Showing posts with label খুলনা বিভাগ. Show all posts
Showing posts with label খুলনা বিভাগ. Show all posts

23 September 2019

বাচ্চাকে নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে বিচার চাইতে কেশবপুর থানার পুলিশের নিকট হনূমানের দল

বাচ্চাকে নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে বিচার চাইতে কেশবপুর থানার পুলিশের নিকট হনূমানের দল


স্টাফ রিপোর্ট।। কোন এক বখাটে হনূমানের একটি বাচ্চাকে মারপিট করায় একদল (বিরল প্রজাতির কালোমুখ) হনূমান যশোরের কেশবপুর থানা ঘেরাও করে বিচার চাওয়ার আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দুপুরে ২০-২৫টি হনূমান থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। তারা এক পর্যায়ে ডিউটি অফিসারের কক্ষে ঢুকে পড়ে।

কেশবপুর থানার ওসি মুহম্মদ শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, একটি মা হনুমান কোলে বাচ্চা নিয়ে প্রথমে থানায় আসে। বাচ্চাকে কেউ মারপিট করে আহত করেছে। এর পর-পরই প্রায় ২০-২৫টি হনুমান দলবদ্ধভাবে থানার প্রধান ফটকের সামনে ও ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান নেয়।

হনুমানের হামলাকারীদের বিষয়ে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বিচারের আশ্বাস দেন ওসি। এরপর কিছু শুকনো খাবার দিলে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে তারা চলে যায়।

কেশবপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল মোনায়েম হোসেন জানান, শহর ও শহরতলীতে প্রায় ৫ শতাধিক হনুমান রয়েছে। তাদের জন্য প্রতিদিন মাত্র ৩৫ কেজি কলা, ২ কেজি বাদাম ও ২ কেজি পাউরুটি দেয়া হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। খাবার না পেয়ে হনুমান মানুষের বসতবাড়ি ও অফিসে ঢুকে পড়ে।

তিনি বলেন, হনুমান অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রাণী। তাদের ওপর কেউ হামলা করলে তারা দলবদ্ধভাবে এভাবে থানায় যায়। ইতিপূর্বে এ রকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

28 August 2019

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্মাষ্টমী পালিত, ধিক্কার জানাচ্ছেন সচেতন মুসলিম সমাজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্মাষ্টমী পালিত, ধিক্কার জানাচ্ছেন সচেতন মুসলিম সমাজ

জন্মাষ্টমী পালনে ব্যস্ত ভক্তবৃন্ধ। ফাইল ফটো
স্টাফ রিপোর্টার।। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুদের ভগবান কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা পূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক তপন কুমার রায়, প্রেসক্লাবের সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান সোহাগসহ এ সময় উপস্থিত ছিল আরও অনেকে। পূজা অর্চনা শেষে সকলের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

গত রবিবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলানায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা যায়।

তবে এই ঘটনার জানাজানি হলে সোশ্যাল মিডীয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি পূজা আর্চনার মতো ভয়ংকর শিরক এর চালু হয় তাহলে দ্রুত তার নাম বদল করে ফেলাই মঙ্গল। অন্তত ইসলামের জন্ম যে শিরক কে সমাজ থেকে ক্লিন করার জন্য হয়েছিলো সেই ইসলামের দুর্নাম অন্তত কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

24 August 2019

যবিপ্রবিতে মসজিদের বদলে মন্দির তৈরির ঘোষণা উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেনের

যবিপ্রবিতে মসজিদের বদলে মন্দির তৈরির ঘোষণা উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেনের

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যালি
স্টাফ রিপোর্টার। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি সম্প্রসারণের পর যে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, সেখানে সনাতন পরিবারের জন্য একটি মন্দির তৈরি করা হবে। ভূমি সম্প্রসারণের কর্মকাণ্ড অনেক দূর এগিয়েছে।

শুক্রবার সকালে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ‘সনাতন পরিবার’ আয়োজিত শোভাযাত্রা পরবর্তী সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

এর আগে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ঢোল-তবলা বাজিয়ে কৃষ্ণের নাম-গানের মাধ্যমে ধরাধমে তার আগমনকে স্বাগত জানানো হয়।

অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের মধ্যে যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আছে, সুন্দর অবস্থান আছে, বিশ্বে এটা বিরল। এক ধর্মের মানুষের সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক এতো সুন্দর, এতো মধুর; এটা বিশ্বের কোথাও নেই। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। এ ধরনের আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন পরিবারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ‘সনাতন পরিবার’ এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. নাজমুল হাসান, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাসিম রেজা, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মৌমিতা চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সুমন চন্দ্র মোহন্ত, পরিচালক (পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও পূর্ত) পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমার মণ্ডল প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের নিচতলায় কৃষ্ণের পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভক্তবৃন্দের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

