্গুর কারণে গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম পশু কোরবানি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লালবাগের পোস্তা এলাকার পাইকারি লবণ বিক্রেতা জামিল হোসেন জানানআমাদের কাছে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ আছে। দামও বর্তমানে কম। ২০১৮ সালে বস্তা প্রতি এক হাজার টাকা দরে লবণ বিক্রি করেছি। এবছর ৭৪ কেজির বস্তা ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। তবে ঈদের দিন থেকে হয়তো দাম সামান্য কিছু বাড়তে পারে। কঙবাজার জেলার লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সালমা সল্টের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়এবছর বৃষ্টি না থাকায় প্রচুর পরিমাণে লবণ উৎপাদন হয়েছে। ফলে দামও অনেক কম। চামড়ায় দেওয়া লবণ বর্তমানে বস্তা প্রতি ৬৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে কোরবানির ঈদে কি হয় তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ জানানএবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুদ আছে। দামও স্থিতিশীল রয়েছে। দাম আর বাড়বে বলেও মনে হচ্ছে না। এবছর আবহাওয়া লবণ উৎপাদনের অনুকূলে থাকায় ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। সেই সঙ্গে লবণের বাজারমূল্যও স্থিতিশীল রয়েছে। আসন্ন ঈদে কি হবেতা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও খুব একটা হেরফের হবে না বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে লবণকে ঘিরে বাজারে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই সিন্ডিকেট বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরেও অটো ক্রাইসিস তৈরি করে লবণের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

08 July 2019

রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে ঢাকার ৪ রুটে হবে পাতাল রেল

রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে ঢাকার ৪ রুটে হবে পাতাল রেল

ছবিঃ সংগৃহীত
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ যানজটে অসহনীয় হয়ে উঠছে রাজধানীর জনজীবন। অপচয় হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা। সেই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

কেননা শহরগুলোই হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির মূল নিয়ামক। তার মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবদান সবচেয়ে বেশি। এসব বিবেচনায় রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে বৃহত্তর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। ঢাকার চারটি রুটে নির্মাণ করা হবে সাবওয়ে (পাতাল রেল)। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে মাটির নিচ দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে।

ফলে ভূমির ওপরে জনসংখ্যার চাপ কমবে। ফাঁকা জায়গার পরিমাণ বাড়বে। এতে রাজধানীর পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য সেতু কর্তৃপক্ষ ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর কনস্ট্রাকশন অব সাবওয়ে ইন ঢাকা সিটি’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এটি ২০২০ সালে শেষ হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের একটি প্রস্তাব দেয়া হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এতে ভেটো দিয়েছে সেতু বিভাগ। ফলে আপাতত এ প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত চারটি সাবওয়ে রুট হচ্ছে- রুট-১ : টঙ্গী-বিমানবন্দর-কাকলী-মহাখালী-মগবাজার-পল্টন-শাপলাচত্বর-সায়েদাবাদ-নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত। রুট-২ : আমিনবাজার-গাবতলী-আসাদগেট-নিউমার্কেট-টিএসসি-ইত্তেফাক ও সায়েদাবাদ পর্যন্ত। রুট-৩ : গাবতলী-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-কাকলী-গুলশান-২-নতুনবাজার-রামপুরা টিভি ভবন-খিলগাঁও-শাপলা চত্বর-জগন্নাথ হল ও কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত এবং রুট-৪ : রামপুরা টিভি ভবন-নিকেতন-তেজগাঁও-সোনারগাঁও-পান্থপথ-ধানমণ্ডি-২৭, রায়েরবাজার-জিগাতলা-আজিমপুর-লালবাগ ও সদরঘাট পর্যন্ত।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আবুল হোসেন যুগান্তরকে জানান, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং মধ্যবর্তী প্রতিবেদন শেষ হয়েছে। এরপরই করা হবে খসড়া প্রতিবেদন এবং তারপরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা শহরে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৭ হাজার ৯৫০ জন। মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২৮৬ কিলোমিটার। সড়কের ঘনত্ব ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। অথচ আদর্শমান হচ্ছে ২০-২৫ শতাংশ সড়কের ঘনত্ব। ফাঁকা জায়গা রয়েছে ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, কিন্তু থাকার প্রয়োজন ১৫-২০ শতাংশ। সড়কের বর্তমান সক্ষমতা ৩ লাখ হলেও বিআরটিএর নিবন্ধিত গাড়ি প্রায় ৯ লাখ। ঢাকা শহরে যানজটের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সেতু বিভাগ ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সড়কপথে যেখানে ১০০ বাসে ঘণ্টায় ১০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারে, সেখানে সাবওয়েতে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রীর চলাচল সম্ভব। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে (সরকারের নিজস্ব অর্থেই) সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সাবওয়ে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের পরিমাণ, সম্ভাব্য উৎস, প্রয়োজনীয় এয়ারফ্লোর ব্যবস্থা, সাবওয়ের জন্য অপসারিত মাটি কোথায় এবং কিভাবে রাখা হবে বা কিভাবে ব্যবহার করা হবে এবং সাবওয়ের অবস্থান, এলাইনমেন্ট ও দৈর্ঘ্য নির্ধারণ, প্রকল্পের বিভিন্ন উপ-অঙ্গে নির্মাণ পদ্ধতি, জিওটেকনিক্যাল ইনভেস্টিগেশন, সিসমিক স্টাডি ও সার্ভে, ট্রাফিক সার্ভে করা হবে।

এছাড়া পরিবেশ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত সমীক্ষা পরিচালনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাথমিক ডিজাইন প্রণয়ন ও এর ভিত্তিতে প্রাক্কলন প্রস্তুত, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং ক্রয়, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ‘ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে সাবওয়ে নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

এ প্রস্তাবের ওপর রোববার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেতু বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, ঢাকার চারটি রুটে সাবওয়ে নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে। এসব রুটে টঙ্গী-বিমানবন্দর রয়েছে।

সেখানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির রুটের মধ্যে দ্বৈধতা রয়েছে। এ সময় সেতু বিভাগের পক্ষ থেকেও ভেটো দেয়া হয়। পরবর্তীকালে পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়েছে, সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারপর প্রকল্পটির প্রস্তাব করতে হবে। তখন আবারও পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত এটি স্থগিত থাকবে বলে জানা গেছে।

08 April 2019

বছরে ৩০০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হয় রাজধানীর হকারদের

বছরে ৩০০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হয় রাজধানীর হকারদের

ছবিঃ সংগৃহীত
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ রাজধানীর হকারদের ৩০০ কোটি টাকারও বেশী চাঁদা দিতে হয়। যার কোন বৈধতা নেই। ওই টাকা রাজস্ব হিসেবে নিয়ে সিটি কর্পোরেশন হকারদের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারে। যার মাধ্যমে হকাদের জীবনমান উন্নয়ন ও পথচারীদের চলাচলের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। দীর্ঘ দিনের গবেষণা তথ্য তুলে ধরে এবিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নগর গবেষক মারুফ হোসেন।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নগর ব্যবস্থাপনায় হকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন আয়োজিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল হাশেম কবীর।

আলোচনায় অংশ নেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, শিশু সংগঠক ডা. লেনিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, সংগঠনের উপদেষ্টা সেকেন্দার হায়াৎ, মুর্শিকল ইসলাম শিমুল প্রমুখ।

বৈঠকে মারুফ হোসেন আরো বলেন, যেখানে একজন হকারের (ডিম বিক্রেতা) ফুটপাতে ৫ বর্গফুট জায়গা লাগে, সেখানে একটি গাড়ি ১৬০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ যানজটের জন্য হকারদের দায়ি করে উচ্ছেদ ও তাদের মালামাল লুটপাট চলছে। যা অমানবিক। এধরণের অবাস্তব পদক্ষেপ থেকে সরে এসে যানজট নিরসনে সুনির্দ্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সকল নাগরিকের অধিকার কায়েমের জন্য আমরা বুকের রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। আমাদের নাগরিকরা শতকরা ৯৫ ভাগ গরীব ও মধ্যবিত্ত। এর একটা অংশ হকার। আর হকারদের কাছ থেকে যারা ক্রয় করেন তারাও গরীব ও মধ্যবিত্ত মানুষ।

তিনি আরো বলেন, হকারদের বৈধতা দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরূপ তাদেরকে আইডি কার্ড প্রদান করেন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হকার সমস্যার সমাধান করেন।

সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, হকাররাও মানুষ। তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই সরকারের আমলে গ্রামের মানুষ যেভাবে সুরক্ষা পাচ্ছে, একইভাবে হকারসহ শহরের মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে হকারদের জন্য আইন হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরণের আইন ও নীতিমালা করতে হবে। এবিষয়ে সংসদে আলোচনা ছাড়াও বেসরকারী বিল উত্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি।

গোলটেবিল বৈঠকে ১০ দফায় দাবি উত্থাপন করে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, হকারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, চাঁদাবাজী বন্ধ, হকারদের উপর দমন পীড়ন বন্ধ, প্রকৃত হকারদের তালিকাভুক্তিকরণসহ আইডি কার্ড প্রদান, দখলকৃত সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে হকারদের পুর্নবাসন, হকারদের ট্যাক্সের অন্তর্ভুক্ত করা, হকারদের পুর্নবাসনের জন্য ৫ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং জাতীয় বাজেটে হকারদের জন্য বরাদ্দ রাখা। সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

18 March 2019

বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না প্রভাবশালীরা, বিপাকে ব্যাংকিং খাত

বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না প্রভাবশালীরা, বিপাকে ব্যাংকিং খাত


বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেবড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছেফলে বেড়ে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোর লোকসানের পাল্লাএতে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বাড়ছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, মাত্র ১ ও ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এবং সুদের ওপর বিশেষ ছাড় নিয়ে ১১টি শিল্প গ্রুপ ১৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিলকিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ওই নতুন ঋণও আবার খেলাপি হয়ে পড়েছেগত ডিসেম্বর শেষে ওই ঋণ সুদে-আসলে ২০ হাজার কোটি টাকা ছেড়ে গেছে, যা গত সেপ্টেম্বর শেষে ছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা

ঋণ গ্রহীতা এসব প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা নিয়ে ঋণ পুনর্গঠন করেও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছে নাউল্টো কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে স্থাগিতাদেশ নিয়ে  আবার অন্য ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ নিচ্ছে

ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকার সমর্থিত দেশের প্রভাবশালী একটি শিল্পগ্রুপ ২০১৫ সালে বিশেষ সুবিধায় ৫ হাজার ২১৬ কোটি টাকার ঋণ নবায়ন করেছিলঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ওই ঋণ বেড়ে এখন সুদে-আসলে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার ওপরে ঠেকেছে

অপর একটি শিল্পগ্রুপ ১ হাজার ৭৭৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিলঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় সুদে-আসলে তা বেড়ে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকায় উঠেছে

দেশের প্রথম কাতারের আরেকটি শিল্পগ্রুপ ১ হাজার ৬৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিলযথাযথভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় এখন তা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় ঠেকেছে

সাম্প্রতিককালে বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত আরেকটি শিল্প গ্রুপ ১ হাজার ৯৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিলযথাযথভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় এখন তা বেড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

এ প্রসঙ্গে বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন রেডিও তেহরানের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লুটপাট চলতে থাকলে জনগণের উপর এ বোঝা চাপবেজনগণের পকেট কেটে টাকা আদায় করা হবে

তিনি মনে করেন, এ লুটপাটের আর্থনীতির বিরুদ্ধে সমাজের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে

অর্থনৈতিক বিশ্লষকেরা জানিয়েছেন, বড় গ্রাহকদের একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে দেয়া উচিত নয়ঋণ কেন্দ্রিভূত হওয়া ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ নেয়া উচিতএকই সাথে বড় শিল্প গ্রুপের ঋণগুলো কঠোরভাবে তদারকি করা উচিত

