Showing posts with label ঢাকা বিভাগ. Show all posts
Showing posts with label ঢাকা বিভাগ. Show all posts

07 November 2019

ধানমণ্ডিতে জোড়া খুনের আসামি সুরভীসহ ৫ জন রিমান্ডে

ধানমণ্ডিতে জোড়া খুনের আসামি সুরভীসহ ৫ জন রিমান্ডে

ছবিঃ সংগৃহীত


স্টাফ রিপোর্টার
।।
 ধানমণ্ডিতে দুই নারীকে হত্যা মামলায় বাসায় নতুন কাজের মেয়ে সুরভী আক্তার নাহিদাসহ (২২) পাঁচ আসামির প্রত্যেকের পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া আসামিদের রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- বাসার ম্যানেজার মো. গাউসুল আযম প্রিন্স (৪২), সিকিউরিটি গার্ড মো. নুরুজ্জামান (৪২), রুবার স্বামীর বডিগার্ড বাচ্চু (৩৪) ও ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. বেলায়েত হোসেন (৩২)।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম এ আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি সুরভী আক্তার নাহিদা অপর আসামিদের যোগসাজশে জোড়া খুন ও লুণ্ঠনের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। এটি একটি চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মামলা। এ খুনের সঙ্গে আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এই জোড়া খুন ও লুণ্ঠন কার নির্দেশে হয়েছে? প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তারীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করাসহ মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত জরুরি।

রাষ্ট্রপক্ষে থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আশরাফ ও আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ আসামিদের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, একা কাজের মেয়ের পক্ষে জোড়া খুন করা সম্ভব নয়। এ খুনের নেপথ্যে আরও অনেকেই জড়িত আছেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

অপরদিকে আসামি প্রিন্স ও নুরুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী রিয়াজ মাহমুদ ও মো. রেজাউল করিম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করেন।

শুনানিতে তারা আসামিদের নির্দোষ দাবি করেন এবং শত্রুতাবশত তাদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এরপর আদালত আসামিদের কাছে তাদের নাম ও কী করেন- তা জানতে চান। সব আসামিরা- তারা কী কাজ করেন তা আদালতকে জানান। এ সময় সুরভী শুধু নামই বলেন। আদালতে কিছু বলার আছে কিনা- তা জানতে চাইলেও তিনি (সুরভী) জবাব দেননি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর নিহত আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা (৪২) বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ধানমণ্ডি-২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাসার ই-৫ নম্বর ফ্ল্যাটে স্বামী-সন্তানসহ রুবা বাস করেন। রুবার বৃদ্ধ মা আফরোজা বেগম (৬০) তার কাজের মেয়ে দিতিকে (১৮) নিয়ে একই বাসার ফ্ল্যাট নম্বর ডি-৪ এ স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।

গত ১ নভেম্বর বাসার পুরনো কাজের লোক মো. আতিকুল হক বাচ্চু একজন নতুন কাজের মেয়েকে (সুরভী আক্তার নাহিদা) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রুবার বাসায় নিয়ে আসে। নতুন কাজের মেয়েটিকে বাচ্চুর সঙ্গে রুবা তার মায়ের ফ্ল্যাটে পাঠিয়ে দেন।

এরপর বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে রুবার মা আফরোজা বেগম পুরনো কাজের মেয়ে দিতিকে নিয়ে রুবার পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে চতুর্থ তলায় তার ফ্ল্যাটে চলে যান।

ওই দিনই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রুবা তার মাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এজন্য রুবার বাসার কাজের ছেলে মো. রিয়াজকে তার মায়ের ফ্ল্যাটে পাঠান। রিয়াজ রুবার মায়ের ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিং বেল ও ডাকাডাকি করলে কেউ জবাব দেননি। রিয়াজ দরজায় ধাক্কা দিয়ে দেখে দরজা খোলা এবং রুবার মা আফরোজা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। রিয়াজ তাৎক্ষণিক এ ঘটনা রুবাকে জানান। রুবা তার মায়ের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখতে পান ডাইনিং রুমে তার মায়ের (আফরোজা বেগম) ও গেস্ট রুমে কাজের মেয়ে দিতির রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। তখন ওই বাসায় বাচ্চু ও নতুন কাজের মেয়েকে পাওয়া যায়নি। রুবার মায়ের রুমে রক্ষিত আলমারির তালা খোলা ও মালামাল ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় মেঝেতে পড়েছিল।