16 August 2019

খুলনার হিন্দু কর-কমিশনার প্রশান্ত রায়ের ছেলে ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতার, নিজের বৌভাত খেলো হাজতে

খুলনার হিন্দু কর-কমিশনার প্রশান্ত রায়ের ছেলে ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতার, নিজের বৌভাত খেলো হাজতে

হাজতে বৌভাতের খাবার খেলেন বর । ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক।। ধর্ষণের দায়ে জেলহাজতে বন্দি এক আসামি। তার নাম শিঞ্জন রায় (২৫)। জেলহাজতে বসেই নিজের বৌভাতের খাবার খেতে হয়েছে তাকে। এমনি এক ঘটনা ঘটেছে খুলনায়।

ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামি শিঞ্জন রায় নিজের বৌভাতে থাকতে পারেনি। জেলহাজতে বসেই বৌভাতের খাবার খেতে হয়েছে তাকে। শিঞ্জন খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও খুলনার কর কমিশনার প্রশান্ত রায়ের ছেলে।

ধর্ষিতা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় শুক্রবার মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ এ মামলার আসামি শিঞ্জন রায়কে আদালতে চালান করবে বলে জানিয়েছে।

এদিকে বর শিঞ্জন রায়কে ছাড়াই শিববাড়ি এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে চলছে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান। সেখান থেকেই খাবার পাঠানো হয় সোনাডাঙ্গা থানা হাজতে থাকা শিঞ্জনকে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যাইলে মিডিয়ার সামনে মুখ খোলেননি শিঞ্জনের পরিবারের কেউ।

উল্লেখ্য, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলবি'র এক ছাত্রীকে (২০) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে শিঞ্জন রায় দিনের পর দিন। অথচ তাকে রেখে বিয়ে করে অন্য এক মেয়েকে। ঘটনা জানতে পেরে ভিক্টিম ছাত্রি পুলিশের শরণাপন্ন হয়ে থানায় অভিযোগ জানালে গতকাল রাতে শিঞ্জন রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী বাদী হয়ে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় এজাহার দাখিল করেছেন।

06 August 2019

হিন্দু দারোগা ও ওসি মিলে মাদ্রাসা ছাত্রের মা-কে রাতভর ধর্ষণ, বাঁচতে মিথ্যা মাদক মামলা

হিন্দু দারোগা ও ওসি মিলে মাদ্রাসা ছাত্রের মা-কে রাতভর ধর্ষণ, বাঁচতে মিথ্যা মাদক মামলা


স্টাফ রিপোর্টার।। তিন সন্তানের জননী (৩০) নিজের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য আকুতি-মিনতি করেও হৃদয় গলাতে পারেনি। স্যার আমার ছেলে মাদরাসায় পড়ে। আমাকে এভাবে শেষ করে দিবেন না। এ সময় ওসি অট্রহাসি দিয়ে বলে-‘তোর এখনও ভরা যৌবন, এ দিয়েই তো চলে’-এই বলে সে আমাকে বিবস্ত্র করে ফেলে তার রুমের মধ্যে ধর্ষণ করে। সে চলে যাবার পরে থানার গৌতম দারোগাসহ চারজন পুলিশ রাতভর আমার উপর নির্যাতন চালায়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সেই রাতে খুলনা রেলওয়ে (জিআরপি) থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের ধর্ষণের বর্ণনা দিতে দিতে হাউমাউ করে কেদে ওঠেন এবং মূর্ছা যান। এ সময় তার দূরে ধর্ষিতার সাত ও আড়াই বছরের দু’টি কন্যা সন্তান নিয়ে তার বৃদ্ধা মা আম্বিয়া বেগম দাঁড়িয়েছিল।

এর আগে, ৪ আগস্ট রোববার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খুলনার আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জিআরপি থানার ওসির রুমে রেখে রাতভর ধর্ষণের ঘটনাও বর্ণনা দেন ওই নারী।

আদালতের নির্দেশে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রোববার রাতে ওই নারীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে পরীক্ষা হয়নি। সোমবার তাকে আবারো হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বিকেলে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওসি ওসমান গনি মোটা অংকের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় তিনি হুমকি দিচ্ছেন বলেও ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনাটির তদন্তের জন্য কুস্টিয়া রেলওয়ের সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদকে সভাপতি ও ডিআইও-১ এর পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) স ম কামাল হোসেন এবং দর্শনা রেলওয়ের ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ বাহারুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