এদিকে, বাংলাদেশের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল জানিয়েছেন, সরকার খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করার পরিকল্পনা  করছে। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনার পর তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি গ্রহণের কথা জানান

নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “খেলাপি ঋণ বিক্রি করার জন্য আমরা একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করবওই কোম্পানির কাছে ঋণ বিক্রি করে দীর্ঘ মেয়াদে এসব ঋণ আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রঃ ফাষ্টটুডে

15 March 2019

অর্থমন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমূক্ত করার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

অর্থমন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমূক্ত করার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ সবার আগে আর্থিক খাত ও অর্থমন্ত্রনালয়কে দুর্নীতিমূক্ত করার ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালতিনি বলেন, মানুষের ধারণা ব্যাংক ও আর্থিক খাত এখন বিপদগ্রস্তযা নিয়ে কিছুটা হলেও আতংক রয়েছেযা কাটিয়ে আস্থা ফেরানো হবে

সকালে রাজধানীতে অগ্রনী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনিজানান খুব দ্রুতই দেউলিয়াত্ব আইন তৈরি করা হবেপাশাপাশি বিকশিত করা হবে বন্ড মার্কেট। অবিরত অগ্রযাত্রায় অগ্রনী এমন প্রতিপাদ্য নিয়ে অগ্রনী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

সম্মেলনে জানানো হল গেল বছর বেড়েছে ব্যাংকটির আমানত, সাথে মুনাফাওকমেছে লোকসানি শাখার সংখ্যাতবে এসময়ে বেড়েছে খেলাপি ঋণযদিও আমানতের অনুপাতে কমেছে পরিমানঅনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য, ব্যাংক নিয়ে কিছুটা হলেও ভীতি আছে সাধারণ মানূষেরযা কাটিয়ে ফেরানো হবে আস্থাতিনি ঘোষণা দিলেন, সবার আগে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে আর্থিক খাতকে

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই দেউলিয়াত্ব আইন থাকলেও নেই বাংলাদেশেঅর্থমন্ত্রী জানালেন, খুব দ্রুতই যা প্রণয়ন হবে এদেশেওচালু হবে বন্ড মার্কেটবলেন, ভালো ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে সরকারযারা নিয়মিত কর দেন, আগামী বাজেটে কমবে তাদের কর। তবে যারা সামর্থ্য থাকার পরেও কম দেন, ধরা হবে তাদেরসম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ ১৫ জন গুনী গ্রাহককে পুরষ্কৃত করে অগ্রনী ব্যাংক

13 March 2019

৫ দিন বন্ধ থাকবে ডাচ-বাংলা ব্যাংক

৫ দিন বন্ধ থাকবে ডাচ-বাংলা ব্যাংক


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ সিস্টেম আপগ্রেডের জন্য আগামী ১৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সব ধরনের সেবা

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেএ ছাড়া এসএমএসের মাধ্যমে ব্যাংকটির গ্রাহকদের মোবাইল ফোনেও বার্তাটি জানানো হয়েছে

এতে বলা হয়েছে, সিস্টেম আপগ্রেড প্রক্রিয়ার জন্য আগামী ১৪ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৯ মার্চ সকাল ৬টা পর্যন্ত ব্যাংকের সব শাখা, এটিএম বুথ, পিওএস ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ সব ধরনের সেবা বন্ধ থাকবে

এরই মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং গ্রাহকদের এসএমসের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা

06 March 2019

চাকরিচ্যুত হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক

চাকরিচ্যুত হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ অবশেষে চাকরিচ্যুত হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত মহাব্যবস্থাপক (জিএম) প্রভাষ চন্দ্র মল্লিকতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক ও সহকর্মীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেয়ার অভিযোগ ছিলঅভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় গত রোববার তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করল বাংলাদেশ ব্যাংকওইদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের এক আদেশের মাধ্যমে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়এর ফলে তিনি চাকরি পরবর্তী কোনো সুযোগ-সুবিধা আর পাবেন না বলে জানা গেছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশে বলা হয়েছে, বগুড়া অফিসের সাময়িক বরখাস্তকৃত মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিকের বিরুদ্ধে এইচআরডি-২ থেকে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছেউপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশন ২০০৩ এর ৪৪(১)(জি) ধারার আওতায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন নাকিন্তু প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই প্রভাব খাটিয়ে ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত ৮৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেনএর মধ্যে ১১টি ব্যাংকের ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৬ টাকা ছিল মন্দমানের খেলাপিআরো তিনটি ব্যাংকের ১০ লাখ ১১ হাজার টাকা সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকৃতশুধু ব্যাংক নয়, নানা কৌশলে সহকর্মীদের কাছ থেকেও লাখ লাখ টাকা ধার নিয়ে আর ফেরত না দেয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়এরপর এ বিষয়ে গঠিত একটি তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেতাতে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়এরই ভিত্তিতে গত রোববার তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়

05 March 2019

রিজার্ভ চুরির অর্থ উদ্ধারে ফিলিপাইন যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদল

রিজার্ভ চুরির অর্থ উদ্ধারে ফিলিপাইন যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদল


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ ফিরিয়ে আনতে ফিলিপাইন যাচ্ছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধিদলটি আগামী সপ্তাহে ফিলিপাইন যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান আইনজীবী (লিগ্যাল অ্যাডভাইজার) আজমালুল হোসেন কিউসি।

সোমবার বিকালে সুপ্রিমকোর্টের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। জানা গেছে, আগামী ১১ ও ১২ মার্চ প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। সমঝোতায় অর্থ ফেরত পেলে প্রয়োজনে বাংলাদেশ মামলা প্রত্যাহার করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের কয়েক কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম শুরুর আগেই সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আজমালুল হোসেন বলেন, রিজার্ভ চুরির টাকা ফিরিয়ে আনতে আমাদের আইনি লড়াই চলছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল কোর্টে মামলা চলছে। আগামী ২ এপ্রিল মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ রয়েছে। তবে শুনানির আগেই এ মামলার বিবাদী পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছি। সমঝোতার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধানের জন্যই বসতে যাচ্ছি আলোচনায়। তিনি আরও বলেন, ফিলিপাইনে যাওয়ার আগে আগামী ১০ মার্চ নিজেদের মধ্যে বসে আলোচনার কৌশল ঠিক করা হবে। এ ছাড়া আগামী ১১ ও ১২ মার্চ মামলার বিবাদী ফিলিপাইনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিভাগীয় বিচারক ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে প্রতিনিধিদলটি।