বাসার সিকিউরিটি গার্ড নুরুজ্জামান জানান, নতুন কাজের মেয়েটি সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে গেট দিয়ে বাইরে চলে গেছে। রুবার ধারণা, বাচ্চু ও নতুন কাজের মেয়ে অজ্ঞাত সহযোগীদের সহায়তায় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তার মা ও কাজের মেয়ে দিতিকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে এবং গলা কেটে হত্যা করে। পরবর্তীতে তারা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ পালিয়ে যায়। বাচ্চু, নতুন কাজের মেয়ে, কেয়ারটেকার বেলাল প্রিন্সসহ বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা এতে জড়িত থাকতে পারে বলে রুবা এজাহারে উল্লেখ করেন।

06 November 2019

চাকরির প্রলোভনে পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ, আটক ২

চাকরির প্রলোভনে পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ, আটক ২



স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানী ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিক নারীকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে ২ ধর্ষককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হল, ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার বড় রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মাইন উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান (৩০), ধামরাই থানার কামারপাড়া গ্রামের বদর উদ্দিনে ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩০)।

গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার ধারাবাড়ীসাহা নয়াবাজার গ্রামের ইউসুফ আলী তার স্ত্রীকে নিয়ে আশুলিয়া বড় রাঙ্গামাটি এলাকার সাগরের বাড়ীতে ভাড়া থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্ত্রী গত ৫ মাস ধরে বেকার থাকায় বিভিন্ন কারখানায় চাকরি খোঁজছিলেন।

গত ৫ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সোহেল (৩০) নামের একজন তাকে ডেকে মাইন উদ্দিনের বাড়ীর একটি কক্ষে নিয়ে যায়। ওই কক্ষে বাড়ীর মালিকের ছেলে মিজান, দেলোয়ার ও আ: রাজ্জাকসহ তিন জন আগে থেকেই অবস্থান করছিল। মিজানের কক্ষে প্রবেশ করার পরই দরজার বাহির থেকে আটকে দিয়ে সোহেল চলে যায়। এরপর রাজ্জাক তার মুখ চেপে ধরে রেখে পালাক্রমে মিজান ও দেলায়ার তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।

ধর্ষকরা দুপুরের পর ধর্ষণের ঘটনা অন্য কাউকে জানালে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ওই নারীকে ছেড়ে দেয়। এরপর তার স্বামী ও আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়টি অবহিত করে একদিন পর আশুলিয়া থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, ভুক্তভোগী পোশাক শ্রমিক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪ আসামীর মধ্যে ১ ও ২নং আসামীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আরও ২ জন জড়িত রয়েছে। তারা একই মামলার এজাহারনামীয় আসামী।

তিনি আরও জানান, এজাহার নামীয় অন্যান্য আসামীদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃতদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময় চেয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

03 November 2019

চলন্ত বাসে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টায় ২ পরিবহন শ্রমিক গ্রেফতার

চলন্ত বাসে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টায় ২ পরিবহন শ্রমিক গ্রেফতার



স্টাফ রিপোর্টার।। গাজীপুরে চলন্ত বাসে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে। এসময় পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে যায়। পরে ওই কিশোরী গাজীপুর সিটি সার্ভিস চ্যাম্পিয়ন পরিবহন বাসের চালক ও দুই সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িয়া থানার আমড়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে জুয়েল (২৮) ও নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার চন্দনকান্দি গ্রামের আলতু মিয়ার ছেলে আশিক (২২)। এরা উভয়ে গাজীপুর সিটি সার্ভিস চ্যাম্পিয়ন পরিবহন বাসের চালকের সহকারী। ওই ঘটনার পর চালক হারুন মিয়া পালিয়ে গেলেও পুলিশ চ্যাম্পিয়ন পরিবহনের বাস (ঢাকামেট্রো-জ-১৪-০৪৯৩) জব্দ করেছে।

কিশোরীর বরাত দিয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, কিশোরীটি ঢাকার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে বিনোদনমূলক শর্টফিল্ম ও ছোট নাটিকাসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত। গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর থেকে মাওনা পর্যন্ত চলাচলকারী গাজীপুর সিটি সার্ভিস চ্যাম্পিয়ন পরিবহনের একটি লোকাল বাসে উঠে। কিছুদূর আসার পর বাসে নিয়োজিত পরিবহন শ্রমিকরা অন্যান্য যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেয়। এসময় পরিবহনের চালক জানায় তাদের সমস্যা থাকলেও কিশোরী যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিবেন। পরে বাস নিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই কিশোরী যাত্রীকে গন্তব্যে না নামিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সেতুর উপর বাসের ভেতর কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। তবে কিশোরীটি আত্মরক্ষার্থে পা দিয়ে বাসের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে এবং চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। স্থানীয় পথচারীরা এ ঘটনা দেখতে পেয়ে মাওনা হাইওয়ে পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় ওই দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করে। তবে ঘটনার সময় গাড়ির চালক পালিয়ে যায়। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিতা কিশোরী বাদী হয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে থানায় রাতেই মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করা গেলেও চালক পালিয়ে যায়। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে।