ধর্ষিতা গৃহবধুর খালাতো ভাই শাহাবুদ্দিন মাতব্বর জানান, গত শুক্রবার তার বোন (৩০) যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। এদিন রাত সাড়ে সাতটার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে জিআরপি পুলিশের ওসি ওসমান গণি পাঠান তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আরও চার পুলিশ কর্মকর্তা (সদস্য) তাকে ধর্ষণ করে।

পরদিন শনিবার ওই নারীকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর ওই নারী জিআরপি থানায় তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরেন। এরপর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খুলনার আদালতে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন।

ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানো ও জিআরপি পুলিশের চাঁদা দাবি প্রসঙ্গে গৃহবধূর ভাই মুহম্মদ সেলিম হাওলাদার জানান, আমাকে পুলিশ বলে, তোমার বোনকে মোবাইল চুরির জন্য ধরে নিয়ে আসছি। আমি বলেছি, স্যার আমার বোনতো এসব করে না। পুলিশ বলে, এই তুমি বেশি জানো? এই একে ধরো। বোনের সঙ্গে ভাইরেও লকআপে ভরো। আমি বলি স্যার কি বলছেন? তিনি বলে, এই বেশি কথা বলবি না। যা বাসা থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে আয়। আমি বলি, আমরা গরিব মানুষ টাকা পাব কই? তিনি বলেন, টাকা পাবি কই আমি জানি না। তুই টাকা নিয়ে আয়। তা না হলে ওরে ছাড়ব না।

এরপর রাত ১০টা পর্যন্ত আমি ওইখানে বসে থাকি। আমাকে অনেক ভয়-ভীতি দেখাইছে। ‘ফেনসি দিমু নয় বাবা দিয়া চালান দিয়া দিমু।’ যাও বাসায় যাও, ভালো লোক হয়ে থাকলে বাসায় যাও। আমি ভয়ে চলে আসছি। চলে আসার পর ভোর ৬টায় গেছি। যাওয়ার পরে বলে, এদিকে এসো, টাকা আনছো? আমি বলি স্যার আমরা গরিব মানুষ, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না। ঠিক আছে এখন ৭ বছর জেল খাটলে.. এরপর আমাকে বলে এই ভোটার আইডি কার্ড ফটোকপি করে আনো। আমি আনছি, আনার পরে এবার আমার ছোট বোনকে বের করেছে।

আমাকে ফটোকপি আনতে দিয়ে ফেনসিডিল দিয়ে ওরে বের করছে। আমি বলি স্যার এই আনছি। এরপর আমার বোন আমারে জড়িয়ে ধরে বলে, ভাইয়া আমারে পাঁচটি ফেনসিডিল দিয়েছে ব্যাগে। আমি বলি আমাকে ফটোকপি আনতে দিলেন, এখন পাঁচটি ফেনসিডিল দিয়ে চালান দিলেন। এরপর পুলিশ বলে, ‘এই বেডা বেশি কথা কবি না। আমি তখন একা ছিলাম। ভয়ে আমি আর তখন কিছু বলিনি।’

16 July 2019

ব্যাংক কর্মকর্তাকে দলবদ্ধভাবে গণধর্ষণের পর বাবাসহ হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

ব্যাংক কর্মকর্তাকে দলবদ্ধভাবে গণধর্ষণের পর বাবাসহ হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ খুলনায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর বাবা ইলিয়াস আলীসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩নং ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ মহিদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে অ্যাডভোকেট কাজী সাব্বির আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট তসলিমা খাতুন, অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগা রোডের বাসিন্দা শেখ আবদুল জলিলের ছেলে সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০), তার ভাই মো. শরিফুল (২৭), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৫) ও মৃত সেকেন্দারের ছেলে মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)। এদের মধ্যে আসামি শরিফুল পলাতক রয়েছেন।

আদালতসূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২২ জন ও গণধর্ষণের মামলায় ২৮ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

আসামিদের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩নং ট্রাইব্যুনালে মামলাটির যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের মধ্যে চারজন গ্রেফতার হয়। এ ছাড়া গ্রেফতার করা হয় পিটিলের স্ত্রী আসমা খাতুন, নোয়াব আলী গাজী ও আসলাম মিস্ত্রি নামে একজন সন্দেহভাজনকে। তাদের মধ্যে লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে উত্ত্যক্ত করত এলাকার কয়েকজন বখাটে সন্ত্রাসী। তাদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণ ও তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে হত্যা করা হয়।

নগরীর লবণচরা থানাধীন ব্যুরো মৌলভীর দরগা এলাকার ৩নং গলির ঢাকাইয়া হাউস এপি ভিলা নামের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নৃশংস এ খুনের ঘটনা ঘটে। বাবা ও মেয়েকে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে মরদেজ ফেলে দেয় খুনিরা। পরে তারা ওই ঘরের টাকা-পয়সা ও স্বর্নালঙ্কার লুটে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় লবণচরা থানায় পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব বাদী হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলা করেন নং-০৩। পারভীন সুলতানাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে ২২ সেপ্টেম্বর আরও মামলা হয় নং-০৫।

২০১৬ সালের ৯ মে হত্যাকাণ্ডের ও একই বছরের ২৪ মার্চ গণধর্ষণের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কাজী বাবুল ওই পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

17 April 2019

সনাতনী মন্দিরে শিশু ধর্ষন চেষ্টায় এবার পুরোহিত আটক

সনাতনী মন্দিরে শিশু ধর্ষন চেষ্টায় এবার পুরোহিত আটক


বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ যশোরে সাড়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে প্রকাশ ব্যানার্জি (৫৪) নামে এক পুরোহিতকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাতে যশোর শহরতলী বিরামপুর শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র ঠাকুর মন্দির থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রকাশ ওই মন্দিরের পুরোহিত।

যশোর কোতোয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার বলেন, ১৪ এপ্রিল দুপুরে প্রকাশ ব্যানার্জি মন্দিরে পূজা অর্চনা করছিলেন। সেইসময় শিশুরাও উপস্থিত ছিল। একপর্যায়ে প্রকাশ ব্যানার্জি তার প্রতিবেশীর সাড়ে ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে মন্দিরের মধ্যে পর্দা টানানো একটি কক্ষে নিয়ে চকলেট দিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি চিৎকার করলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ প্রকাশকে আটক করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, পুরোহিত প্রকাশ ব্যানার্জি শিশুটিকে আগেও ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। ১৪ এপ্রিল দুপুরে সুযোগ বুঝে মন্দিরের মধ্যে একটি কক্ষের মধ্যে ধর্ষণের চেষ্টা করলে নারীরা টের পান। এরপর ওই শিশুকে উদ্ধার করে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

05 April 2019

খুলনায় পুলিশ বক্সে হামলায় মামলা, আসামি ৩০০

খুলনায় পুলিশ বক্সে হামলায় মামলা, আসামি ৩০০


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ৯ দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট-অবরোধ চলাকালে খুলনার দৌলতপুর থানা এলাকার পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানার এসআই অমিত কুমার বাগচী বাদী হয়ে  মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে দুপুরে নগরীর নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থিত পাবলা পুলিশ বক্সে ওই হামলার ঘটনায় চার পুলিশ আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, দৌলতপুর, খালিশপুর, দিঘলিয়া, আলীম, ইস্টার্ন, যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুটমিলের শ্রমিকরা নিজেদের কারখানার ফটকের সামনে ধর্মঘট শুরু করে। সকাল ৮টার দিকে খালিশপুরের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নতুন রাস্তার মোড়, আটরার শ্রমিকরা আলীম গেইট এবং নওয়াপাড়া রাজঘাট এলাকার শ্রমিকরা খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেলপথ অচল করে দেয়। তারা রাস্তা ও রেললাইনের ওপর আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অবস্থা চলায় খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। যানজট তৈরি হয় খুলনা-যশোর মহাসড়কে।

সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকদের একটা অংশ দৌলতপুর থানা এলাকার পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালায়। ওই সময় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল বাশার, কনস্টেবল মনির, রায়হান ও রাতুল আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

04 April 2019

খুলনায় শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষে আহত ২০

খুলনায় শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষে আহত ২০


স্বদেশবার্তা  ডেস্কঃ ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ও অবরোধ কর্মসূচির শেষ দিনে খুলনা পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড় এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকরা নতুন রাস্তা মোড়ে পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে।

গত দু'দিনের মতো বৃহস্পতিবারও সকালে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তারা দৌলতপুরের নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান নেয়। সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থিত পুলিশ বক্সে হামলা চালায়। পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ধাওয়া দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ সদস্য বিজিবি হেডকোয়ার্টের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শ্রমিকরা বাধা দেয়। পরে শ্রমিকরা মাইকে সবাইকে একত্রিত করে পাবলা পুলিশ বক্সে হামলা চালায়। এসময় বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাংচুর করে তারা।

খবর পেয়ে পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সরদার রকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (আরসিডি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, আহত পুলিশদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। কোনো উত্তেজনা এখন নেই। তবে ঘটনাস্থানেই রয়েছি।

এদিকে অনেকে বলছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বৃহস্পতিবার খুলনায় আসছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় পাটকল হওয়ায় শ্রমিকরা এ হামলা চালিয়েছেন। শ্রমিকরা নগরীর খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থান নিয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক, নতুন রাস্তা মোড় থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সড়ক, বিআইডিসি সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে রেখেছে। এছাড়া তারা বিক্ষোভ মিছিল, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। শ্রমিকদের সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কারণে নতুন রাস্তা মোড় দিয়ে যানবাহন ও খুলনার সঙ্গে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ নয় দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা এ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন। শ্রমিকরা জানান, মঙ্গলবার রাতে খুলনা অঞ্চলের সকল পাটকল শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা বলেন, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ. গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বিমার বকেয়া টাকা প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ীকরণ, পাট মৌসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ নয় দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলো। কিন্তু আমাদের দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা রাজপথে আবার নামতে বাধ্য হয়েছি।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট আজ শেষ হবে। এরপর ৭ এপ্রিল আগামী রোববার ঢাকায় বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সবগুলো পাটকলের শ্রমিক নেতারা বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

06 March 2019

খুলনায় পাওয়া গেল ১৮১৮ সালের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সীমানা পিলার

খুলনায় পাওয়া গেল ১৮১৮ সালের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সীমানা পিলার


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ খুলনার পাইকগাছায় পাওয়া গেল ১৮১৮ সালের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সীমানা পিলার। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৬।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ১৪১নং মালথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- মালথ গ্রামের মৃত আব্বাস আলী সরদারের ছেলে সেলিম সরদার (৫০), একই গ্রামের শের আলী গাজীর ছেলে শামীম গাজী (৩৪) ও শ্যামনগর গ্রামের হোসেন গাজীর ছেলে হাবিবুর গাজী (৪০)।

থানাসূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে র‌্যাব-৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ১৪১নং মালথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে স্কুলের পাশে বটগাছের কাছে পানির মধ্যে থেকে সীমানা পিলারটি উদ্ধার করা হয়। পিলারের গায়ে লেখা আছে- ১৮১৮ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

01 February 2019

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গণধর্ষণের দায় স্বীকার তিন বন্ধুর

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গণধর্ষণের দায় স্বীকার তিন বন্ধুর


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ খুলনায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে (১৬) গণধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে বিচারক আমিরুল ইসলামের আদালতে দোষ স্বীকার করে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আসামিরা হলেন- নগরীর খানজাহান আলী থানার আটরা এলাকার মৃত আমজাদ শিকদারের ছেলে মো. সাগর আলী (২৬), মসিয়ালী এলাকার মৃত রেনু মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল (৩০) ও মসিয়ালী ১ নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত টোকন আলীর ছেলে মো. শফিক (২৬)।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (আরসিডি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে খানজাহান আলী থানা পুলিশ ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে দুপুরে থানায় হাজির করে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৮) জানুয়ারি তিন বন্ধু সাগর, বিল্লাল ও শফিক ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কৌশলে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে তার ভাবির বাড়ি ফুলতলা উপজেলার দামোদরে নিয়ে যায়। সেখানে দুপুরের খাবারের পর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে সন্ধ্যার দিকে আলিম সিটি গেটস্থ আটরা রেললাইন কলাবাগান এলাকার পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে তারা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ২৮ জানুয়ারি খানজাহান আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার তিনজনকে আসামি করা হয়।

25 January 2019

খুলনায় ভিক্ষা করার সময় হঠাৎ গুলিবিদ্ধ নারী

খুলনায় ভিক্ষা করার সময় হঠাৎ গুলিবিদ্ধ নারী


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ খুলনার ফুলবাড়ি এলাকায় মসজিদের সামনে হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক নারী। সেখানকার পুলিশ লাইনের পাশের একটি মসজিদের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।

কিন্তু তাকে গুলি করলো কে বা এ গুলি এলো কোথা থেকে?

গুলিবিদ্ধ নারীর নাম মমতাজ বেগম, যদিও তিনি এখনো জানেন না যে, কে তাকে গুলি করেছে বা তার শরীরে কিভাবে কোন দিক থেকে এসে এটি বিদ্ধ হলো।

তার ছেলে শেখ জুয়েল হোসেনের দাবি পুলিশ লাইনের পাশে মসজিদের কাছে একটি হোটেলে নাস্তা করে বের হবার সময় তার মা গুলিবিদ্ধ হন।

তবে খান জাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ওই নারী মসজিদের সামনে ভিক্ষা করছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানিয়েছেন যে, গুলিটি পুলিশ লাইনের দিক থেকে আসে। এরপর ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ৪৮ বছর বয়সী ওই নারী। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

ঘটনা ৩০ নভেম্বর
মমতাজ বেগমের ছেলে শেখ জুয়েল হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, যশোর হাইওয়ে রোড সংলগ্ন (আরআরএফ) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার এলাকায় মসজিদের কাছে হোটেলে নাস্তা করছিলেন তার মা মমতাজ বেগম।

‘নাস্তা করে হোটেল থেকে বের হবার সময় হঠাৎ তিনি পড়ে যান ও বুকে রক্ত দেখা যায়। পরে লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান যে তার বুকে গুলি লেগেছে।’

ডাক্তারদের বরাত দিয়ে জুয়েল বলেন, বুলেটটি পেটের বাম পাশে এবং সেটি অপারেশন করে সরাতে হবে। কিন্তু এখনো সেটি করা হয়নি।

এরইমধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেয়া হয়েছে।

ঘটনার দিন ঢাকায় চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছিলেন জুয়েল। কিন্তু সেটি অসমাপ্ত রেখেই বাড়িতে ফিরতে হয় তাকে।

ঘটনার পর হাসপাতালে মমতাজ বেগমকে দেখতে যান খুলনার খান জাহান আলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন। সেসময় তাকে পর্যাপ্ত সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরে সেটি তারা পুলিশের কাছ থেকে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন শেখ জুয়েল।

পুলিশ কী বলছে?
খান জাহান আলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ওই নারী মসজিদের সামনে ভিক্ষার জন্য আরও ভিক্ষুকের সাথে অবস্থান করছিলো।

‘নামাজ শেষে ভিক্ষা পাওয়ার আশায় সেখানে বসেছিলেন তিনি। হঠাৎ বুকে ব্যথা পেয়ে পড়ে গেলে অন্য ভিক্ষুকসহ স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নেন। এরপর জানা যায় যে তার শরীরে গুলি লেগেছে।’

মি. ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে গিয়েছেন এবং ওই নারীর সাথে কথা বলেছেন।

‘চিকিৎসকরা বলছেন গুলিটি না বের করলেও সমস্যা হবে না। কারণ সেটি পেটে ঢোকেনি। তার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে আমরা তাদের বলেছি যে গুলি বের করতে। তবে এজন্য যেই মেশিন দরকার সেটি নষ্ট থাকায় তারা সেটি পারছে না। মেশিনটি ঠিক হলেই আবার তাকে হাসপাতালে এনে গুলি বের করা হবে।’

গুলিটি এলো কোথা থেকে?
পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলছেন, গুলি এসেছে কোথা থেকে তা তারাও এখনো নিশ্চিত নন।

‘তবে পাশেই পুলিশ লাইনে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ফায়ারিং চলছিলো। সেখান থেকে এসেছে কি-না সেটি তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে।’

যদিও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তানিম হাসান বলছেন, পুলিশ লাইনের দিক থেকেই এসেছিলো গুলিটি।

তার মতে, সে কারণেই পরে পুলিশ কর্মকর্তারা অনেকেই হাসপাতালে গেছেন ও ওই নারীর সাথে কথাও বলেছেন।
সরকারি অফিসের পিয়ন চার হাজার কোটি টাকার মালিক!

সরকারি অফিসের পিয়ন চার হাজার কোটি টাকার মালিক!

ছবিঃ সংগৃহীত
স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ কর্মজীবনে ছিলেন জেলা প্রশাসক অফিসের পিয়ন। যা বেতন পেতেন তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালানোই ছিল কঠিন। কিন্তু হঠাৎ করে সেই পিয়নই চার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আর এসব অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দল। তিনি হলেন বাগেরহাট ডিসি (জেলা প্রশাসক) অফিসের সাবেক পিয়ন (এমএলএসএস) আবদুল মান্নান তালুকদার।

তার দুর্নীতি আর প্রতারণার বিষয়ে তদন্ত শুরু হলে পরিবারসহ দীর্ঘদিন গাঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে বাগেরহাটের ব্যবসায়িক অফিসে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর পর আবদুল মান্নান তালুকদার পরিবারসহ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