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলংকায় যাওয়া দুই কোটি ডলার বিতরণ হওয়ার আগেই ফেরত পায় বাংলাদেশ।

আর ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেশটির আদালতের নির্দেশে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত আসে। এর পর থেকে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন বাকি ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার জন্য মামলা করা হচ্ছে।

এসব অর্থের মধ্যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়া বাকি অর্থের খোঁজ পাওয়া গেছে। যার বড় অংশই দেশটির আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ হয়ে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে সম্প্র্রতি ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানার আদেশ দিয়েছেন ফিলিপাইনের আদালত। এই সাজার মধ্য দিয়ে অর্থপাচারের ঘটনায় মায়া সান্তোস আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

এর আগেও ফিলিপাইনের বিভিন্ন আদালতে আরসিবিসির দায়েরের বিষয়টি উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর এক তদন্তে উঠে আসে- হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারও যে সম্পৃক্ততা নেই, সেটিও পরিষ্কার হয়। এসব কারণে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে অর্থ ফেরত পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

03 February 2019

রিজার্ভ চুরির অর্থের হদিস মিলেছে

রিজার্ভ চুরির অর্থের হদিস মিলেছে


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের কোথায় আছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে করা মামলায় তিন বছর আগের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত ও সুবিধাভোগীদের আসামি করা হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে এক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, এসব ডলার ফিলিপাইনের কোথায় আছে তা আমাদের জানা আছে।

সে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত এবং যারা সুবিধাভোগী তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। ৬৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৬ কোটি ৬৫ লাখ) ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ে এ মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (আইবিবি)-এর ১১তম পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিআইবিএমের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহিম ও বিআইবিএম সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে করা মামলায় ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) এবং ওই ব্যাংকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ডজনখানেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

এর মধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। বাকি ৩৪টি মেসেজের মাধ্যমে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়া হয়।

ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, অল্প সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হয়। ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে সেই অর্থ চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও কোনো হদিস মেলেনি।

গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক আমাদের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট করেছে মামলার প্রথম থেকে শুরু করে প্রতিটা ডলার উদ্ধার পর্যন্ত তারা আমাদের সঙ্গেই থাকবে।কতদিনের মধ্যে এ মামলার সুরাহা হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন বলতে পারছি না। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হতে পারে। যেখানে এ মামলা করা হয়েছে এখানে সাধারণত জলদি হয়।ফিলিপাইনে অনেক বিলম্ব হতো। ওখানে অনেক দীর্ঘসূত্রতা আছে। নিউইয়র্কে অনেক সুবিধা। আমরা আশা করছি খুব বেশি সময় লাগবে না।

বাংলাদেশের মামলাকে ভিত্তিহীন বলে আরসিবিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের প্রসঙ্গে ফজলে কবির বলেন, আরসিবিসি এটা বললেও বুঝতে হবে যে আরসিবিসির ওখানে সব টাকা গিয়েছিল। অর্থাৎ ৮১ মিলিয়ন ডলার আরসিবিসিতেই গিয়েছিল এবং সেটি চারটা ফেইক অ্যাকাউন্টেই গিয়েছিল, যে অ্যাকাউন্টগুলো বৈধ না। এ কাজের জন্য আরসিবিসিকে ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের রেকর্ড সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে।

তাদের সাজা দিয়েছিল এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) পেসো, অর্থাৎ ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কাজেই আরসিবিসি এটা বললেই তো হয় না। এর আগে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, সরকারের টার্গেট অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে নিয়ে যেতে হলে এ দেশকে রফতানিপ্রধান অর্থনীতির দেশ করতে হবে। এভাবে দেশের অর্থনীতিকে সাজানোর জন্য দেশের ব্যাংক খাতকে ভূমিকা নিতে হবে।

26 January 2019

মামলা করতে রোববার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদল

মামলা করতে রোববার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদল

ছবিঃ সংগৃহীত
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ রিজার্ভ চুরির দায়ে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে

রোববার দলের সদস্যরা ঢাকা ত্যাগ করবেনতারা ২৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেশনিবার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, হ্যা, প্রতিনিধিদল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে

সূত্র জানায়, আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কতবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনার পর তিন বছরের মধ্যে মামলা না করলে তার গুরুত্ব কমে যায়

আর এ লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলা করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংকমামলার জন্য রোববার রাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের সাবেক ডিজিএম বর্তমানে মহাব্যবস্থাপক মো. জাকের হোসেন এবং বিএফআইইউর যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেনআর বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন
সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে মামলাটি করবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ দেয়া দুই লফার্মমামলার পর প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নিউইয়র্ক ফেডের প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনে যাবে

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়এর মধ্যে শ্রীলংকায় যাওয়া দুই কোটি ডলার বিতরণ হওয়ার আগেই ফেরত পায় বাংলাদেশ

আর ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেশটির আদালতের নির্দেশে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত আসেএর পর থেকে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেএখন বাকি ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার জন্য মামলা করা হচ্ছে

এসব অর্থের মধ্যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়া বাকি অর্থের খোঁজ পাওয়া গেছেযার বড় অংশই দেশটির আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ হয়ে আছেবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে সম্প্রতি ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানার আদেশ দিয়েছে ফিলিপাইনের আদালতএই সাজার মধ্য দিয়ে অর্থ পাচারের ঘটনায় মায়া আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন

এর আগেও ফিলিপাইনের বিভিন্ন আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি উঠে এসেছেযুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর এক তদন্তে উঠে আসে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছেচুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারও যে সম্পৃক্ততা নেই, সেটিও পরিষ্কার হয়এসব কারণে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে অর্থ ফেরত পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

16 January 2019

৩৫ সাধারণ বিমা কোম্পানির অবৈধ ব্যয় ১২৬ কোটি টাকা

৩৫ সাধারণ বিমা কোম্পানির অবৈধ ব্যয় ১২৬ কোটি টাকা


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ ৩৫টি সাধারণ বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নিয়ম ভঙ্গ করে ১২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা অবৈধ ব্যয় করেছে

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে

বিমা বিধিমালা ১৯৫৮ এর ৩৯ বিধি মতে, বিমা কোম্পানিগুলো প্রথম বর্ষে ব্যবসার জন্য ব্যস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ ব্যয় করতে পারবেকিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো এই আইন লঙ্ঘন করে বাড়ি-গাড়িসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯ মাসে গ্রাহকের প্রিমিয়ামের টাকা অপব্যয় করেছে

আইডিআরএর সূত্র মতে, টাকার অংকে সবচেয়ে বেশি অবৈধ ব্যয় করেছে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডকোম্পানিটি গত ৯ মাসে ২০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছে১৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা অবৈধ ব্যয় করে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স

এরপর যথাক্রমে মেঘনা ইন্সুরেন্স ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ১১ কোটি ৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেআর ৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা অবৈধ ব্যয় করায় তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স পঞ্চম স্থান দখল করেছে

‍এ সময়ে ৮ কোটি টাকার বেশি অবৈধ ব্যয় করেছে এক্সপেক্স ইন্স্যুরেন্স ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স৭ কোটি টাকার বেশি অবৈধ ব্যয় করে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে পিপলস ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্সুরেন্স

অন্যদিকে ৪ কোটির বেশি ব্যয় করেছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলি, প্রভাতী এবং নিটল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড২ কোটির উপরে অবৈধ ব্যয় করেছে সিটি জেনারেল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল, ইসলামী কমার্শিয়াল, বিডি কো-অপারেটিভ, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড১ কোটি ওপরে ব্যয় করেছে রূপালী, সিকদার, স্ট্যান্ডার্ড, জনতা, অগ্রণী, প্রাইম, ক্রিস্ট্যাল এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড

এছাড়া ১ কোটি টাকার কম অবৈধ ব্যয় করেছে এশিয়া প্যাসিফিক, পুরবী জেনারেল, সাউথ এশিয়া এবং দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড

আইডিআরএর সদস্য ও মুখপাত্র গোকুল চাঁদ দাস বলেন, বিমা কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনাসহ অনান্য অনিয়ম খুঁজে বের করতে বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছেরিপোর্টগুলো আসলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে

তবে সাধারণ বিমা করপোরেশন, সেন‍াকল্যাণ, গ্রিন ডেল্টা, গ্লোবাল, পাইওনিয়ার, নর্দান জেনারেল, ইউনিয়ন, প্রগতি, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল এবং প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড কোম্পানিগুলো অবৈধ ব্যয় কমিয়ে এনেছে বলে জানান গোকুল চাঁদ

11 January 2019

নানামুখী সঙ্কটে অর্থনীতি

নানামুখী সঙ্কটে অর্থনীতি

 
প্রতিকি ছবি
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে ডলারের চাহিদা
কিন্তু কাক্সিক্ষত হারে সরবরাহ না বাড়ায় বাড়ছে ডলারের দামডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেড়েই চলছেএর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতি তথা জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরঅন্য দিকে নতুন বছরের শুরুতেই নতুন সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়ে গেছে

কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে আমানতের সুদহার কম থাকায় কমে গেছে আমানতের প্রবৃদ্ধিএর প্রভাব পড়েছে তারল্যের ওপরব্যাংকগুলোতে এখন বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছেএ সঙ্কট মেটাতে ব্যাংকগুলো আবার আমানতের সুদ হার বাড়িয়ে দিচ্ছেআর আমানতের সুদ হার বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে ঋণের সুদআর ঋণের সুদ হার বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগের ওপর

এদিকে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) দেয়া নয়-ছয় সুদহার দীর্ঘ সাত মাসেও বাস্তবায়ন হয়নিএ ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে আগামী ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকমুদ্রানীতি প্রণয়নের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবারের মুদ্রানীতিএ বিষয়ে মতামত নেয়ার কাজ শুরু হয়েছেচলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের শুরু থেকেই ডলারের সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করেব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ তহবিলের সংস্থান না করেই অস্বাভাবিকভাবে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে থাকেএর পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ডলার বিনিয়োগ করতে থাকেফলে নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে এলসির দায় পরিশোধ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে যায় ব্যাংকগুলো

আগে উদ্বৃত্ত ডলার বিক্রি করতে না পেরে যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিনিয়োগ করত, সেখানে নিজেরা ডলার সঙ্কট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এখন হাত পাতছেএ অবস্থায় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করতে হচ্ছেএর ফলে কমে যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত বছরের ৯ জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ২০৭ কোটি ডলারগত ৯ জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ১০০ কোটি ডলারেতাও আবার আকিজ গ্রুপের শেয়ার বিক্রির বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসায় এ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এ অবস্থায় এসেছেঅন্যথায় রিজার্ভ তিন হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে যেত

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ডলারের দামগত বছরের জানুয়ারিতে যেখানে প্রতি ডলার পেতে ব্যয় হতো ৮২ টাকা, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ৮৪ টাকাতবে ব্যাংকগুলোতে আরো বেশি দামে ডলার কেনা বেচা হচ্ছেডলার সঙ্কট মেটাতে কোনো কোনো ব্যাংক ৮৬ টাকা পর্যন্ত ডলার কিনছেডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানি ব্যয়ের ওপরআমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে চলছেএতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখাই কৌশলই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জকেননা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোকে ডলার সরবরাহ করলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর চাপ বেড়ে যাবেআবার রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ না করলে ডলারের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবেআগামী মুদ্রানীতিকে সামনে রেখে এটি সমন্বয় করা কৌশল নির্ধারণ করছেন সংশ্লিষ্টরা

