ডেস্ক রিপোর্ট।। ভারতে কথিতপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে সিমান্ত থেকে৮বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সিমান্ত বাহিনী বিএসএফ।
অন্যদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার গাইঘাটা থানার গোবরাপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে ৬৪ নম্বর বেটেলিয়ানের জওয়ানরা।
পরে তাদের গাইঘাটা থানা পুলিশের হাতে তুল দেয় বিএসএফ। তাদের মধ্যে ৫ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ রয়েছে। শুক্রবার সকালে তাদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠায় পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার।। নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রেবেশ কারী সন্দেহভাজন স্পিডবোটসহ মিয়ানমারের ৪ বৌদ্ধ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার।
সোমবার (২৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রেবেশ করায় সন্দেহজনকভাবে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হল লি উইন কো ম্যায়েং (৩০), ইয়ানাং তুন (৩১), প্যায়াং গি (২৫) ও ক্য ক্য (২৮)।
মেজর শরীফুল বলেন, রোববার রাতে টেকনাফ সদরের নাজিরপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীর তীরে কয়েকজন লোককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে বিজিবির সদস্যরা থামতে বলেন। কিন্তু তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় বিজিবির সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মিয়ানমারের নাগরিক বলে স্বীকার করেছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের পর টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান বিজিবির এ উপ-অধিনায়ক।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। ছবি: ইউএস অ্যামবাসির
ওয়েবসাইট
স্টাফ রিপোর্টার॥প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে চললেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিপূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারেনি বাংলাদেশ। তাদের উচ্ছেদ ও দখল হয়ে যাওয়া জমি ফেরত দিতে দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। মুশরিক হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতেও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে।
পাঠ্যপুস্তকে ঐতিহ্যগত ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়গুলোয় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে অমুসলিম লেখকদের লেখা সরিয়ে ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন সব বিষয়েও ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করা হয়েছে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ-সহ প্রায় ২০০টি দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকাস্থ আমেরিকান সেন্টারের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যেমনঃ হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষদের উচ্ছেদ ও তাদের জমি দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
গত বছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন, বিশেষ করে বৌদ্ধ ও হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুন মাসে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চাকমাদের ৩০০ বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় ৭০ বছর বয়সী এক নারী হামলায় নিহত হন। একজন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা থেকে আগুন-সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুরে হিন্দুদের ৩০টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