জানা যায় যে, ভুঁইফোঁড় রিয়েল এস্টেট ও ঋণদান সমিতি খুলে এসব টাকা কামিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষকে দ্বিগুণ মুনাফার লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়েছেন তিনি। ঋণ দেওয়ার কথা বলে নিজে ও নিজের পরিবারের সদস্যদের নামেও কিনেছেন জমি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্ত প্রতিবেদন এসব তথ্য উঠে এসেছে। এরপরই দুর্নীতি দমন কশিনও আব্দুল মান্নানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আবদুল মান্নান তালুকদার মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল। এরমধ্যে আবদুল মান্নান নিজের নামে শুধু জমিই কিনেছেন ১৪৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার। এছাড়া ৬৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তার মালিকানাধীন ছয়টি প্রতিষ্ঠানে। প্রায় ২ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে এই পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে খুলনা, নড়াইল, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ লোকদের কাছ থেকে এই আমানত সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট নামে একটি কোম্পানি খোলেন আব্দুল মান্নান। তার এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার গ্রাহক বিনিয়োগ করেন। তার প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষ ও গ্রাহকদেরকে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখাতো। একইসাথে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষকে আকৃষ্ট করতে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক পরিচালিত ব্যাংকিংয়ের মতো লভ্যাংশ দেওয়ারও প্রস্তাব দিত।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, চার বছরে অর্থ দ্বিগুণ হবে বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর দ্বিগুণ লাভের লোভে পড়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলেও তার প্রতিষ্ঠানে রাখেন অনেকে।

এছাড়া পিয়ন আবদুল মান্নানের মালিকানাধীন নিউ বসুন্ধরা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ দুইটিসহ মান্নানের মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও নতুন করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগের উদ্যোগে শিগগিরই এ তদন্ত শুরু হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের খুলনা অফিস তদন্ত করেছে। এরপরই প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবদুল মান্নান তালুকদারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে এখন আরও গভীর অনুসন্ধান চলছে।

জানা গেছে, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত শাখার সাবেক উমেদার (এমএলএসএস) আবদুল মান্নান তালুকদার দীর্ঘ ২৬ বছর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পিয়ন) ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে যান। এরপর থেকেই তার এ ব্যবসার মাধ্যমে তিনি কোটিপতি বনে যান। তার অর্থের পরিমাণ দেখে তদন্ত কর্মকর্তারাও ভড়কে যান।

19 January 2019

কুমিল্লায় দুই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫

কুমিল্লায় দুই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫


নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় দু্জন ও গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে তিনজন নিহত হন। এদিন ভোরে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি বাস অজ্ঞাত একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেলে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহতরা হলেন, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার কাজিকান্দার গ্রামের ইদ্রিস শেখের ছেলে হেলপার মনোয়ার হোসেন (২৪), কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানার লালবাগ গ্রামের কায়কোবাদের ছেলে সুভারভাইজার ফয়সাল (৩০) অপরদিকে দুপুর ২টার দিকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হিনো পরিবহনের চট্টগ্রামগামী একটি বাস পানিতে পড়ে তিনজন নিহত হন।

আহত যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গামী হিনো পরিবহনের একটি বাস ক্রুটি নিয়ে চালাচ্ছিলেন চালক। বাসটি দাউদকান্দি আসার পর এক পথচারীকে চাপা দিয়ে পাশের খাদে পড়ে পানিতে অধিকাংশ ডুবে যায়। এ সময় নুরন্নাহার (৩০) নামে এক নারী পথচারী মারা যান। এ ছাড়া বাসে থাকা অজ্ঞাত দুই যাত্রী ডুবে মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দাউদকান্দি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ নিহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

13 January 2019

সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে র‌্যাব কর্মকর্তা মঞ্জুরুল কবিরের স্ত্রী

সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে র‌্যাব কর্মকর্তা মঞ্জুরুল কবিরের স্ত্রী


খুলনা প্রতিনিধিঃ সংরক্ষিত মহিলা আসন সাতক্ষীরা (৩১২) থেকে সংসদ সদস্যের মনোনয়নের জন্য নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন সাতক্ষীরার সাবেক পুলিশ সুপার ও বর্তমানে র‌্যাব ৪-এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের স্ত্রী চৌধুরী নুরজাহার মঞ্জুর।

সাতক্ষীরার সাবেক এই পুলিশ সুপারের স্ত্রীর প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকানসহ রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা।

শনিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোড মোড়ের এক চায়ের দোকানে চা পান করতে আসা মানুষজনকে আলোচনা করতে দেখা যায় মহিলা আসনের এই প্রার্থীকে নিয়ে।

সেখানে সুনিল কুমার নামের একজন বলেন, ২০১৩ সালে যখন তীব্র আন্দোলনে মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পেতো তখন পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল কবিরের কারণে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পেরেছেন। তার স্ত্রী বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষদের সঙ্গে মিশে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সাতক্ষীরার সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

নিজের অবস্থান তুলে ধরে র‌্যাব কর্মকর্তার স্ত্রী চৌধুরী নুরজাহান মঞ্জুর বলেন, সংরক্ষিত আসনে আমাকে মনোনয়ন দিলে সাতক্ষীরার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করব। নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত, রাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমি সবার উন্নয়নে কাজ করব।

তিনি আরও বলেন, স্বামীর ১৮ বছরের পুলিশের চাকরি জীবনে সবসময় বিভিন্ন স্থানে থাকতে হয়েছে। আমি সাতক্ষীরার ভোটার। দুই সন্তানের স্কুলজীবন সাতক্ষীরাতেই। সাতক্ষীরার মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছি আমি। সেজন্য সাতক্ষীরার মানুষের সঙ্গে বাকি জীবন কাটাতে চাই।

12 January 2019

ধারণক্ষমতার তিনগুণ বন্দি, টয়লেট গোসল ও ঘুমানোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংকট

ধারণক্ষমতার তিনগুণ বন্দি, টয়লেট গোসল ও ঘুমানোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংকট


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ খুলনা জেলা কারাগারে এখন ধারণক্ষমতার তিনগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছেন। তারা নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। টয়লেট, গোসল ও ঘুমানোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংকট।

এই শীতে কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাচ্ছেন তারা। জায়গার সংকটের কারণে পরিত্যক্ত (কিশোর) ওয়ার্ড ও কম্বলের গোডাউনে বন্দিদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা একাধিক আসামির ভাষ্য থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ডিসেম্বরে ৫ শতাধিক বন্দি কারাগারে প্রবেশ করে। এ কারণে কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি অনেক বেশি। কারাগারটির ধারণক্ষমতা ৬০৮ জন। বুধবার বিকাল পর্যন্ত কারাগারে ১৭১৩ জন পুরুষ ও ৬০ জন মহিলাসহ বন্দির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৭৩ জন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জানান, ডিসেম্বরে আটক হলেও তাদের জামিন হয়নি। তাদের নেতাকর্মী ও আত্মীয়স্বজন যারা বন্দি আছেন, এই শীতে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন। ধারণক্ষমতা থেকে বন্দি বেশি থাকায় পরিত্যক্ত (কিশোর) ওয়ার্ড, ৪ তলার কম্বলের গোডাউনে থাকার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া জেলা যুবদলের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানা তুহিন জানান, তিনি ভৈরব-২ ওয়ার্ডে থাকতেন। ওয়ার্ডটির ধারণক্ষমতা ৮৪ জনের হলেও তারা ১২৮ জন থাকতেন। ২ জন মিলে ১টি কম্বল ব্যবহার করতেন। টয়লেটের জন্য দীর্ঘ লাইন দিতে হয়। গোসল করতে পানির সমস্যা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথোপযোগী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি রূপসার ৪ তলা ওয়ার্ডটি সংস্কার করে ১শ’ জন এবং পরিত্যক্ত একটি গোডাউনে (কিশোর) ওয়ার্ডে ১শ’ জন বন্দির থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবার রয়েছে পর্যাপ্ত। পানিরও কোনো সমস্যা নেই। কম্বল পর্যাপ্ত রয়েছে।

খুলনা কারাগারের জেলার জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ‘বন্দিদের চাপ বেশি থাকলেও আমরা সেটি কাটিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। বন্দিদের খাবার, গোসল, টয়লেট, কম্বল ও থাকার সমস্যা সমাধানের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এমনকি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

আগে ১৬০ জন কর্মকর্তা থাকলেও বর্তমানে ২০৮ জন রয়েছেন। দাঙ্গা পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে।’ জানতে চাইলে খুলনার পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত কম্বল থাকলেও বন্দিরা সেটি নিতে চায় না।

তারা বাইরে থেকে কম্বল নিতে চায়। ১ জন বন্দির জন্য ৩টি কম্বল দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, কিশোর ওয়ার্ডটি অনেক পুরনো। তাই হয়তো সেটিকে বন্দিরা গোডাউন মনে করছে।