এদিকে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ বেড়েই চলেছেসাধারণত প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়ার জন্য নিলামের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংককিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রায় প্রতিদিনই ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণ করে সরকারএ কারণে প্রায় প্রতিদিনই নিলামের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের চাপ অব্যাহত রয়েছে

গতকাল বৃহস্পতিবার অনির্ধারিত দিনেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণের জোগান দেয়ার জন্য নিলামের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকচলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হলে এবং কাক্সিক্ষত হারে বৈদেশিক ঋণ না পাওয়া গেলে আর সেই সাথে সরকারের ব্যয় না কমালে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ আরো বেড়ে যাবেসব কিছু বিবেচনা করে আগামী মুদ্রা নীতিতে সরকারের অতিমাত্রায় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ব্যাংক ঋণ নিয়েছে সরকারকিন্তু নতুন বছরের শুরুতে বিশেষ করে গত ডিসেম্বর থেকে সরকার বেশি মাত্রায় ব্যাংক ঋণ নিচ্ছেসরকার বেশি মাত্রায় ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবেএরই মধ্যে কিছু কিছু ব্যাংকের টাকার সঙ্কট দেখা দিয়েছেএতে বেড়ে গেছে আমানতের সুদ হারআর আমানতের সুদ হার বেড়ে গেলে ঋণের সুদ হারও বেড়ে যাবেযার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিনিয়োগের ওপরএমনি পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ চ্যানেল সচল রাখাও হবে নতুন চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক সময়ে নয়-ছয় সুদহার নিয়েও ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছেবেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকদের সংগঠন ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছিল গত ১ জুলাই থেকে ঋণের সুদ হার হবে ৯ শতাংশ এবং তিন মাস মেয়াদি আমানতের সুদ হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হবেগত বছরের ২০ জুন এ ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার

তার এ ঘোষণার পর কিছু কিছু ব্যাংক ঋণের সুদ হার না কমালেও আমানতের সুদ হার রাতারাতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনেযেসব ব্যাংক আমানতের সুদ হার ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল পরে ওই সব ব্যাংক পড়ে মহাবিপাকেএকদিকে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার সাড়ে ১১ শতাংশ, অন্য দিকে বেশির ভাগ ব্যাংক বিএবির এ নয়-ছয় সুদ হার না মানায় আমানতকারীরা সুদ হার কমিয়ে এনেছিল ওই সব ব্যাংক থেকে বেশি মুনাফার আশায় আমানত প্রত্যাহার করতে থাকে গ্রাহকেরা

হঠাৎ করে আমানত প্রত্যাহার হওয়ায় ব্যাংকগুলো পড়ে যায় মহাবিপাকেআমানতের সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করায় কোনো কোনো ব্যাংক কলমানি মার্কেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েএ পরিস্থিতিতে বছরের শেষ সময়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোকে রেপো ও বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় প্রতিদিনই এক হাজার কোটি টাকা থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ধার দেয়আর এ পরিস্থিতিতে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠে

এতে আমানতের সুদ হার কোনো কোনো ব্যাংকের ৬ শতাংশ থেকে এক লাফে ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে উঠে গেছেএ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঋণের সুদ হার অচিরেই আবারো ১৮ থেকে ২০ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে এক ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের দুষ্টচক্রে পড়েছে দেশের অর্থনীতিআর এতগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের

গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরে গতকাল পঞ্চম দিনের মতো পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত ছিলবিভিন্ন দাবিতে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ, অবরোধ ও ভাঙচুর করেছেনপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেশ্রমিক অসন্তোষের মুখে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, ভোগড়া ও আশপাশের এলাকার অন্তত ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ

মহানগরের গাছা থানার ওসি মো: ইসমাইল হোসেন জানান, ভোগড়া এলাকার এ্যাপারেলস প্লাস নামে একটি কারখানায় দুপুরে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার কথা ছিলকর্তৃপক্ষ পুরনো বেতনকাঠামো অনুসারে বেতন দেয়া শুরু করলে শ্রমিকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেনতারা নতুন বেতনকাঠামো অনুসারে বেতনের দাবি জানিয়ে কারখানা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন

একপর্যায়ে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে মিছিল সহকারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গিয়ে অবরোধের চেষ্টা করেনএ সময় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়একই দাবিতে চান্দনা চৌরাস্তা, বড় বাড়ি এলাকায় বিক্ষোভ করে কয়েক শশ্রমিকতবে পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা মহাসড়কে দাঁড়াতে পারেননি

09 January 2019

এক মাসের মধ্যে পোশাককর্মীদের সমস্যা সমাধানঃ বাণিজ্যমন্ত্রী

এক মাসের মধ্যে পোশাককর্মীদের সমস্যা সমাধানঃ বাণিজ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধান করা হবে জানিয়ে পোশাককর্মীদের কাজে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন নতুন বেতন কাঠামোর কারণে কোনো শ্রমিকের যদি বেতন কমে যায়, তা হলে তা আগামী মাসের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে বলে জানান টিপু মুনশি

তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করতে শ্রমিক পক্ষের পাঁচজন, মালিকপক্ষের পাঁচজনসহ শ্রম ও বাণিজ্য সচিবের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কাজ করবে। এ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের বিষয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, এ ধরনের আন্দোলনে অনেক সময় বাইরের লোক ঢুকে যায়সে বিষয়টি সরকার কঠোরভাবে মনিটর করছে প্রসঙ্গত, সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা

গতকাল মঙ্গলবার সাভারে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে সুমন মিয়া (২৫) নামে এক পোশাককর্মী নিহত হন এ ছাড়া রাজধানীর দক্ষিণখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ পোশাক শ্রমিক আহত হন