01 November 2019

থানা থেকে মাত্র কয়েক গজ ব্যবধান, তবুও গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুর্ধর্ষ চুরি

থানা থেকে মাত্র কয়েক গজ ব্যবধান, তবুও গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুর্ধর্ষ চুরি


ছবিঃ সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার।। গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা মসজিদের প্রতিটি তলার কয়েকটি গেইটের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি টিভি) সিডিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও মালামাল নিয়ে গেছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং জিএমপির সদর থানা থেকে মাত্র কয়েক গজ ব্যবধানে এ মসজিদে চুরির ঘটনায় মুসল্লিসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর এলাকায় ছিনতাই ও চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানান, গাজীপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুর বাজার এলাকায় দোতলা বিশিষ্ট এ মসজিদে গত বুধবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা হানা দেয়। তারা মসজিদের উত্তরের ও ভেতরের কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে প্রতিটি তলাতেই প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা মসজিদের অফিস রুমে রাখা মসজিদের সিসি টিভির ডিভিআর ভেঙে হার্ডডিস্ক ও সিডি এবং মাইকের অ্যামপ্লিফায়ারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিয়ে যায়।

এ ছাড়া নিচতলায় মেহরাবে থাকা অটোবির একটি আলমারিসহ দ্বিতীয় তলার কয়েকটি আলমারি ভেঙে  মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় এবং কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল তছনছ করে। ফজরের নামাজের সময় খাদেম আমীর হামজা মসজিদে এসে চুরির ঘটনা দেখতে পেয়ে খতিব ও মোয়াজ্জিনসহ অন্যদের জানান।

মুসল্লিসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, গাজীপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুর বাজার এলাকার এ মসজিদের মাত্র কয়েক গজের ব্যবধানে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং জিএমপির সদর থানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মসজিদ ও বাজার কমিটির পৃথক উদ্যোগে ওই এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে পুলিশের একাধিক টহল টিম। এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে গাজীপুর কেন্দ্রীয় মসজিদে চুরির ঘটনায় মুসল্লিসহ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। তারা এ ব্যাপারে মসজিদ কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

জিএমপির সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এ ব্যাপারে জানান, কেন্দ্রীয় মসজিদে চুরির ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে মৌখিকভাবে চুরির সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শিগগিরই গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

30 October 2019

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার



স্টাফ রিপোর্টার
।।
 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন​ হল থেকে ১০টি রামদা, ২টি বড় ছুরি ও বেশ কিছু লোহার পাইপসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

হলের পিছন থেকে আজ বুধবার সকালে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

রাতে আকস্মিক হলে তল্লাশি চালায় হল প্রশাসন। ওই সময়ে অপ্রীতিকর কিছু পাননি তারা। পরবর্তীতে সকালে হলের কর্মচারীরা পেছনের অংশ পরিচ্ছন্ন করতে গেলে সেখানে এসব অস্ত্র পায় তারা। পরবর্তীতে হল প্রাধ্যক্ষকে জানানো হলে তিনি এসব সরঞ্জাম জব্দ করেন।

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক বলেন, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় হলগুলো অছাত্রদের দখলে যাচ্ছে। এসব অছাত্ররা হলগুলোতে অস্ত্র ও মাদকের আখড়া তৈরি করছে। এভাবে হলের অনেকগুলো রুমে মাদকের নিরাপদ আখড়াও গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, প্রশাসন যদি বিশেষ রুমে অভিযান চালায় তাহলে অবৈধ কাজের শেষ হবেনা। তাঁদের উচিত হলের সবগুলো রুমে তল্লাশি করা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে বলে জানান তিনি।

23 August 2019

সোনারগাঁয়ে মসজিদে ঢুকে ইমামকে জবাই করে হত্যা

সোনারগাঁয়ে মসজিদে ঢুকে ইমামকে জবাই করে হত্যা


মুহম্মদ আক্তার হোসেন।। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজোলায় মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকেরপাড়া এলাকায় মসজিদে ঢুকে ইমামকে জবাই করে হত্যা ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মসজিদের একপাশে থাকা ঈমামের শয়ন কক্ষ থেকে দিদারুল ইসলাম (২৬) নামে এক ইমামের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। নিহত দিদারুল ইসলাম খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলায় রাজাপুর গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিন ফরাজির ছেলে।

গতকাল (২২ই আগষ্ট) বৃহস্পতিবার ভোরে মল্লিকেরপাড়া এলাকায় জামে মসজিদের বারান্দার সাথে থাকা একটি ঘর থেকে ওই ইমামের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ হারুনুর রশিদ, পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) মুহম্মদ খোরশেদ আলম সহ সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ মনিরুজ্জামান, ওসি তদন্ত হেলাল উদ্দিন ও ওসি অপারেশন জনাব আলমগির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

শহিদউল্লাহ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, ভোরে ফজরের আজান দেয়া না হলেও এলাকার মুসল্লিরা মসজিদে নিয়মমাফিক নামাজ পড়তে যান। এ সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেব কে না পেয়ে, খোঁজ নিতে উনার হুজরার দিকে গেলে সেখানে ইমামের গলাকাটা মৃতদেহ বারান্দায় ঘরের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন এলাকাবাসী মুসল্লিরা।

মসজিদ কমিটির সহ সভাপতি মুহম্মদ আলী আকবর জানান, ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার মসজিদে কাজে যোগ দেয়ার একদিন পরেই এ ঘটনা ঘটল। গত মাসের ২৬ জুলাই এই মসজিদে ইমাম হিসেবে দিদারুল ইসলাম যোগদান করেছিলেন।

সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে ওই ইমামের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

22 August 2019

শ্রমিক লীগের নেত্রী জামায়াতে ইসলামের আমিরের নাতনি হওয়ায় সমালোচনার ঝড়

শ্রমিক লীগের নেত্রী জামায়াতে ইসলামের আমিরের নাতনি হওয়ায় সমালোচনার ঝড়


মুহম্মদ শাহাদাত হোসেন।। নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হাসিনা রহমান সিমুকে নিয়ে সর্বমহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সিমু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও তার নানা বন্দর থানা জামায়াতের আমির।

ফলে সিমুকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক আলোচনা চলছে। রাজনীতির পাশাপাশি একাধিক সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত সিমু। প্রতিষ্ঠা করেছেন অটিজম শিশুদের জন্য একটি স্কুল। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সিমু আনন্দধাম বৃদ্ধাশ্রম’। হঠাৎ করে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আলোচনা আসেন সিমু। জামায়াত আমিরের নাতি হওয়ায় তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে তার বৃদ্ধাশ্রমের নামে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অনুসন্ধানে হাসিনা রহমান সিমু সম্পর্কে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও সিমুন নানা জামায়াত নেতা। তার নানা জাফর সাদেক ভূইয়া ছিলেন বন্দর থানা জামায়াতের আমির। নানার পরিচয় গোপন রেখে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন সিমু। বর্তমানে জেলা শ্রমিক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন তিনি।

বছর খানেক আগে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যুদ্ধাপরাধী কিংবা জামায়াতের ইসলামীর কেউ যেন তাদের দলে যোগ দিতে না পারে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কোনো নেতার পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগের যোগদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার এসব সুবিধাবাদীর সম্পর্কে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-জামায়াত থেকে কাউকে দলে নিতে নিষেধও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান বন্দরের কদম রসূল এলাকার জাফর সাদেক ভূইয়া। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার বাড়িতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়মিত বৈঠক হতো।

এদিকে, জামায়াত নেতার নাতনি হয়েও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন হাসিনা রহমান সিমু। জেলা শ্রমিক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তারা সপরিবারে থাকেন নানার বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাজিক সংগঠন আনন্দধামের নির্বাহী চেয়ারম্যান হাসিনা রহমান সিমু। হাসিনা অটিজম চাইল্ড কেয়ার নামে একটি স্কুল চালান তিনি। মূলত সমাজসেবী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তার পরিচয়। আওয়ামী লীগের জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে সখ্যতার কারণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকেন তিনি। গত রমজানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার পার্টিতেও দেখা গেছে তাকে।

চার বছর আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন সিমু। কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের হাত ধরে শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। গত বছরের ১৫ জানুয়ারি জেলা শ্রমিক লীগের নতুন কমিটিতে মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। এই কমিটির সভাপতি কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন আহমেদ বাবুল।

জাফর সাদেক ভূইয়া জামায়াত নেতা ছিলেন বিষয়টি স্বীকার করে জেলা ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ বলেন, জাফর সাদেক জামায়াত নেতা ছিলেন এটা সঠিক। আমি যদি মুক্তিযোদ্ধা হই কিন্তু আমার বাপ যদি রাজাকার হয় সেক্ষেত্রে তো তুলনা দিলে চলবে না।

নানা জামায়াতের নেতা ছিলেন বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি হাসিনা রহমান সিমু।

19 August 2019

ঢাকার দুই সিটিতে আওয়ামীলীগ এবার দেশপ্রেমিক প্রার্থী খুঁজছে

ঢাকার দুই সিটিতে আওয়ামীলীগ এবার দেশপ্রেমিক প্রার্থী খুঁজছে



রেজাউল করিম প্লাবন।। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলটির শীর্ষ কয়েক নেতা প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠ জরিপ শুরু করেছেন। দলের জন্য নিবেদিত, নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ও জনপ্রিয়- এমন নেতা খুঁজছেন তারা।

সূত্র মতে, ওয়ার্ড জরিপে বর্তমান কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। সে হিসেবে আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনেক কাউন্সিলর বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মেয়র পদেও খোঁজা হচ্ছে অধিকতর যোগ্য প্রার্থী।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই মেয়র ওই বছর ৬ মে শপথ গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী আগামী বছরের মে মাসে মেয়াদ শেষ হবে মেয়রদের। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে ভোট করতে হবে।

সে হিসেবে আগামী বছরের জানুয়ারির দিকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান রোববার বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ের জরিপ শুরু করেছে। কে কোথায় জনপ্রিয়, দলের জন্য নিবেদিত, তা খতিয়ে দেখছি। দায়িত্ব পালনে যারা যোগ্য ও সবার থেকে এগিয়ে থাকবে তারাই মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাবে। কাউন্সিলরদের বিষয়েও জরিপ চলছে। তাদের দলীয় প্রতীক দেয়া হবে কিনা তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেক্ষেত্রেও আমরা জনপ্রিয় দলীয় নেতাকেই সমর্থন দেব।

তিনি বলেন, তবে কে মনোনয়ন পাবে আর কে বাদ যাবে তা এখনই বলা যাবে না। তবে আমরা বর্তমান মেয়র, কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং করছি। সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য দলীয় নেতা, যিনি দলকে জিতিয়ে আনতে পারবেন তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কয়েক মাস পর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। জোর করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচনে জিততে চান না। আমরা জনগণকে খুশি করে জনগণের রায় মেনে নির্বাচিত হতে চাই। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা কেউ যদি ভাবেন ক্ষমতায় আছি জিতেই যাব, তাহলে ভুল করবেন। আপনাকে জনগণের মন জয় করে, জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হতে হবে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী হতে হবে।

প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের গত চার বছর চার মাসে সফলতার হিসাব কষলে অনেকের পাস নম্বরও জুটবে না। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর অনেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্কটুকুও রাখেননি। ঢাকার যেসব ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে তার মূল কারণ কাউন্সিলরদের আধিপত্য। অনেক কাউন্সিলরের কাছে দলের স্থানীয় সিনিয়র নেতারা অবমূল্যায়িত ও অবহেলিত হয়েছেন। আমরা সেসব বিষয় মাথায় রেখে জরিপ করছি। সেসব ওয়ার্ডে নতুন প্রার্থীর সন্ধান করছি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বছরের শুরুতে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভোট করতে একটি প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। প্রস্তাবটি শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হতে পারে। ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ৪৭তম বৈঠকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে শতভাগ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েই আগেভাগে জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এরই মধ্যে বিএনপিও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী চূড়ান্তে কাজ করছে ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মতে, আগামী ২০২০-২০২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সে বছর ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। সরকার ও দলের হাইকমান্ড চায়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনে ঢাকার দুই সিটি ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত থাকুক।

এজন্য জানুয়ারি মাসকেই ভোটের জন্য উপযুক্ত সময় মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি, ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। মার্চে থাকবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ব্যাপক কর্মসূচি। আর মে মাস থেকে শুরু হবে রমজান।

রাজধানীবাসীর সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর প্রায় ৪ বছর পর দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই মেয়রপ্রার্থী আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে বিজয়ী হন ব্যবসায়ী নেতা মুহম্মদ আতিকুল ইসলাম। ৭ মার্চ শপথ নেন তিনি। তবে দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ একসঙ্গে আগামী বছরের মে মাসেই শেষ হবে।

15 August 2019

 আগুনে পুড়ছে লালবাগে পলিথিন কারখানা, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিট কাজ করছে

আগুনে পুড়ছে লালবাগে পলিথিন কারখানা, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিট কাজ করছে



স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় একটি পলিথিন কারখানায় আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার (১৪ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

আতাউর রহমান বলেন, ‘লালবাগ পোস্তা ওয়াটার অক্সফোর্ড রোড এলাকায় একটি পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির কারখানায় আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট।’ তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেননি তিনি। তবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ভবনটির আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে বলেও জানান তিনি। কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তাদের ধারণা, ঈদের বন্ধের কারণে হয়তো ভেতরে কেউ নেই।

08 August 2019

রোডে নিরবচ্ছিন্নভাবে হিন্দুদের পূজা করা গেলেও কুরবানির পশু ফুটপাতে পেলেই জরমিনাঃ ডিএনসিসি

রোডে নিরবচ্ছিন্নভাবে হিন্দুদের পূজা করা গেলেও কুরবানির পশু ফুটপাতে পেলেই জরমিনাঃ ডিএনসিসি

ছবিঃ রাস্তা বন্দ করে পূজা (বামে) রাস্থায় কুরাবানির পশু রাখায় জরমিনা।

নয়ন চ্যাটার্জি।। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন গতকাল এক বিজ্ঞাপ্তিতে বলেছেঃ- “ডিএনসিসির রাস্তা/ফুটপাত দখল করে কোরবানির পশু রাখবেন না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


আজকে এক ব্যক্তি ফুটপাথে গরু রাখায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে সিটি কর্পোরেশনের লোকেরা।



অথচ নিম্নোক্ত ছবিতে যেখানে দেখতে পাচ্ছেন, ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে, গেইটে দড়ি দিয়ে বেধে দূর্গা পূজা করছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এতে মানুষ যানজটে কষ্ট পাচ্ছে, মূর্তির নিচ দিয়ে মাথা নিচু করে মুসলমানদের যাতায়াত করতে হচ্ছে, কিন্তু তারপরও তারা সেখানে কোন আইনও দেখছে না, জরিমানাও করছে না, বিজ্ঞপ্তিও দিচ্ছে না। চোখ-মুখ পুরোপুরি বন্ধ করে আছে।

উল্লেখ্য ঈদের তিন চারদিন আগে, ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলোতে গরু কিনে বাড়ির সামনে গরু বেধে রাখার কালচার অনেক পুরাতন, এটা ঢাকাবাসীর ঐতিহ্য বলা চলে। কিন্তু সে কারণে কখনও যানবাহন চলাচল বা যাতায়াতে সমস্যা হয়েছে করে বলে কখনো শোনা যায়নি, কিন্তু হঠাৎ করে সেই ঐতিহ্যের প্রতি কেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের হঠাৎ চুলকানি উঠলো তা সন্দেহজন। গরূ কোরবানিতে হিন্দুত্ববাদি ভারতে সমস্যা হলেও কি কারনে হঠাৎ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সমস্যা শুরু হলো তা ঢাকা বাসীর বোধগম্য নয়।

পূজার সময় রাস্তা বন্ধ করে কিভাবে মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া হয় তার কিছু নমূনাচিত্রঃ
















আরো উল্লেখ্য, এমনিতেই সিটি কর্পোরেশনদের গাফেলতির কারণে দেশে ভয়ঙ্কর ডেঙ্গু ছড়িয়েছে, তারপর তাদের একেক বার একের রকম হাস্যরসপূর্ণ বক্তব্য প্রমাণ করেছে, তারা আসলে অযোগ্য। এই অযোগ্য লোকগুলো কাজের কাজ বাদ দিয়ে এখন নেমেছে মুসলমানদের কোরবানির পশুর পেছনে, ছিঃ ছিঃ ছিঃ।

তাই সিটি কর্পোরেশনের উচিতঃ- এ ধরনের বিবৃতি প্রত্যাহার করা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় অনুভূতির কথা খেয়াল রেখে মুসলমানদের সামনে ক্ষমা চাওয়া।

04 August 2019

হিন্দু জেল সুপারের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে কমেন্টস করায় মুসলিম কারারক্ষীর বিরুদ্ধে মামলা

হিন্দু জেল সুপারের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে কমেন্টস করায় মুসলিম কারারক্ষীর বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার। ফাইল ছবি
স্টাফ রিপোর্টার।। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের চাকরিচ্যুত কারারক্ষী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মামলা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঢাকা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপারকে নিয়ে সমালোচনা করে কমেন্টস করায় ডেপুটি জেলার আরিফুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

শনিবার মামলাটি দায়ের করা হলেও রোববার এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পৃথক দুটি অনুষ্ঠান হয়েছে। এ অনুষ্ঠান দুটির ছবি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা হয়। এতে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের চাকরিচ্যুত কারারক্ষী হাবিবুর রহমান সমালোচনা করে দুটি ছবির নিচে দুটি কমেন্টস করেছেন।

তিনি বলেন, কমেন্টস দুটির মধ্যে একটিতে ঢাকা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক টিপু সুলতানকে নিয়ে অপরটিতে জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষকে নিয়ে সমালোচনা করা হয়।

ওসি বলেন, এতে কারাগারের ভাবমূর্তী ক্ষুণ্ণ হয়েছে দাবি করে মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার আরিফুর রহমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। মামলাটি পুলিশের একজন এসআই তদন্ত করবেন।

চাকরিচ্যুত কারারক্ষী হাবিবুর রহমান মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার বাউশিয়া পোড়াচক গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে।
শূকরের চর্বি দিয়ে ভোজ্যতেল বানানোয় জরিমানা হিন্দু কেবিসি এগ্রো (প্রাঃ) লিমিটেডেকে

শূকরের চর্বি দিয়ে ভোজ্যতেল বানানোয় জরিমানা হিন্দু কেবিসি এগ্রো (প্রাঃ) লিমিটেডেকে


স্টাফ রিপোর্ট।। ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ভোজ্যতেল তৈরি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১১ কোটি টাকা মূল্যের ৩ হাজার মেট্রিকটন নিষিদ্ধ শুকরের গোশত, হাড়, চর্বি জব্দ করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (৩ আগস্ট) উপজেলার বাথুলি এলাকায় ভোজ্য তেল ও বিভিন্ন খাবার তৈরির কারখানা কেবিসি এগ্রো (প্রাঃ) লিমিটেডে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় কারখানাটিকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করে সিলগালা করা হয়। এছাড়াও কারখানায় থাকা প্রতিষ্ঠানটির তৈরিকৃত ”হেলথ্‌ কেয়ার সয়াবিন তেল” ও  ”হেলথ্‌ কেয়ার রাইস ব্র্যান অয়েল” নামের  পণ্যগুলোও জব্দ করা হয়।

র্যাবের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা এমদাদুল হক, ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ মুহম্মদ আলমগির।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ সারওয়ার আলম জানান, কেবিসি এগ্রো (প্রাঃ) লিমিটেড হেলথ কেয়ার নামের সয়াবিন তৈল তৈরি করার জন্যে ৯ মাস আগে হংকং থেকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ শুকরের চর্বি আমদানি করে। এছাড়াও একই উপকরণ ব্যবহার করে মাছ ও মুরগির খাদ্যও তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল তারা। খবর পেয়ে আমরা অভিযানে আসি এবং অভিযোগের সত্যতা খুজে পাই।

পরে কেবিসির মহাব্যবস্থাপক হিন্দু ধর্মাবলম্বী তাপস দেবনাথ থেকে ২লাখ ৯৮হাজার ২শত ৪০ মেট্রিক টন শুকরের চর্বি, মাংস ও হাড় আমদানির চালান ফরম জব্দ করা হয়।

সারওয়ার আলম আরও জানান, বাজার থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ সয়াবিন তৈল সংগ্রহ করে রিফাইন করে পুনরায় বাজারজাত করায় তাদেরকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

31 July 2019

ফার্নিচার ব্যবসা ছেড়ে এমবিবিএস ডাক্তার, কোথায় যাচ্ছে সমাজ?

ফার্নিচার ব্যবসা ছেড়ে এমবিবিএস ডাক্তার, কোথায় যাচ্ছে সমাজ?


হোসেন চিশতী সিপলু।। ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পাস করেছিলেন তিনি। কিন্তু ১২ বছর ধরে নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। মোস্তাক আহমেদ ওরফে এমএ করিম বশির (৪৩) নামের এই ভুয়া ব্যক্তি এমবিবিএস ডাক্তার সেজে স্থানীয় কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন। ফি নেন ২০০ টাকা।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ের হক সুপার মার্কেটের তিনতলায় নিউ মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে রোগী দেখার সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে মোস্তাক আহমেদ করিমকে গ্রেফতার করেন র‌্যাব-১১-এর সদস্যরা।

এ সময় তার চেম্বারে পাঁচ রোগী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দুজন ছিলেন পুরনো রোগী। ডাক্তারের দেয়া এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে এসেছেন এসব রোগী।

অভিযানের সময় তার চেম্বার থেকে ডা. মুহম্মদ মোস্তাক আহমেদ (করিম) এমবিবিএস (ডি-অর্থো), পিজিটি (ডি-অর্থো), পিজিটি (ইমনটি ও হৃদরোগ) চিফ মেডিকেল অফিসার, সিকদার গ্রুপ, হাড়জোড়া, বাত ব্যথা, মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) এমন অনেক ভিজিটিং কার্ড, প্রেসক্রিপশন এবং প্যাড উদ্ধার করা হয়।

পরে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতার মোস্তাক আহমেদ কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার সালেহাকান্দি এলাকার মৃত রহিম মণ্ডলের ছেলে। ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকেন তিনি।

র‌্যাব জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলের হাজি রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে একটি ভুয়া কারখানা গড়ে তুলে পানি ব্যবসা করতেন মোস্তাক। নলকূপের পানি বোতলে ভরে মিনারেল বলে বিক্রি করতেন তিনি। এর আগে ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। নামের সঙ্গে মিল থাকা সরকারি নিবন্ধনকৃত (২৬৬৩৩ নং) ডা. মুহম্মদ মোস্তাক আহমেদের কোড ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস (ডি-অর্থো), পিজিটি (ডি-অর্থো), পিজিটি (হৃদরোগ), চিফ মেডিকেল অফিসার, হাড়জোড়া, বাত ব্যথা ও মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দেন তিনি।

একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে প্যাড ছাপিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে ১২ বছর ধরে ডাক্তার সেজে রোগী দেখে আসছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারিতে নিশ্চিত হয়ে নিউ মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। পরে এইচএসসি পাস ভুয়া এমবিবিএস ডা. মোস্তাক আহমেদ করিমকে রোগী দেখার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার মুহম্মদ জসিম উদ্দীন চৌধুরী আরও বলেন, বিএমঅ্যান্ডডিসি কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখতে চাইলে নিজের নামের সঙ্গে মিল থাকায় ডা. মুহম্মদ মোস্তাক আহমেদের রেজিস্ট্রেশন দেখান করিম। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন নিবন্ধনকৃত ডা. মোস্তাক আহমেদ আর করিম এক ব্যক্তি নয়। নামের সঙ্গে মিল থাকায় ১২ বছর ধরে ভুয়া ডাক্তার সেজে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী দেখে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছেন করিম।
হাসপাতাল নাই কিন্তু ২৪ ডাক্তার মাসে মাসে বেতন নেয়ঃ শামীম ওসমান

হাসপাতাল নাই কিন্তু ২৪ ডাক্তার মাসে মাসে বেতন নেয়ঃ শামীম ওসমান

শামিম অসমান
স্টাফ রিপোর্টার।। ‘নারায়ণগঞ্জে দুইটা সরকারি হাসপাতাল আছে। একটা ফতুল্লায় আরেকটা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। এই দুই হাসপাতালের ওপর ২৪ জন ডাক্তার টাকা নেন। মাসে মাসে বেতন নেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, হাসপাতালই নাই। এ কথা আমি সংসদে তুলবো। তোমরাও আওয়াজ তুলো। শুধু ফেসবুক নিয়া থাইকো না, গার্লফ্রেন্ডের লগে থাইকো না। এই দেশ আমাদের। নীতি কথা আমরা সবাই বলি আবার খাবারের মধ্যে বিষ মিশাই।’

মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলায় ৭ ইউনিয়নে মশক নিধনে ফগার মেশিন ও ওষুধ বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন শামীম ওসমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক।

এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রতি প্রশ্ন রেখে শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনাদের যে ট্যাক্স দিই, ময়লাটা এখানে থাকে কেন? একটা জায়গা ছিলো ময়লা ফেলা হতো। আমরা ওখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পার্ক বানায়ে দিলাম। ভাবছিলাম সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলা বন্ধ হইবো। ওই ময়লার ওপর দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া শাহ্ নিজাম পার্ক করছে। ভাবলাম তারা সচেতন হবে, হইলো না।’

স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, ‘তোমরা যদি নিজেরা সচেতন না হও, তাহলে তোমার পরিবেশ পরিস্কার হবে কীভাবে? তোমরাই তো কিছুদিন আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিলে। এখনও নামো। মশা নিধনের উদ্দেশ্যে নামো। সিটি করপোরেশন ময়লা পরিস্কার না করলে তুমি করো। মানুষের ঘরে ঘরে যাও। যেয়ে বলো, দেখো কীভাবে পরিস্কার করতে হয় ‘

এ সময় সদর উপজেলা পরিষদের ইউএনওর প্রতি নির্দেশ দিয়ে সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি আপনাকে বলবো, কাগজ কলম নিয়ে মাঠে নামেন। যারা যারা এই খানে ময়লা ফেলে তাদের নাম লিখেন, কেইস করা শুরু করেন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফউল্লাহ বাদল, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, ফতুল্লা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী প্রমূখ।