এতে বলা হয় হয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলা পাঠ্যপুস্তক থেকে দেশটির ঐতিহ্যগত ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়গুলোতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যেমন অমুসলিম লেখকদের লেখা সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন সব বিষয়েও ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, দেশটির সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দেশটি ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে চলে। ধর্মীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ করে সব ধর্মের জন্য সমতার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ওপর জোর দিয়ে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক, বেসরকারি সংস্থা ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। ঢাকাস্থ
আমেরিকান সেন্টারের বিবৃতি পাবেন (এখানে) Bangladesh 2017 International Religious FreedomReport
স্টাফ রিপোর্টারঃ ইসরাঈলে গিয়ে ইহুদী হয়েছে ঢাকায় রেল ভবনের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) মুহম্মদ শামসুজ্জামানের প্রবাসী ছেলে, এতে তাকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের শঙ্কায় কানাঘুষা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।
অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিওতে তাকে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার পাশাপাশি ইসরাঈলের ভূয়সী প্রশংসাও করতে দেখা গেছে। ওই ভিডিওতে নিজেকে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ইসরাইল সফরকারী ও দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথাও বলেছে সে। সিলেটের, কুলাউড়ার ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার পর ওই এডিজির ছেলের ইসরাঈল কানেকশনের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। এরপর থেকেই এটি নিছক শোনা ঘটনা নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখছেন দেশের গোয়েন্দারা।
সূত্র জানায়, সাদমান জামান এরই মধ্যে ধর্ম ত্যাগ করে ইহুদীবাদে অনুরক্ত হয়েছে। সে ঘোষণাও সে নিজের ভিডিও তে দিয়েছে। এমনকি নিজের সঙ্গে ইসরাঈলী কতৃপক্ষের বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও বলেছে। ভিডিওটির এসব বিষয় জানাজানি হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারাও জানতে পারেন। তবে তার বাবা এডিজি শামসুজ্জামান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করে আসছেন। শামসুজ্জামান ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের কথা বললেও বরাবরই তিনি ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এমনকি নিজের অর্থ-সম্পদও লন্ডনে ছেলের নামে করেছেন।
অবশ্য রেলওয়ের ডিজি (রেলিং স্টোকস) মুহম্মদ শামসুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, তার ছেলে সাদমান জামান একজন চিকিৎসক। ছেলে যেহেতু তার, যোগাযোগ তো থাকবেই। প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে কি করলো-সে দায় তার নয়। তবে তিনি সাদমানের ইসরাঈলের সঙ্গে যোগাযোগকে সমর্থন করেন না। তবে নিজের অর্থ সম্পদ ছেলের নামে করার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শামসুজ্জামান প্রায় বছর লন্ডন গিয়ে ছেলের কাছে থাকেন। সেখানে তার ছেলের একটি বিলাশবহুল বাড়ি রয়েছে এবং দুটি দামী গাড়িও রয়েছে। শামসুজ্জামান রেলের এডিজি পদে থাকলেও গোপনে তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করেন। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই রেলের বগিসহ বিভিন্ন কেনাকাটাও করা হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালে নিজের পরিচিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেলের বগিও আমদানী করেন তিনি। এ খাত থেকে তার লভ্যাংশ লন্ডনে ছেলের একাউন্টে পাঠানো হয়। এছাড়াও দুই ঠিকাদারকে রেলের কেনাকাটায় সুযোগ করে দেওয়ায় তিনি অর্থনৈতিক সুবিধাও পেয়ে আসছেন। তার অংশের টাকা ইন্দোনেশিয়া, হংকং, দুবাই ও চীনের বিভিন্ন আকাউন্টে পাচার করা হয়।
জানতে চাইলে এডিজি শামসুজামান বলেন, তিনি সরকারী চাকরি করেন। তার সঙ্গে কারো কোন গোপন ব্যবসা নেই। বিদেশের কোনো আকাউন্টে টাকাও নেই। ছেলের কি আছে তা তার জানার কথাও নয়। গোয়েন্দাদের তথ্যের সূত্র ধরে ইউটিউবে সাদমান জামানের কয়েকটি ভিডিও পাওয়া যায়। এর একটিতে তাকে বলতে শুনা যায়, সে বাংলাদেশে বেড়ে উঠেছে। ওই সময় তাকে জানানো হয়েছিল, ইসরাইল ফিলিস্তিনের উপর অত্যাচার করছে।
কিন্তু সে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ইসরাইল সফর করে নাকি দেখেছে, দেশটি খুব সুন্দর এবং এখানকার মানুষও ভালো। সে ইসরাইলে প্রবেশের অপরাধে হয়তো আর দেশে ফিরতে পারবে না। দেশে ফিরলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এমনকি ফাঁসিও হতে পারে। সে বাংলাদেশের বিভিন্ন সমালোচনা করে বলে, ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকাটা দুঃখজনক। এক পর্যায়ে সে নিজের বাংলাদেশী পাসপোর্টও ওই ভিডিওতে দেখায়।
আরও যেসব অভিযোগ শামছুজ্জামানের বিরুদ্ধে
রেলের এডিজি শামছুজ্জামানের বিরুদ্ধে শুধু তথ্য পাচার নয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আদায়, অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, এডিজি শামছুজ্জামানের দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছেন। গত ৪-৫ বছর ধরে তারাই রেলের সব কোচ সরবরাহের টেন্ডার জিতছেন। ওই দুজনকে কাজ পাইয়ে দিয়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে লন্ডনে ছেলেকে একটি বাড়ি ও দুটি অভিজাত গাড়ি কিনে দিয়েছেন। লন্ডনে ছেলে সাদমানের নামে আরও সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে। যার উৎস বাবা এডিজি শামছুজ্জামান।
গোয়েন্দা তথ্যে আরও জানা যায়, শামছুজ্জামানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আফসার বিশ্বাস (বিশ্বাস কন্সট্রাকশন ও বাঁধন এন্টারপ্রাইজের মালিক)। ২০১৬ সাল থেকে তারই যোগসাজশে বিশ্বাসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইন্দোনেশিয়ার পিটি-ইনকা’ রেলের টেন্ডার পাচ্ছে।
এছাড়া শামছুজ্জামানের আরেক বন্ধু এ টি এম জাফরুল হাসান ডন। তিনি মেগাটেক জিএনবিডি, ঢাকার প্রধান উপদেষ্টা। শামছুজ্জামানের রেফারেন্সে রেলের বগি সরবরাহের বড় একটি কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, আফসার ও ডন শামছুজ্জামানের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ওই দুজন টেন্ডার দুর্নীতির টাকা শামছুজ্জামানকে না দিয়ে সরাসরি তার ছেলের লন্ডনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন। গোয়েন্দারা সাদমানের অ্যাকাউন্টে ইন্দোনেশিয়া, দুবাই, হংকং, চীন ও সিঙ্গাপুরের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পেয়েছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
ইসরাঈলে বসবাসরত ছেলের সঙ্গে লন্ডনে গিয়ে সরকারি তথ্য পাচার ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে মুহম্মদ শামছুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। রোববার প্রায় ১০ বার তার সরকারি মোবাইল ফোনে কল দেয়া হয় কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। সরাসরি অ্যাপয়েনমেন্ট চেয়েও পাওয়া যায়নি।
পরে রেল ভবনে তার দফতরে গেলে তিনি তার সহকারী পাঠিয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি এখন মিটিং নিয়ে ব্যস্ত। কোনো কথা থাকলে আগামী সপ্তাহে বলবেন।
বারবার রেলওয়ের টেন্ডার পাওয়ার বিষয়ে জানতে ‘বিশ্বাস কন্সট্রাকশন’ ও ‘বাঁধন এন্টারপ্রাইজ’র মালিক আফসার বিশ্বাসের ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের পিটুনি ও নির্যাতনে লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্তে মনজুরুল ইসলাম (২০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত মনজুরুল পাটগ্রাম উপজেলার নাটারবাড়ি গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। তার শরীরের নানা জায়গায় বিএসএফের নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বুড়িমারী সীমান্তের ৮৩৬ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বিজিবি রংপুর-৬১ ব্যাটালিয়ন বুড়িমারী ক্যাম্প কমান্ডার ওবাইদুল হক।
তিনি বলেন, ভোরে ৮৩৬ নম্বর মেইন পিলারের কাছে ভারতীয়দের দেয়া গরু আনতে যায় মনজুরুলসহ কয়েক বাংলাদেশি ‘গরু ব্যবসায়ী’।
ফেরার পথে কোচবিহার-৬১ বিএসএফ খড়খড়িয়া ক্যাম্পের সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে মনজুরুলকে ধরে পিটিয়ে ও নানাভাবে নির্যাতন করে সীমান্তের এপারে ফেলে দেয়। পরে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে মনজুরুলের মৃত্যু হয় বলে জানান বিজিবি কমান্ডার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, মনজুরুলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
মনজুরুল নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদপত্র ও পতাকা বৈঠকের আহ্বান করে বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি কর্মকর্তা ওবাইদুল হক।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃবাংলা ভাষা অবমাননার অভিযোগে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাকে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের পক্ষ থেকে গতকাল এক আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেকেই হিন্দি সিরিয়াল ও সিনেমা দেখেন বলে এদেশে ভাষাটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল’।
এ কথার মাধ্যমে ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৬১ এর আর্টিক্যাল ৪১ লঙ্ঘন হওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুল জলিলের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম গতকাল বৃহস্পতিবার রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তার এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে অফিসিয়ালী তা প্রত্যাহার করার জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা’কে অসম্মান ও ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৬১ এর আর্টিক্যাল ৪১ লঙ্ঘঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের রেজিস্ট্রি রশিদ নং-১২৩ তারিখ : ২৫-০১-২০১৮ যোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ দেশপ্রেমিক
সেনাবাহিনীকে কলুষিত আর বিতর্কিত করে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের নেপথ্যে ঘঠানো পার্বত্য
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ওরাছড়ি গ্রামের কতিথ ধর্ষণ ও যৌন আক্রমণ বিষয়ে উপজাতি
রাজা দেবাশীষ রয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো।
সাম্প্রতিক
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিলেইছরি উপজেলার অরাছরি গ্রামের ধর্ষণ ও যৌন আক্রমণ
গতকাল দুপুরে - এখন
থেকে ঘণ্টা আটেক আগে - গিয়েছিলাম রাঙামাটির সদর হাসপাতালে। ২২-শে জানুয়ারি ২০১৮ তারিখের
ভোর-রাতে ধর্ষণ ও যৌন হামলার শিকার দুই বোনকে দেখতে ও তাদের সাথে কথা বলতে।
সাথে ছিলেন
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রফেসর বাঞ্চিতা চাকমা ও সহধর্মিণী রাণী য়েন
য়েন।
ঘটনায়
আক্রান্তদের সাথে কথা বলাটা সম্ভব হল “নিরাপত্তা” বাহিনীর বিশেষ
পোশাকধারী ও ওয়াকি-টকি-ওয়ালা ও ওয়াকি-টকি-বিহীন বিশেষ পোশাক-বিহীন ব্যক্তিদের
বিরোধিতার মুখে।
প্রথমে
দর্শনার্থীদের সংখ্যা ছিল সমস্যা। ঠিক আছে। আমরা বললাম কেবল কয়েকজন পালা পালা করে
যাবো। কেবল তিনজন যাবো, প্রথমে। প্রফেসর বাঞ্চিতা, রাণী য়েন য়েন ও
আমি।
দ্বিতীয় বাঁধা
ছিল ভাষা নিয়ে। কেন “জড়ায়ে-ফড়ায়ে“ ভাষায় কথা বলা
হচ্ছে (অর্থাৎ মারমা ভাষা বুঝতে না পারায় তাঁদের অস্বস্তি ও বিরক্তি)। আমি বললাম,
“মাতৃভাষায়
কথা বলা মৌলিক অধিকার। আপনারা কি যিনি বাংলা বলতে জানেন না তাঁকে জোর করায়ে বাংলা
বলাবেন?”
তৃতীয় বাঁধা ছিল
আমাদের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলার অনুমতি আছে কি না, সেই প্রশ্নে। আমি
বোললাম, চাকমা সার্কেলের প্রধান হিশেবে অবশ্যয় আমার অধিকার আছে আমার সার্কেলের
অধিবাসীর খোঁজ-খবর নেওয়ার। আর মানিবাধিকারের বিষয়ে প্রফেসর বাঞ্চিতার রয়েছে
দেশের যে কোন নাগরিকের মানবাধিকার বিষয়ে তদারকি করার। পালটা প্রশ্ন করলাম যে
আমাদের দেখা করার ও কথা বলার বিপক্ষে কি কোন আইন-আদেশ আছে কিনা?
উত্তপ্ত ব্যক্তি
পরামর্শ দিলেন, এস্পি বা ওসি সাহেবের অনুমতি নিতে। আমিও উত্তপ্তভাবে
বললাম, তাঁদের আপত্তি থাকলে যেন তাঁরাই জানান আমাকে তাঁদের আপত্তির কথা। গরজ
তাঁদের। আমাদের নয়। আমাদের অধিকার নেই সেটা দেখানোর দায়িত্ব তাঁদের। আমাদের
অধিকার আছে সেটা দেখানোর দায়িত্ব আমাদের নয়। তারপর সেই ব্যক্তির আর দেখা মেলেনি।
দুই বোনের মানসিক
ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যে আতঙ্কগ্রস্ত, তা স্পষ্ট। ভাগ্যিস
রাণী য়েন য়েন মারমা ভাষা-ভাষী। এতে অন্তত জড়তা পুরোপুরি দূরীভূত না হলেও,
তাঁরা
কিছুটা মাত্রায় হলেও স্বস্তি বোধ করছিলেন।
তাঁদের ভাষ্য
অনুসারে, যা আমি অনুবাদের মাধ্যমে জানলাম, তাঁদের একজন ধর্ষিত
হয়েছেন দুইজন সেনা সদস্য দ্বারা (প্রাপ্ত বয়স্ক বড় বোন, যিনি
কেবল মারমা ভাষায় কথা বললেন) এবং অপরজন যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছেন, একই
ব্যক্তিদের দ্বারা (অপ্রাপ্ত-বয়স্ক ছোট বোন, যিনি কিছু বাংলা
ও ভাঙ্গা-ভাঙ্গা চাকমা বলতে পাড়েন)।
তবে তাঁদের
ভাষ্যের সাথে ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে রাঙামাটির প্রেস ক্লাবে দেয়া রাশেল মারমার
সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের সাথে কোন মিল পেলাম না। তাঁরা সেই সংবাদ সম্মেলন ও এতে
তাঁদের বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের উপস্থিতি সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞাত। তাঁদের সাথে
তাঁদের বাবা-মা এর কোন সংযোগ নেই।
তাঁরা ভিত-সন্ত্রস্ত।
তাঁদের প্রয়োজন নিরাপত্তার। নির্ভয়ের। তাঁদের প্রয়োজন আইনি সহায়তার। দক্ষ
দোভাষীর। এবং কোন ধরণের বাঁধা ও হস্তক্ষেপ ছাড়া যথাযথ তদন্ত, মামলা,
দোষীদের
শাস্তি ও তাঁদের পুনর্বাসন।
তা নিশ্চিত করার
দায়িত্ব সকলের। সরকারের, পুলিশ সহ সকল নিরাপত্তা বাহিনীর, বিচারিক
আদালতের, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এবং নাগরিক সমাজের। এতে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস
প্রয়োজন । Link
স্টাফ রিপোর্টারঃবাংলাদেশের ট্যানারি শিল্প
ধ্বংসের নেপথ্যে কাজ করছে সাম্রাজ্যবাদীদের লালায়িত কিছু এনজিও ও কিছু দালাল। এদের মধ্যে পরিবেশবাদীরা
অন্যতম।
অনেকে ভাবতে পারেন, চামড়া শিল্পের ক্ষতি হলে
এমন কি আসে যায়? কিন্তু না। আমাদের দেশে পাট শিল্প যেমন একসময় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো তেমনি
চামড়া শিল্প তার চেয়ে কম নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সোনালী আঁশ পাঁটের মতো চামড়া শিল্পও ধ্বংস করতে চায়
সাম্রাজ্যবাদীরা।
বর্তমান বিশ্বে চামড়া ও
চামড়াজাত পণ্যের বাজার এখন ২১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের৷ বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারের
মাত্র শতকরা ০.৫ ভাগ রপ্তানি করে৷ তবে সরকারের সহযোগীতা পেলে বাংলাদেশ চামড়া এবং
চামড়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারে।
চীনের চামড়া শিল্প নিয়ে
এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২-১৩ সালে চীনে চামড়ার তৈরি জুতা শিল্পের উৎপাদন ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে
৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে৷ তাই বিশ্বে চীনের ছেড়ে দেওয়া জুতার বাজারের অংশটি ধরতে
চাইছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা৷ কিন্তু এটি মেনে নিতে পারেনি মুসলমানদের প্রধান
শত্রু সন্ত্রাসবাদী ইহুদীরা তথা সাম্রাজ্যবাদীরা। বাংলাদেশ যেন বিশ্ব বাজারে চামড়াজাত পন্যের বাজারে
দখল নিতে না পারে এজন্য তারা পরিবেশবাদী কিছু সংস্থাসহ বেশ কিছু কুকুর লাগিয়ে দেয়
ট্যানারি শিল্প ধ্বংস করার মিশনে। প্ল্যান অনুযায়ী পরিবেশবাদীরা পরিবেশ বাঁচানোর অযুহাতে তারা দেশের প্রধান
চামড়া প্রকৃয়াকারী অঞ্চল হাজারিবাগের ট্যানারি শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ করতে বাধ্য
করে। হাইকোর্টের মাধ্যমে বার বার
আলটিমেটাম দিয়ে কারখানাগুলোর গ্যাস-বিদ্যুৎ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়।
এখন সাভারের স্থানান্তরিত
নতুন চামড়া শিল্পনগরী নির্মাণে ক্রটির কথা স্বীকার করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির
শিল্প করপোরেশন-বিসিক।
বিসিক চেয়ারম্যান বলছেন, 'একটি প্রতিষ্ঠান ও একজন
ব্যক্তি আমাদের বিপদে ফেলেছেন। এদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।'
আসলে শাস্তি হওয়া প্রয়োজন
বিসিক চেয়ারম্যানসহ, কোর্টে টাকা খেয়ে বারবার রিট উত্থাপনকারী আইনজীবীদের এবং এরসাথে সংশ্লিষ্ট
সরকারি ও এনজিও দালালদের। সেই সাথে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা উচিত।