02 January 2019

বছরের প্রথম দিনই টাকা ধার নিল ৫ ব্যাংক

বছরের প্রথম দিনই টাকা ধার নিল ৫ ব্যাংক

সংগৃহীত ছবি
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ আগ্রাসীভাবে ঋণ প্রদান করার জেরে নগদ টাকার তীব্র সংকটে পড়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংকএ কারণে সিটি, ন্যাশনাল, এবি, এনআরবি গ্লোবাল ও এনসিসি-এই পাঁচ ব্যাংক তাদের প্রাত্যহিক প্রয়োজন মেটাতে নতুন বছরের প্রথম দিনই কলমানি মার্কেট থেকে নগদ ১ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা ধার করেছেএর মধ্যে শুধু সিটি ব্যাংকই নিয়েছে ১ হাজার কোটি টাকাকলমানিতে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদে নেওয়া হয়েছে এসব অর্থবাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে

প্রসঙ্গত, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা তোলার চাপ যদি বেশি হয় এবং নিজস্ব তহবিলের সংকট থাকে, তা হলে ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যাংক থেকে সুদের বিনিময়ে নগদ টাকা ধার নিয়ে গ্রাহকের চাহিদা মিটিয়ে থাকেঅন্য কোনো কারণে নগদ টাকার প্রয়োজন হলেও এভাবে টাকা ধার নেওয়া যায়সাধারণত এক থেকে সাত দিনের জন্য এ লেনদেন হয়প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একে কলমানি মার্কেট বা আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বলা হয়

সূত্র জানায়, টানা ৪ দিন বন্ধ থাকার পর ২০১৯ সালের প্রথম দিন অর্থাৎ গতকাল ব্যাংকের লেনদেন শুরু হয়েছেএদিন মতিঝিল ব্যাংকপাড়া ঘুরে গ্রাহকের তেমন চাপ দেখা যায়নিসোনালী ব্যাংকের ৩টি শাখা ঘুরে দেখা যায়, অনেকটাই সুনসানটাকা তুলতে বা জমা দিতে খুব বেশি গ্রাহকের দেখা মেলেনিএমন পরিস্থিতিতেও নগদ টাকার সংকটে পড়েছে উপরোল্লিখিত ৫টি ব্যাংক২০১৮ সালে কলমানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সুদহার ছিল দেড় শতাংশডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এটি বেড়ে ৪ শতাংশে দাঁড়ায়আর নতুন বছরের প্রথম দিনই চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় সুদহার আরও বেড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ হয়েছেএই সুদহারেই টাকা ধার নিয়েছে ব্যাংকগুলো

নগদ টাকার সংকট সবচেয়ে বেশি সিটি ব্যাংকেরব্যাংকটি নিজের প্রয়োজন মেটাতে সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ধার নিয়েছেনিজেদের সাময়িক বার্ষিক হিসাবে গত বছর ৬৮৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা দেখিয়েছে সিটি ব্যাংকগত বছর তৃতীয় সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা অর্জনকারী ন্যাশনাল ব্যাংকেও চলছে নগদ টাকার টানাটানিএক দিনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংকটি তাই ৪৩১ কোটি টাকা ধার করেছেসাম্প্রতিক সময় অর্থপাচার, ঋণে অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে সমালোচিত এবি ব্যাংক ধার করেছে ২৭০ কোটি টাকাসংকটে পড়েছে নতুন প্রজন্মের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকওতাই ৯০ কোটি টাকা ধার করেছেগত বছর ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা দেখিয়েছে ১১০ কোটি টাকাএর আগে টাকার সংকটের কারণে গত বছরের মার্চে নিয়ম অনুযায়ী নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) রাখতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকটিওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরিমানাও করে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংককেএ ছাড়া এনসিসি ব্যাংক ধার করেছে ৮০ কোটি টাকাগত বছর বেশ কয়েকবার ঋণ-আমানত অনুপাতের (এডিআর) সীমা লঙ্ঘন করে ব্যাংকটি

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি সৈয়দ হাবিব হাসনাত বলেন, তারল্যের কোনো সংকট নেইতবে প্রয়োজন মেটাতে কলমানি থেকে টাকা নেওয়া হয়েছেএর সুদহার অনেক কমআমানতের সুদহার কিছুটা বেশি হলেও সব ব্যাংকই বছরের শেষদিকে এসে আমানত সংগ্রহে তোড়জোড় করেসব বিবেচনা করে সামান্য পরিমাণ টাকা কলমানি থেকে নেওয়া হয়েছেযদিও এটি প্রকৃত সমাধান নয়

ব্যাংকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করায় অধিকাংশ ব্যাংক এডিআরের আইনি সীমা লঙ্ঘন করেএর ফলে নগদ টাকার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেকিছু ব্যাংক এডিআর কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও কয়েকটি ব্যাংক এখনো তা আইনি সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে পারেনিপর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকায় তারা গ্রাহকের টাকা দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আইনি জমাগুলো রাখতে হিমশিম খাচ্ছেএসব প্রয়োজন মেটাতে কলমানি মার্কেট থেকে অর্থ ধার করছে ব্যাংকগুলো

গত বছর ব্যাংকিং খাতে নানা সংকট চললেও নতুন বছরে এই খাত ভালো করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ব্যাংকাররাকেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নতুন বছর ব্যাংকিং খাত ভালো করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশাএ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবেগত বছরের হিসাবে মুনাফা ভালো হয়েছেখেলাপি ঋণের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, এ বছর তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি

01 January 2019

চার দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে ব্যাংক

চার দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে ব্যাংক


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ টানা চার দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার খুলছে দেশের সব ব্যাংক ও ব্যাংক বর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও শেয়ারবাজারএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, সাপ্তাহিক ছুটি ও ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে গত ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন দেশে সাধারণ ছুটি ছিলএর আগে ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবারওই দুইদিন সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ ছিলএছাড়া ৩১ ডিসেম্বর দেশের ব্যাংকগুলো ব্যাংক হলিডেপালন করেওইদিন সব ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ ছিলসব মিলিয়ে ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব ব্যাংক ও ব্যাংক বর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে

27 December 2018

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৩ দিন লেনদেন বন্ধ

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৩ দিন লেনদেন বন্ধ

প্রতিকি ছবি
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ জাতীয় একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছেবাংলাদেশ ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দিয়েছে

ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশে কার্যরত সব মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখ বিকাল ৫টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখ বিকাল ৫টা পর্যন্ত মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস এর মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন পরিচালনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো

অর্থাৎ এই তিন দিন বা সময় হিসেবে ৪৮ ঘণ্টায় বিকাশ, রকেট বা যে কোনও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কেউ টাকা উত্তোলন বা জমা করতে পারবেন না তবে সার্কুলারে এও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত একাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা লেনদেনের সুযোগ রেখে ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখ বিকাল ৫টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখ বিকাল ৫টা পর্যন্ত সীমিত আকারে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস চালু রাখা যেতে পারে

এমতাবস্থায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রদানকারী ব্যাংক বা সাবসিডিয়ারিসমূহকে এই বিষয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টি সম্পর্কে গ্রাহক তথা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবহিত করার জন্য পরামর্শ দেয়া হলো
নানা কৌশলে ব্যাংকগুলোতে কমানো হচ্ছে খেলাপি ঋণ

নানা কৌশলে ব্যাংকগুলোতে কমানো হচ্ছে খেলাপি ঋণ


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আর মুনাফা যেন বিপরীতমুখী সূচকখেলাপি ঋণ বাড়লে মুনাফা কমে যায়আর খেলাপি ঋণ কমলে মুনাফা বেড়ে যায়তাই ঋণ খেলাপিরা চান ঋণ পরিশোধ না করতে

আর ব্যাংকাররা চেষ্টা করেন ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করতেকিন্তু ঋণখেলাপিরা প্রভাবশালী হলে তাদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করতে পারেন না ব্যাংকাররাবছরের শেষ মুহূর্তে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যাংকাররা তাই ঋণখেলাপিদের ঋণ মন্দঋণ নানা উপায়ে ঢাকার চেষ্টা করেনআর এটা করতে গিয়ে ব্যাংকারদের নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়কখনো খেলাপিরা ঋণ পরিশোধ না করলেও বেনামি ঋণ সৃষ্টি করে খেলাপিদের ঋণ পরিশোধ দেখানো হয়কখনো ডাউন পেমেন্ট না নিয়েই ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়আবার কখনো কখনো ঋণের বিপরীতে দেয়া জামানতের মূল্য বাড়িয়ে তা সমন্বয় করা হয়এমনিভাবে চলতি বছরের শেষ সময়ে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নানা কৌশলে খেলাপি ঋণ কমানোর অভিযোগ উঠেছে কিছু কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধেবাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, যথাযথ ডাউন পেমেন্ট ছাড়া ঋণ নবায়ন, ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠনসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমছে নাবরং দিন দিন তা বেড়ে পাহাড় সমান হয়ে যাচ্ছেদেশে প্রথমবারের মতো অবলোপন ছাড়াই গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছেমাত্র ৯ মাসে এ খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৫ হাজার ৬৭ কোটি টাকাবর্তমানে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে মোট ঋণের ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছেএর মধ্যে মন্দঋণই ৮২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮৪ শতাংশমন্দঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতের মুনাফার হার কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররা

প্রচলিত বিধান অনুযায়ী গ্রাহকের আমানত সুরক্ষা করতে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ক্ষেত্রবিশেষ ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ জমা রাখতে হয়, যাকে ব্যাংকিং ভাষায় জেনারেল প্রভিশন বা সাধারণ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বলা হয়আবার যে ঋণ বিতরণ করে তা খেলাপি হয়ে গেলে ক্ষেত্রবিশেষ ২০ শতাংশ থেকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়কোনো ঋণ নি¤œমানের খেলাপি হলে তার বিপরীতে ২০ শতাংশ, আবার সন্দেহজনক খেলাপি হলে তার বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং কোনো ঋণ মন্দ বা কুঋণ হলে তার বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়আর এ প্রভিশন সংরক্ষণ করে ব্যাংকগুলো তার মুনাফা দিয়েএ কারণে মন্দঋণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোর শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে কমে যায় মুনাফাকোনো কোনো ব্যাংক লোকসান পর্যন্ত গোনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার ব্যাংকে প্রথমবারের মতো মন্দঋণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকাআর এ ৭ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হলে বছর শেষে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে নাতাই নানা উপায়ে কমানো হচ্ছে মন্দঋণইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমানোর তাগিদ দেয়া হয়েছেডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে তাই নানা উপায়ে কমানো হচ্ছে খেলাপি ঋণব্যাংকের বার্ষিক সমাপনী হিসাব আজ ২৭ ডিসেম্বর শেষ হবেখেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে তাই ঘাম ঝড়ছে পদস্থ কর্মকর্তাদের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে

অপর এক ব্যাংকের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের ব্যাংকেও খেলাপি ঋণের একই দশাতাই ঋণের বিপরীতে দেয়া জামানতের মূল্য বাড়িয়ে প্রভিশন সমন্বয় করা হচ্ছেআর পুনঃতফসিল সুবিধাতো রয়েছেইসব মিলিয়ে ডিসেম্বর শেষে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে

গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবিরতিনি ওই সভায় ব্যাংকারদের খেলাপি ঋণের উচ্চ হার থেকে ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন

একজন এমডি গতকাল জানিয়েছেন, গভর্নর খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেনলক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কিছু পরামর্শও দিয়েছেনকিন্তু বর্তমান বাস্তবতা হলো কোনো খেলাপি এখন ঋণ পরিশোধ করছেন নাএদের দেখে যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছেন তারাও ব্যবসা মন্দার কথা বলে ঋণ পরিশোধ করছেন নাএ কারণে ঋণ আদায় করে খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব হবে নাওই এমডি বলেন, এ পরিস্থিতিতে গভর্নরের নির্দেশের পর বুঝতেই তো পারছেন আমরা কিভাবে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি